কারণ ছাড়াই সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ছে?

দাম্পত্যের শুরুটা অনেক বেশি রোমান্টিক হলেও এখন সে সম্পর্ক যেন একদমই পানসে। প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে অগনিত সময় কেটেছে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বুনে। তার কাঁধে মাথা রেখে দেখেছেন আকাশের বর্ণিল রঙ বদলানো। সেই প্রেমিক যখন বর হয়ে সব ব্যাপারে নাক গলানো শুরু করলো, তখন বিরক্তিটা যেন লাগামছাড়া হতে লাগলো। সম্পর্কের টানাপোড়েনে এখন একে অপরের দূরে সরে যাচ্ছেন, কারো প্রতি নেই কোনো মমত্ববোধ। প্রয়োজনও ফুরিয়ে এসেছে দুজনের কাছে দুজনার। একই ছাদের নিচে বসবাসটা শুধু সমাজ রক্ষা। যদি কখনও মনে হয় আপনার বিবাহিত জীবনে এমন দূরত্ব ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে, তখন দেরি না করে নিচের কাজগুলো শুরু করতে পারেন।

অতীত সুখস্মৃতি মনে করুন

অতীতকে আমরা খুব সহজেই ভুলে যায়। কিন্তু অতীতের উজ্জ্বল দিনগুলোই আমাদের সুন্দরভাবে বাঁচাতে পারে। ধরুন সঙ্গীর বর্তমান আচরণ আপনার পছন্দ হচ্ছে না, কথায় কথায় তার সঙ্গে আপনার ঝগড়া হচ্ছে, এ সময়ে আপনার প্রধান করণীয় মাথা ঠাণ্ডা রাখা। এরপর ঠাণ্ডা মাথায় সুন্দর স্মৃতিগুলোর রোমান্থন করা। ভেবে দেখুন এই মানুষটাই আপনার অসুস্থতায় রাত জেগে বসে ছিল, আপনার অভিমান ভাঙাতে এই মানুষটাই এগিয়ে এসেছিল সবার আগে, আপনার হাসিতে যে মায়া ঝরে ঝরে পরে এই মানুষটাই প্রথম বলেছিল। ভাবতে শুরু করুন দেখবেন এমন হাজার মজার স্মৃতি মনের মাঝে উঁকি দেবে। আর মনটাও কিছুটা সময়ের জন্য ভালো হয়ে যাবে।

মূল সমস্যা খুঁজে বের করুন

সুন্দর স্মৃতি আপনার মনটা কিছু সময়ের জন্য ভালো করে দেবে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দরকার সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা। প্রথম দিকে তেমন কোন সমস্যাই চোখে পড়বে না। গভীরভাবে ভেবে দেখুন-

  • গত কয়েক মাস ধরে আপনারা একে অপরকে বেশি সময় দিচ্ছেন না।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনারা বেশি সময় ব্যয় করছেন।
  • আপনার সঙ্গীর কর্মক্ষেত্রে ঝামেলা চলছে, কিন্তু আপনি তা জানার চেষ্টাও করেন নি।
  • আপনাদের সম্পর্কটা নিতান্তই ফর্মাল হয়ে পড়েছে। একঘেয়েমি আপনাদের পেয়ে বসেছে। ভেবে দেখুন এর পেছনে আপনার দায় কতটুকু?
  • আপনি সঙ্গীর ঠিক কোন কাজে বিরক্ত হচ্ছেন সেটা নির্ণয় করুন।

এবার আলোচনা

সমস্যার মূল কারণ ধরতে পেরেছেন অথবা আন্দাজ করছেন। এবার তা নিয়ে আপনার সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনায় বসুন। কাউকে কটাক্ষ করে নয়, সমস্যার কথা বুঝিয়ে বলুন। তার বর্তমান অবস্থার খোঁজ নিন। তাকে উদ্বিগ্ন দেখলে নির্দ্বিধায় বলে ফেলুন, ‘সবসময় পাশে আছি।’ একই ভাবে তার কাছ থেকেও শুনুন তিনি আপনার প্রতি বিরক্ত কি না। আপনার দোষ না থাকলেও সরি বলুন। মনে রাখবেন সরি বললে আপনি ছোট হবেন না, বরং একটা সরিতেই অনেক কঠিন সমস্যার সহজ সমাধান লুকিয়ে থাকতে পারে।

বেড়িয়ে আসুন দূর থেকে

সময় করে দূর থেকে বেড়িয়ে আসুন। সমুদ্র, পাহাড়, রিসোর্ট, বারবিকিউ, সেলফি সব চলতে থাকুক। হাতটা শক্ত করে ধরে রাখতে ভুলবেন না কিন্তু। ফিরে যান পুরনো দিনগুলোতে। কয়েকদিন জগত সংসার ভুলে যান। খুব নিকট আত্মীয় ছাড়া কারো সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলা বন্ধ রাখুন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকুন। এই কয়েকদিন শুধু প্রেম আর প্রেম। নতুন করে নিজের স্বামীর বা স্ত্রীর প্রেমে পড়ার মত আনন্দ আর কিছুতে নেই।

ভালোবাসি বার বার

বয়স যতোই হোক, মনের মাঝে ধারণ করুন ভালোবাসা। মনে মনে বার বার তাকে বলুন ভালোবাসি। আবেগঘন মুহূর্তে কানের কাছে ফিস ফিসিয়ে ভালোবাসার কথা জানান দিন। তাৎক্ষণিক গুরুত্ব না দিলেও মনের মাঝে গাঢ় রঙে ধারণ করে কথাটা। হঠাৎ মনে পড়ে হাসিয়ে দেয় গোমড়া মুখকেও। তাই প্রায় প্রতিদিনই তাকে শুনিয়ে দিন এই অমৃত বাণী।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top