সুস্থ থাকুন গল্প করে!

কাজের ফাঁকে, বন্ধুদের আড্ডায়, অবসরে এক কাপ চায়ের সঙ্গে হোক না একটু গল্প। আপনার মনের বন্ধ জানালা খুলে বের হোক গুমোট হাওয়া, আর ভেতরে প্রবেশ করুক স্নিগ্ধ শীতল বায়ু। এতে মনের স্বাস্থ্য ভালো থাকার সম্ভাবনা ৯৫% পর্যন্ত। নানা সময়ে নৃ-বিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফিজিওলজির এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সেলিনা ফাতেমা বিনতে শহীদ।

মানুষ ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বড় হয়। কারো শৈশব অনেক আনন্দের আবার কারো কষ্টের। মানুষ প্রথমত ভালোবাসতে শেখে তার বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পর্কের দারুন রসায়ন দেখে। আর যদি বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহের পরিমান বেশি থাকে, শেষ পর্যন্ত তার জের বইতে হয় সন্তানকে। প্রথম অবস্থাতে এটি তেমন কোনো প্রভাব না ফেললেও ধীরে ধীরে সন্তানের মানসিকতায় জেকে বসে। সন্তান বড় হতে থাকে, সঙ্গে থাকে আশেপাশের পরিবেশের প্রভাব। সব কিছুকে মানিয়ে চলা তার পক্ষে দারুন কষ্টকর।

আদর, স্নেহ, ভালোবাসা তার কাছে আদিক্ষেতা মনে হয়। এক কথায় দারুন বিপাকে থাকে বেচারা সন্তানের মন। এই ধরনের ছেলেমেয়েরা সাধারণত একটু আত্মকেন্দ্রিক হয়। সহজে তারা সব কিছু অন্যের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে না। তাতে তার বিষন্নতা, তিক্ততা আর অস্থিরতা বেড়ে চলে দিনের পর দিন। এভাবেই জানালেন ডাক্তার সেলিনা ফাতেমা বিনতে শহীদ।

তিনি জানালেন, সামাজিক যোগাযোগ, আন্তরিকতা এবং আবেগীয় স্বাস্থ্য বজায় রাখতে অপরের সঙ্গে গল্প করার বিকল্প নেই। তাই আপন মানুষের কাছে থেকে, ভালোবেসে, তাদের সঙ্গে নিজের বিষয় আলোচনা করতে পারেন। শুনতে পারেন তাদের না বলা অনেক কথা। এভাবে আপনার বিচারবোধ বাড়বে। নিজেকে বিশ্লেষণ করতে শিখবেন।

এছাড়াও অফিসে একগাদা কাজ, বসের বকুনি, ডেডলাইনের চোখ রাঙানি- সবকিছুর মাঝখানে পড়ে চাকরি জীবনে থাকে অনেক অস্বস্তি। সেখানে একটুখানি স্বস্তি দিতে পারে অল্প একটু গসিপ। মনের চাপ কমলে মানসিক শান্তি পাবেন, শরীরও ভালো থাকবে। তাই সহকর্মীদের সঙ্গে সুযোগ পেলেই করে নিন একটুখানি হাসি-তামাশা।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top