প্রেগনেন্সির সময়ে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

না আমরা বলছি না যে আপনার প্রেগনেন্সির নয় মাসে আপনার মাইক্রোওয়েভটি প্যাকেট করে রেখে দিন এবং প্রচলিত গ্যাসের চুলার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ুন। কিন্তু আপনার গর্ভজাত সন্তানের যাতে কোন ক্ষতি না হয় এবং আপনি নিজেও যেন অসুস্থ হয়ে না পড়েন সেজন্য সতর্ক থাকার প্রয়োজন আছে। মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন ব্যবহার করে তাপ উৎপন্ন করা হয়।

মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ম্যাগনেটিক টিউবটি ৬০ হার্টজ বিদ্যুৎপ্রবাহকে ২৪৫০ মেগাহার্টজ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনে পরিবর্তিত করে। এটি খুব সহজেই ওভেনে ওয়েভ গাইডের মাধ্যমে ছড়ায় এবং ওভেনের প্রতিটা ছিদ্রের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পরে।

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায় যে, আল্ট্রাসাউন্ড, মাইক্রোওয়েভ ও এক্সরে থেকে নির্গত রশ্মি গর্ভের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুনের উপর প্রভাব ফেলে এবং এর ফলে বিকৃতির সৃষ্টি হতে পারে। এই ধরণের ঝুঁকি তখনই বৃদ্ধি পায় যখন গর্ভবতী নারী নিয়মিত অতিবেগুনী রশ্মির সংস্পর্শে থাকে। একারণেই আপনার ঘরের মাইক্রোওয়েভটি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের ক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীর যা জানা প্রয়োজন-

১। আপনার মাইক্রোওয়েভটি যদি খুব বেশি পুরোনো হয়ে থাকে তাহলে এর পরিবর্তে নতুন একটি নিয়ে আসুন এবং ম্যানুয়াল থেকে রেডিয়েশনের মাত্রা চেক করে নিন।

২। যদি আপনার পুরনো হয়ে যাওয়া মাইক্রোওয়েভটি পরিবর্তন করতে না চান তাহলে এটির মধ্যে কোন লিকেজ আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন। যদি আপনার মাইক্রোওয়েভের দরজাটি ঢিলা হয়ে যায় তাহলে এর ফাঁকের মধ্য দিয়ে চৌম্বক তরঙ্গ নির্গত হতে পারে যা বিপদজনক। এটি পরীক্ষা করার জন্য মাইক্রোওয়েভটি ব্যবহার করা অবস্থায় এর দরজার পাশে আপনার হাতটি রাখুন। যদি হাতে বাতাসের স্পর্শ পান তাহলে আপনার মাইক্রোওয়েভের দরজাটি মেরামত করে নিন।

৩। গর্ভাবস্থায় মাইইক্রোওয়েভ ব্যবহারের সময় এর কাছাকাছি আড়াআড়ি দাঁড়াবেন না।

৪। মাইক্রোওয়েভে অনেক বেশি তাপে তরল খাবার প্রস্তুত করবেন না।

৪। যদি আপনার মাইক্রোওয়েভে কোন লিক বা ফুটো থাকে এবং মেরামত করা সম্ভব না হয় তাহলে এটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

প্রেগন্যান্ট ইঁদুরদের নিয়ে করা এক গবেষণায় মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশনের ফলে কিছু বেদনাদায়ক তথ্য পাওয়া গেছে। এই গবেষণায় দাবী করা হয় যে, প্রেগন্যান্ট ইঁদুরদের ৩০ মিনিট মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশনের সংস্পর্শে রাখার ফলে গর্ভের শিশুর মস্তিষ্ক ফোলা বা এডিমা হয় এবং রক্তনালী সংকুচিত হয়। এই রেডিয়েশনের ফলে কোষ ধ্বংস হয়, ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, বন্ধাত্ত সৃষ্টি হয় এবং এমনকি মিসক্যারেজ ও হতে পারে। যদিও তেমন শক্তিশালী কোন গবেষণা হয়নি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে। তারপর ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারে সতর্ক থাকার কথা বলেন বিশেষ কয়ে গর্ভবতী নারীদের।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top