যদি দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস থাকে তবে আপনি…

অনেকে অমনোযোগী হয়ে দাঁত দিয়ে নখ কাটেন। অথবা গভীর চিন্তার সময় নিজের অজান্তেই কাজটি করতে থাকেন। আপনারও কি এই অভ্যাস আছে? ইউনিভার্সিটি অব মন্ট্রিলের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এ অভ্যাসটি মানুষের বিশেষ এক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। এরা সম্ভবত উৎকর্ষতার তুঙ্গে থাকতে চান।

গবেষকরা বলেন, যে সকল মানুষ প্রকৃতিগতভাবে ধৈর্যশীল নন এবং খুব সহজে একঘেয়েমিতে আক্রান্ত হন, তারাই সাধারণত এমন কাজ করেন। অন্যমনস্ক হয়ে দাঁত দিয়ে নখ কাটেন অথবা হাতের ত্বক খুঁটাতে থাকেন বা আঙুল দিয়ে চোখের পাপড়ি টানতে থাকেন।

প্রধান গবেষক মনোবিজ্ঞানী কিয়েরন ও’কনোর বলেন, কারো এমন অভ্যাস তার স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর হতে পারে। আর এটাই মনে করা হয়। কিন্তু এ আচরণে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের পরিচয়ও বেরিয়ে আসতে পারে। এরা যেকোনো কাজ পুরোপুরি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে চান। এরা সবকিছুতে পরিপূর্ণতার চেয়েও বেশি কিছু চান। তারা পরিস্থিতি বা কর্মপন্থা অবলম্বনে শতভাগ তৃপ্তি খোঁজেন।

গবেষণার কাজে বিশেষজ্ঞরা ৪৮ জনকে বেছে নেন। এদের সবার মাঝে সংশ্লিষ্ট অভ্যাস বিদ্যমান। নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। তারা কিভাবে একঘেয়েমি, রাগ, অপরাধবোধ, বিরক্তি ইত্যাদি অনুভব করে তা জানতে চাওয়া হয়। নানাভাবে এদের পর্যবেক্ষণ করা হয়। যেমন, একঘেয়েমিতে আক্রান্ত অবস্থায় একজনকে কোনো কক্ষে একা ৬ মিনিট বসিয়ে রাখা হয়।

গবেষকরা আরো বলেন, এ ধরনের আচরণকে যতটা ক্ষতিকর বলে মনে করা হয়, আসলে ততটা নয়। এর মাধ্যমে তারা দৈহিক ও মানসিক শক্তির মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন এবং একে আরো বেশি উৎপাদনশীল করে তোলেন।

দৈনন্দিন জীবনে এসব অভ্যাস সমস্যা সৃষ্টি করলে এবং অভ্যাস ত্যাগে বাধ্য করলে তাদের মধ্যে অভ্যাসগত বিপর্যয় দেখা দেয়। তারা একটি বন্ধ করতে অন্য একটি অভ্যাসের দাস হয়ে পড়েন। যেমন- কাউকে নখ কাটায় বাধা প্রদান করা হলে তিনি সহজেই চোখের পাপড়ি টানার অভ্যাস আত্মস্থ করে ফেলেন।

এর মাধ্যমে তারা মূলত হারিয়ে যাওয়া প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনতে পারেন। তবে চিন্তা এবং আচরণের মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় স্থাপন করতে হলে তাদের কগনিটিভ থেরাপি কাজে লাগতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top