গর্ভাবস্থায় অবশ্যই করণীয় গুরুত্বপূর্ণ ১০ টি কাজ

গর্ভধারণ প্রতিটি নারীর জন্যই অত্যন্ত সুখকর একটি সময়। শুধু একজন মা’ই নয় পুরো পরিবারে খুশির চমক দেখা যায় অনাগত ছোট্ট একটি মুখের আশায়। কিন্তু গর্ভাবস্থায় সামান্য কিছু ভুলের কারণে ঘটে যেতে পারে নানা দুর্ঘটনা। তাই সাবধান থাকতে হবে সকলেই। সতর্কতার সাথে পালন করতে হবে প্রতিটি নিয়ম, করতে হবে গুরুত্বপূর্ণ সকল কাজ নিয়ম অনুযায়ী।

১) যে কোনো ধরণের ঔষধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই নিজের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। যদি আগে থেকে কোনো রোগের কারণে ঔষধ সেবন করে থাকেন তাহলে ঔষধের মাত্রা এবং সেবন চালিয়ে যাবেন কিনা সে ব্যাপারেও পরামর্শ নিন।

২) সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিজের গর্ভের অনাগত সন্তানকে রাখুন। যতো কাজই থাকুন না কেন নিয়মিত ডাক্তারের শরণাপন্ন হন এবং কোনো ধরণের বাড়তি কাজ না করে যতোটা সম্ভব বিশ্রামে থাকুন।

৩) প্যারেন্টাল প্রোগ্রাম অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় কি কি করণীয় এবং সন্তান জন্মের পর কীভাবে কি করতে হবে ইত্যাদি শেখানোর কোর্সে ভর্তি হয়ে যান। এই ধরণের প্যারেন্টাল প্রোগ্রামে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিখতে পারবেন যা অনাগত সন্তানের জন্য ভালো।

৪) গর্ভাবস্থায় মোটেই খাবারের দিকটি অবহেলা করবেন না। যতোটা সম্ভব ঘরোয়া পুষ্টিকর খাবার খাবেন। রিফাইন্ড সুগার, প্রসেসড খাবার, জাঙ্কফুড, অতিরিক্ত চা-কফি পান থেকে বিরত থাকুন। নিয়মিত বাদাম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খান।

৫) গর্ভাবস্থায় বিশ্রাম বাড়িয়ে দেয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি শরীর একেবারেই নাড়াবেন না। সন্তানের জন্য স্বাস্থ্যকর ব্যায়াম করুন, নিয়মিত হাঁটাচলা করুন এবং ডাক্তারের পরামর্শে যোগব্যায়াম করুন।

৬) ওজনের দিকে কড়া নজর রাখুন। ওজন যেনো স্বাভাবিক মাত্রায় বাড়ে সেকারণে নিয়মিত ওজন চেক করুন। সুস্থ স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় প্রতি সপ্তাহে ওজন বাড়ে ৪৫০ গ্রাম, এই দিকে বিশেষ নজর দিন।

৭) পোশাক আশাকের দিকে নজর দিন। এমন কোনো ধরণের পোশাক পরবেন না যার কারণে সাফোকেশন, অস্বস্তি অনুভূত হয়। যে কোনো টাইট ফিটিং পোশাক এড়িয়ে ঢিলেঢালা ধরণের পোশাক পড়ুন।

৮) যদি গর্ভাবস্থায় ভ্রমণ করতে হয় তাহলে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন তা যেন ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে হয়। প্রথম ৪ মাসে ভ্রমণ এবং ৬ মাস শেষে ভ্রমণ নিরাপদ নয়। এবং ট্রেনে ভ্রমণ গাড়ি বা প্লেন থেকে বেশি নিরাপদ।

৯) কোনো ধরণের মানসিক চাপ নিতে যাবেন না। যতোটা সম্ভব হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করবেন। নিজে সুমধুর সুরের কোমল মিউজিক শুনবেন এতে মস্তিষ্ক রিলাক্স থাকবে। সকলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলবেন।

১০) সঠিক হাসপাতাল নির্বাচন করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন হাসপাতাল নির্বাচন করুন যেখানে প্রয়োজনে সব ধরণের সহযোগিতা পাবেন এবং আপনি ভরসা করতে পারবেন। আগে থেকেই বাজেট নির্ধারণ করে রাখুন এবং সবদিক বিবেচনা করেই হাসপাতাল নির্বাচন করুন।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top