সেলফি তোলার ৫ কারণ

মুঠোফোনে নিজের ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করছেন নিশ্চয়ই? এ রকম ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে আপলোড করেন অনেকেই। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা থেকে শুরু করে পোপ ফ্রান্সিস কিংবা মহাকাশচারী আকাই হোসাদি, হলিউড কিংবদন্তি মেরিল স্ট্রিপও করেছেন। নিজের ছবি তোলা ও তা শেয়ার করার এ পদ্ধতিকেই বলা হয় সেলফি। আর এ সেলফি ২০১৩ সালের সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দ হিসেবে অক্সফোর্ড অভিধানে স্থান পেয়েছে। কারণ এর আলোচনা এখন বিশ্বজুড়ে।

কিন্তু সমালোচকরা স্বস্তিতে চলতে দিচ্ছেন না সেলফির অবাধ বিচরণকে। তাদের মতে সেলফির কারণে দিন দিন ছবির মান কমছে। তবু দেখা গেল এমনও সব সমালোচনার ঝড় উড়িয়ে দিতে পারেনি সেলফির আনন্দকে। আর কেনইবা পারবে, সেলফির স্বপক্ষেই তো রয়েছে জোরালো পাঁচ যুক্তি-

১. আমরা সাধারণত ছবি তুলে রাখি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে। আর এ স্মরণীয় ঘটনা ভাগ করি সেই মুহূর্তে অনুপস্থিত বন্ধুদের সঙ্গে। বর্তমানে কাজটি চটজলদি সমাধানে সেলফিই একমাত্র ভরসা। কারণ ক্যামেরায় ছবি তুলে ইন্টারনেটের নাগাল পেতে যে সময় খরচ হয়, তার চেয়ে স্মার্টফোনের সাহায্যে তৎক্ষণাৎ তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেয়া যায় বলেই দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে সেলফি। পরবর্তীকালে স্মৃতি রোমন্থনেও ইন্ধন জোগাবে এই ছবি।

২. ক্যামেরা থাকলেও বিশেষ কোন দিনে বা ঘটনায় নিজের উপস্থিতি রেখে ছবি তুলতে সাহায্য নিতে হবে অন্যের। কিন্তু সেখানে পরিচিত কেউ নেই। এর ফলে ওই নির্দিষ্ট মুহূর্ত থেকে সাময়িকভাবে হলেও নিজেকে সরে আসতে হবে। অর্থাৎ অন্য লোকের হাতে ক্যামেরা তুলে দিয়ে নিজে হাসিমুখে পোজ দিতে হবে। এক কথায়, নিজস্ব অনুভূতি থেকে বেরিয়ে এসে নিছক ছবির সাবজেক্ট হতে হবে। কিন্তু হাতে ধরা মোবাইলে নিজের ছবি তুললে সেই অনুভূতির প্রকাশ সাবলীল হয়।

৩. প্রিয় সঙ্গীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছেন। আনন্দঘন ঘনিষ্ঠ সেই সব মুহূর্ত আপনারা দু’জন যে ভাবে উপভোগ করছেন, তা তৃতীয় কেউ বুঝবে না। সেলফির মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখার উপায় হাতে থাকলে, কে পরোয়া করে পেশাদার আলোকচিত্রীর লেন্সে ধরা দিতে? এই আবেগময় মুহূর্ত যে শুধুই আপনাদের দু’জনের। তাই সময়টাও নিতান্তই সেলফির।

৪. বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেলফির ছবির মান খারাপ হয়। কিন্তু এটাও মানতে হবে যে এই সমস্ত ছবিতে প্রতিফলিত হয় মূল চরিত্রের নিখাদ মেজাজ। সেলফি তুলতে গিয়ে শুধু সেই বিশেষ মুহূর্তটি লেন্সবন্দি করাই একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়। ফলে নিজেকে ছবিতে কেমন দেখাচ্ছে, সেই সব প্রশ্ন আদৌ ভাবায় না। এতে ছবি হয় অনেক স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত।

৫. শেষ কারণ অবশ্যই হুজুগ। সকলেই যখন সেলফি তুলতে ব্যস্ত, তখন আপনি কেন বাদ থাকবেন। এই আনন্দ থেকে নিজেকে বিরত রাখা অর্থহীন। এছাড়া মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় নিজেকে ধরে রাখার বাতিক আগেও কম ছিল না। এখন বাড়তি পাওয়া হিসেবে তার একটি জুতসই নাম হয়েছে। অভিধানে সদ্য ঠাঁই পাওয়া এহেন ক্রেজে মেতে উঠতে কার না মন চায়!

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top