মা হওয়ার আগে

প্রতিটি নারীর জীবন পূর্ণতা পায় মা হওয়ার পর। পূর্ণতা আনতে দাম্পত্য জীবনের শুরুতে থাকা চাই কিছু পরিকল্পনা। এ অনুযায়ী কাজ করলে সব মহিলাই উপকৃত হতে পারেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক, গর্ভধারণের আগে কী ধরনের প্রস্তুতি নেয়া দরকার।

মানসিক প্রস্তুতি

স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিন ঠিক কোন মুহুর্তে সন্তান চান। সন্তানের দেখভাল করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবেন কিনা সেটাও ভাবা জরুরী। নিজেরা ভালোভাবে বোঝাপড়া করে সন্তান নিলে কোন সমস্যা হবে না।

অর্থনৈতিক অবস্থা

প্রথমে বুঝতে হবে সাংসারিক আয়-ব্যয় কেমন। কারণ বাচ্চা নেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে স্বামীর অর্থনৈতিক অবস্থা। কেননা মাতৃত্বকালীন সময়ে গর্ভবতীকে ও শিশু জন্ম নেয়ার পর নতুন মাকে আরও অনেকটা সময় ঘরেই কাটাতে হতে পারে। এবং শিশুদের লালন-পালন করা ব্যয়বহুল একটা ব্যাপার। অর্থনৈতিকভাবে স্বামী যখন সমর্থ হবেন তখনই কেবল বাচ্চা নেয়া ঠিক হবে।

শারিরীক প্রস্তুতি

বাচ্চা নেয়ার আগে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই শারিরীকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়। মেডিকেল চেকআপ করে দেখুন বাচ্চা নেয়ার জন্য আপনার শরীর প্রস্তুত কিনা? একটি স্বাস্থ্যবান বাচ্চা জন্ম দেয়া সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান মায়ের ওপর নির্ভর করে। এজন্য প্রি কন্সেপসন, প্রি প্রেগনেন্সি চেক আপ বা গর্ভধারণ করার আগের চেকআপটা করে নেয়া উচিৎ। কারণ বিশেষ কিছু দৈহিক অবস্থা ও জীবনযাত্রার মান গর্ভধারণকে প্রভাবিত করে, এমনকি গর্ভধারণ করার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা

সন্তানধারণের চেষ্টা করলে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং কোন রোগ থাকলে তা সারিয়ে তোলা জরুরী। এরপর শারীরিক কিছু পরীক্ষা যেমন ,ওজন ,রক্তচাপ ,ও নিতম্ব স্বাস্থ্যবান কিনা তা পরীক্ষা করাতে হবে। কেননা খুব ছোট ও চাপা নিতম্বে বাচ্চা জন্মের সময় জটিলতা দেখা দেয়। তাই আগে থেকেই পরীক্ষা করা থাকলে প্রসবকালে ডাক্তার সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

প্যাপ টেস্ট

এই টেস্টে বোঝা যায় জরায়ুমুখে কোন সমস্যা আছে কিনা। একটি সার্থক প্রসব সুস্থ জরায়ু ও গর্ভাশয়ের উপর নির্ভর করে। এছাড়াও ডায়াবেটিস,উচ্চরক্তচাপ আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে।কারণ এইসব অসুখ মারাত্মক সমস্যা করে গর্ভাকালীন ও পরবর্তী সময়ে। তাই গর্ভধারণের আগেই এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। এছাড়া এইচ আই ভিস টেস্টটিও করিয়ে নিলে ভালো।

পূর্বের সমস্যা দূর

মা হতে গিয়ে ইতোপূর্বে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়া, জন্মের সময় বাচ্চা মরে যাওয়া, অকালে বাচ্চা হওয়াকিংবা বাচ্চার শারিরীক গঠনে কোন সমস্যা থাকলে পরবর্তীতে বাচ্চা নেওয়ার সময় আরও সচেতন হতে হবে ও চিকিৎসকের পরামর্শমত গর্ভধারণ করতে হবে।

দীর্ঘকালীন রোগের নিয়ন্ত্রণ

অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, ডিপ্রেসনের মতো রোগকে দীর্ঘকালীন রোগ হিসেবে ধরা হয়। এসময় কোন ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে গর্ভধারণের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নতুবা সন্তান বিকলাঙ্গ হবার সম্ভাবনা থাকে। রুবেলা,চিকেন পক্স এর টিকা আগেই নিয়ে রাখুন। যে কোন ভ্যাক্সিন নেয়ার কমপক্ষে এক মাস অপেক্ষা করুন গর্ভধারণের চেষ্টা করার জন্য।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top