সঙ্গী শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করেন? জেনে নিন কী করা উচিত

সম্পর্ক যতোই গভীর হোক না কেন যে বিষয়টি একেবারেই সহ্য করা উচিত না সেটি হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। এমন হতে পারে সঙ্গী মানুষটি সব সময়ই খুব ভালো আচরণ করেন এবং সকলের কাছেই প্রিয় কিন্তু হুট করেই আপনার ওপর শারীরিক নির্যাতন করেন অথবা কৌশলে আপনার ওপর মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যান, তারপরও সম্পর্কে এই বিষয়টি একেবারেই সহ্য করা উচিত নয়। অনেকেই এই সময় মানসিক ভাবে একেবারেই ভেঙে পড়েন এবং অনেকে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ভুল পথ বেছে নেন। কিন্তু সত্যিই এমন অবস্থায় কী করা উচিত তা জানেন কি?

যা করা উচিত

  • – আপনি কি খুব বেশী অত্যাচারিত? বা এমন কিছু হয়েছে যা আপনার কাছে জীবনের হুমকির মতো মনে হচ্ছে? তাহলে একেবারেই দেরী করবেন না যত দ্রুত সম্ভব আইনি সাহায্য গ্রহণ করুন। কারো কাছে পরামর্শের জন্য যাওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ অনেকেই হয়তো সহ্য করে নিতে বলবেন অথবা আরও কিছুদিন ধৈর্য ধারণ করে চলতে বলবেন। কিন্তু এই বিষয়টি মুখ বুঝে সহ্য করতে থাকলে বাড়তেই থাকবে। তাই কারো পরামর্শ না নিয়ে আইনের আশ্রয় নিন।
  • – ভেবে দেখুন এমন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর আপনাকে সাপোর্ট করার মতো কেউ আছে কি? যদি পরিবার ও আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধব থেকে থাকেন তাহলে তাদের কাছে চলে যান। কারণ যদি সত্যিই আপনার সঙ্গী খুব বেশী নির্যাতনকারী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জীবনের ওপর হামলা আসতে পারে।
  • – থানায় জিডি করে রাখুন এবং সামাজিক কলান মুলক সংস্থার সাথে কথা বলে বিষয়টি সকলকে জানিয়ে রাখুন যাতে করে আপনার কোনো ক্ষতি বা আপনাকে হুমকি দিতে সঙ্গী ভয় পান।
  • – নিজের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখা অনেক জরুরী। অনেকেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন এবং ভুল পথে পা বাড়ান, এই কাজটি একেবারেই করবেন না। বরং নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং নিজের সম্মানের জন্য লড়াই করুন।
  • – নিজের অধিকার সম্পর্কে জানা অনেক জরুরী। বিবাহিত থাকা অবস্থায় এবং আপনি যদি একেবারেই সহ্য না করতে পেরে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তাহলেও নিজের অধিকার সম্পর্কে জেনে রাখা খুব জরুরী।

এমতাবস্থায় কার কাছে যাওয়া উচিত

  • – অনেকেই শারীরিক এবং মানসিকভাবে অত্যাচারিত হয়ে কার কাছে যাওয়া উচিত এবং কী করা উচিত তা একেবারেই বুঝে উঠতে পারেন না। এই সময় কিন্তু যে কোনো স্থানে গেলেই হয় না, একটু ভরসার স্থান প্রয়োজন। তার সেকারণে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবই সব চাইতে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে।
  • – অনেক সময় দেখা যায় মানসিকভাবে অনুন্নত এবং রক্ষণশীল ধরণের পরিবারের কারণে পরিবারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতাই পাওয়া যায় না। তখন আপনি যেতে পারে সমাজকল্যাণ মূলক সংস্থায় এবং সেখান থেকে আপনি পূর্ণ সহযোগিতা আশা করতে পারেন।

আরও যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে

  • – এই সময়ে যে জরুরী বিষয়ের কথা ভুলে গেলে চলবে না তা হচ্ছে অর্থনৈতিক ব্যাপার। অনেক সময়ই ঘর ছেড়ে যাওয়ার সময় অনেকেই এই ভুলটি করেন তা একেবারেই করবেন না। নিজের সম্মানের জন্য লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে নিজের অর্থনৈতিক দিকটিও শক্ত করে নিন।
  • – আইনের আশ্রয় গ্রহণ করতে গেলে নানা হয়রানীতে পড়তে হয় অনেক সময় তাই আইন সম্পর্কে ভালভাবে জেনে বুঝে তারপরও পদক্ষেপ গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
  • – শারীরিক অত্যাচারের বিষয়টি যদি মাত্রাতিরিক্ত বেরী যায় তাহলে প্রথমেই মেডিকেল চেকআপ করিয়ে রিপোর্ট তৈরি করে নিন। এতে আপনারই অনেক সুবিধা হবে।

তথ্যসূত্র- What to do if you are in an abusive relationship, reachout.com

Domstic violence and abuse, helpguide.org

Tips on how to get out of an abusive relationship, roogirl.com

Tips to help you understand why and manage an abusive relationship,uncommonhelp.me

Photo Source:  kunr.org

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top