প্রসূতির খাদ্য-সচেতনতা

প্রসূতিরা নানা খাবারই খান। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই নয় মাসে খাবারের বিষয়ে সচেতনতা গর্ভস্থ সন্তানের ভবিষ্যতে মুটিয়ে যাওয়া ও মানসিক রোগের আশঙ্কা কমাতে পারে, সন্তানের সামাজিক আচরণের ভিত্তি গড়ে দিতে পারে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

‘শরীরের কথা শুনুন’ হলো সেই আপ্তবাক্য যা প্রসূতিদের দিনরাত শুনতে হয়। সত্যিই গর্ভাবস্থায় শরীরের কথা না শুনে উপায় থাকে না। শরীর বিদ্রোহ করে বসে, আদেশ দিতে থাকে। অনেক দিক থেকেই এটা ভালো। যেমন দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া, পর্যাপ্ত প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর তাগিদ বোধ করা, ঘন ঘন খেতে ইচ্ছা করা, ইত্যাদি। কিন্তু ঘরে তৈরি খাবারদাবারের চেয়ে বাজারের স্ন্যাকসে ভরা এই নগর সংস্কৃতিতে হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তা খাওয়াটা বিপদজনকও হতে পারে।

‘হোয়াট টু ইট হোয়েন ইউ আর প্রেগন্যান্ট’ শিরোনামে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বইয়ে এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের লেখক নিকোল আভেনা। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই লেখকের পুষ্টি, খাদ্যাভ্যাস ও আসক্তি বিষয়ে বিশেষ পারদর্শিতা আছে। এই বইয়ে তাঁর আলোচনার প্রথমেই আছে গর্ভাবস্থায় মুটিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ। তিনি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ নারীরা গর্ভধারণের আগেই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভোগেন। ফলে গর্ভাবস্থায় আরও ওজন বাড়ায় বা মুটিয়ে যাওয়ায় তাঁরা প্রি-একল্যাম্পসিয়া, গেস্টেশনাল ডায়াবেটিস ও পোস্টপার্টাম হেমারেজের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। মুটিয়ে যাওয়ার এই সমস্যা আমাদের দেশের অনেক নারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, আজকাল বহুল উচ্চারিত আরেকটি কথা তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘গর্ভে যা হয় তা গর্ভেই থাকে না।’ অর্থাৎ, গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে শিশু যে পুষ্টি উপাদান পায় আর যা পায় না ভবিষ্যতে শিশুর ওপর সেসবের প্রতিক্রিয়া ভালো রকমই থাকে। নিকোল আভেনা লিখেছেন,‘মায়ের খাদ্যাভ্যাসের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে সন্তানের ওপর। ভবিষ্যতে সন্তানের মানসিক-স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হওয়া, অসংলগ্ন সামাজিক আচরণ করা, বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা বিকশিত না হওয়া ও চাপ সামলাতে না পারার মতো সমস্যাগুলোর সূত্রপাত মাতৃগর্ভ থেকেই হতে পারে।’
এ বিষয়ে এই লেখকের পরামর্শের সারসংক্ষেপ হলো— প্রথমেই, বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই অনুসারে প্রসূতির ওজন বিষয়ে সতর্ক হওয়া। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রসূতির কি কি রোগ আছে সে বিষয়ে আগেই জেনে নেওয়া। তারপর ওজন ও রোগের বিষয়ে সতর্ক থেকে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভাবস্থার দিনগুলোর জন্য খাবারদাবারের একটা আগাম পরিকল্পনা করা। গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রসূতির শরীর ও হবু সন্তানের চাহিদার বিষয়গুলো মাথায় রেখে পুষ্টিবিদেরা এই পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া আজকাল অনেক বইপত্র থেকেও এ বিষয়ে জানার সুযোগ রয়েছে। শেষে তিনি বলছেন, কেবল শরীরের কথা শুনে নির্বিচারে খেলেই হবে না, বুঝতে হবে শরীরকে কখন কোন খাবার কতটা দিতে হবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top