প্রেমিক-প্রেমিকার যে “খারাপ” অভ্যাসগুলো সম্পর্কের জন্য ভালো!

প্রতিটি মানুষের ভালোবাসার সম্পর্ক আলাদা, আর তাই সবার সম্পর্কের মাঝে একই নিয়ম খাটেও না। অনেকের মাঝে আবার ভালোবাসা ও ডেটিং নিয়ে কিছু ভূল ধারণাও আছে। এই যেমন, কিছু অভ্যাস আছে যা সবাই খারাপ বলেই জানে। আসলে কিন্তু এসব অভ্যাস ভালোবাসা আরও বাড়িয়ে দেয়, শক্ত করে তোলে একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ।

ভালোবাসার সম্পর্ক শক্ত করতে কী কী করা উচিৎ, এ নিয়ে অনেকেরই অনেক মতামত আছে। এই যেমন, হাত ধরাধরি করা, দুজনে মিলে যথেষ্ট সময় কাটানো ইত্যাদি। কিন্তু আসলেই কী এগুলো সবার জন্য খাটে? আপনি যদি প্রেমিক/প্রেমিকাকে সত্যিই খুব ভালোবেসে থাকেন তবে হাত ধরুন আর না ধরুন, ভালোবাসায় কোনো কমতি পড়বে না। আবার এটাও সত্যি যে, ঝগড়া করার মতো অভ্যাসগুলোও অদ্ভুতভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে আপনাদের ভালোবাসার গভীরতা। তাই পড়ুন এমন সব অভ্যাসের কথা যা আসলে ভালোবাসা কমানোর বদলে বাড়িয়ে দেয় অনেকটা। দীর্ঘদিন সম্পর্ক অটুট রাখতেও এগুলো কাজ করে।

১) কিছু বিরোধ না মেটানো

দুজন মানুষের সব মতামত এক হবে তা ভাবাটাই ভুল। আর আপনাদের মাঝে থাকা সব সমস্যারই সমাধান থাকবে এমন ভাবাটাও ভুল। আপনি ভাবতেই পারেন, জীবনসঙ্গীর সাথে খোলা মনে আলোচনা করলেই সব সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে। আসলে কিন্তু তা নয়। এমনও সমস্যা থাকতে পারে যা কখনোই মিটবে না। বরং ছোট্ট একটা সমস্যা মেটাতে গিয়েই সম্পর্কে বড় ফাটল ধরতে পারে। এ কারণে এমন ছোটখাটো সমস্যা যেখানে আছে, সেখানেই থাকতে দেওয়াটা খারাপ কিছু নয়।

২)একে ওপরের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া

অনেকেই অবাক হয়ে যাবেন এটা শুনে। কিন্তু অনুভূতিতে এভাবে আঘাত করাটা জরুরী হয়ে পড়ে অনেক ক্ষেত্রে। কেন? কারণ মিথ্যে বলে তার মন ভালো করে দেবার চাইতে সত্যি কথা বলে তার মন খারাপ করে দেওয়াটা ভালো। আসুন একটি উদাহরণ দেখি। ভাবুন আপনার প্রেমিকা ঘন্টা ধরে সাজগোজ করে এলেন ডেটে যাবার সময়ে। কিন্তু এতো বেশি সেজে ফেলেছেন যে তাকে মোটেও ভালো দেখাচ্ছে না। এমন সময়ে কী করবেন? সত্যি বলবেন নাকি মিথ্যে করে বলবেন তাকে খুব মিষ্টি দেখাচ্ছে? এখানে সত্যি বললে তার অনুভূতিতে আঘাত করা হবে ঠিকই, কিন্তু সত্যি বলাটা জরুরী। যে মানুষটিকে সবচাইতে বেশি ভালোবাসেন, তার সামনে সত্যি কথাটা বলবেন না তো কার সামনে বলবেন?

৩) সম্পর্ক শেষ করে দেবার মনোভাব

প্রেম করলেই সেটা সারাজীবনের জন্য টিকে যাবে-এমনটা ভাবি আমরা। সম্পর্ক বাঁচাতে অনেক সময়েই নিজেকে ছোট করে ফেলি আমরা। নিজেদের চাইতে সঙ্গীর ইচ্ছের মূল্য সেই বেশি। কিন্তু এটা মোটেই সুস্থ একটি সম্পর্ক থাকে না তখন। আমরা “রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট” কাহিনীটিকে ভালোবাসার গল্প মনে করি, নিজেদের ভালোবাসার গল্পটাকেও এমনই ভেবে থাকি। কিন্তু তা কী সম্পূর্ণ সুস্থ?

অনেক সময়ে নিজের এবং সঙ্গীর ভালোর জন্যই সম্পর্কটাকে শেষ করে দেওয়ার দরকার হয়। এতে ভাবার দরকার নেই যে আপনাদের সম্পর্কটা ব্যর্থ। বরং এভাবে চিন্তা করুন, সারা জীবন অতৃপ্ত একটি সম্পর্কে থাকার চাইতে দুজন সুখি হবেন এমন ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো।

৪) নিজের সঙ্গী ছাড়াও অন্যদের প্রতি আকর্ষন বোধ করা

সাধারণত নিজের প্রেমিক/প্রেমিকা ছাড়া অন্য কারও দিকে তাকানোই যাবে না- সম্পর্কের একটি অবিসংবাদিত নিয়ম এটা। তাই না? আমরাও ভাবতে ভালোবাসি যে সঙ্গীটি ছাড়া আর কারও দিকে আমাদের দৃষ্টি যাবে না। কিন্তু প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই অন্যদের প্রতি আমাদের আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। অনেকেই প্রেমিক/প্রেমিকা ছাড়াও অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন এবং অপরাধবোধে ভোগেন। এতে দুঃখ পাবার কিছু নেই। প্রকৃতির নিয়মেই একাধিক মানুষের প্রতি আমাদের আকর্ষণ থাকতে পারে। কিন্তু আপনি খেয়াল করলেই দেখবেন প্রেমিক/প্রেমিকার প্রতি আপনাদের আকর্ষণটাই টিকে থাকছে, অন্য মানুষগুলোর প্রতি আকর্ষণ বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না। সুতরাং এতে দুঃখ পাবার কিছু নেই।

৫) আলাদা সময় কাটানো

সারাক্ষণ আঠার মতো একজন আরেকজনের সাথে লেগে থেকে সময় কাটানো মানেই ভালো সম্পর্ক নয়। সম্পর্কে যাবার পর পরই যে মানুষটি হারিয়ে গেছে আড্ডা থেক তার বন্ধুরাও এ ব্যাপারে মত দেবেন। এটা ঠিক যে প্রেমে পরার পর ভালোবাসার মানুষের সাথে সব সময় থাকতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আসলেই সবটা সময় তার সাথে কাটাতে হবে। তার থেকে দূরে কিছুটা সময় থাকাও জরুরী। বিশেষ করে পরিবার, বন্ধু এবং সর্বোপরি নিজের জন্য সময় আলাদা রাখার মাঝে দোষের কিছুই নেই।

৬) তার কিছু ভুল-ত্রুটি মেনে নেওয়া

ভালোবাসার মানুষটিও মানুষ তো। তারও তো কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, ভুল হতে পারে। তার মানে এই নয় যে তার ভালোবাসায় খাদ আছে। তার ত্রুটিগুলোকে ঠিক করার ইচ্ছে থাকতেই পারে। কিন্তু কিছু ত্রুটি থাকবেই, সেগুলো মেনে নিয়ে তাকে ভালোবাসাটাই আসল। যেমন তিনি হয়তো চুল আঁচড়াতে প্রায়ই ভুলে যান। এতে বিরক্ত না হয় বরং এলো চুলের মাঝে সৌন্দর্য খুঁজে নেওয়ার মাঝেই সম্পর্কের সফলতা রয়েছে।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top