ভালো নয় অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস

আত্মবিশ্বাস ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের মধ্যে খুব সুক্ষ একটা পার্থক্য আছে। আত্মবিশ্বাসী হওয়া খুবই ভালো, কিন্তু মানুষ অনেকসময় বুঝতে পারেনা তাদের আত্মবিশ্বাসটা কখন আকাশ ছুঁয়ে যাচ্ছে এবং একসময় অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে রূপ নিচ্ছে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ফলে মানুষের চোখে একটি পর্দা পড়ে যায় তখন তিনি মনে করতে থাকেন যেকোনো কিছু করার ক্ষমতা তার রয়েছে। এই ধরনের চিন্তা মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস মানুষকে তার জ্ঞান সম্পর্কে ভুল ধারণা দেয়, ঝুঁকিকে ছোট করে দেখার ভুল করেন এবং একটি সমস্যা সমাধানে তাদের ক্ষমতার পরিসর কতটুকু তা তারা ভুলে যান।

সমস্যা গুলো
কি সমস্যা যদি কেউ তার নিজের সম্পর্কে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকেন? এটা হয়তো তার কাছে ভালো লাগছে, কিন্তু আপনি কেন বিরক্ত হচ্ছেন তার এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের কারণে?
আসলে কারন কিন্তু অনেকগুলো আছে …

-অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী লোকটি তার নিজস্ব মতামতের বাইরে যেতে চান না, কারো মতামত যাচাইও করেন না। সঙ্গী হিশাবে তাই তারা ভীষণ যন্ত্রণা দায়ক।

-তারা অতিরিক্ত আশাবাদী এবং উচ্চাভিলাষী হয়ে এমনকিছু কাজ করে থাকেন যা তাদের ক্ষমতা থেকেও বেশি। ফলে তিনি ছাড়াও তার সাথে জড়িত অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

-তারা তাদের দুর্বলতা সম্পর্কে উদাসীন এবং যেহেতু তারা তাদের দুর্বলতা স্বীকার করেননা তাই এটা উন্নতিরও কোন চেষ্টা তাদের থাকেনা।

-তারা নিজেদেরকে সুপিরিয়র ভাবেন এবং অন্যদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন এবং কখনোই অন্যকে নিজের কাজ প্রমান করার সুযোগ দেন না

একজন আত্মবিশ্বাসী লোক বলবে, আমি কাজটি করতে পারব। কিন্তু একজন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী লোক বলবে, একমাত্র আমিই কাজটি করতে পারব। এই ধরনের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী লোকদের জীবনে সাফল্য আসতে পারে কিন্তু যদি কখনও এরা বিফল হন তাহলে প্রচণ্ড নৈরাশ্যে ভোগেন।এই অতি আত্মবিশ্বাসী মনোভাব পোষণ করা শোভনীয় নয় কখনোই।

তাই এ ধরনের অতি আত্মবিশ্বাসী মনোভাব থেকে বের হওয়ার কিছু সাধারণ কৌশল হলঃ

-নিজের দক্ষতা জানার সাথে সাথে নিজের অদক্ষতা সম্পর্কেও ধারণা রাখবেন।

-নিজেকে কখনও অন্যদের সাথে তুলনা করতে যাবেন না।

-অন্যের কাছ থেকে সমালোচনা শুনলে রেগে না যেয়ে তা স্বাভাবিক ভাবে নেয়ার চেষ্টা করুন এবং যেহেতু মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে তাই আপনিও এর বাইরে নন।

-কাউকে কোন কাজ করে দেয়ার কথা দেবার আগে চিন্তা করে নিন ঠিক সময়মত তা শেষ করতে পারবেন কিনা বা কাজটা করার মতো দক্ষতা আপনার কতটুকু আছে।

-নিজের ভুলগুলো সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করুন, এটা আপনার কার্যদক্ষতা বাড়াবে, মানসিকে শক্তি এবং অন্যান্য গুণাবলি বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।

-আশাবাদী হওয়া অবশ্যই একটি ইতিবাচক মনোভাব কিন্তু কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কেও জানতে হবে এবং সেইভাবে কাজ করতে হবে, কল্পনাবিলাসী হওয়া যাবেনা।

মনে রাখবেন, আপনি আপনার জায়গায় সবার থেকে আলাদা। আপনার যতটুকু দক্ষতা, জ্ঞান, কার্যক্ষমতা তা কিন্তু আপনারই। আপনার মধ্যে এমন কিছু গুনাবলি রয়েছে যা অন্যের মধ্যে নেই। একইভাবে অন্যের অনেককিছু হয়তো আপনার মধ্যে নাও থাকতে পারে। কিন্তু আপনার যা আছে তা নিয়ে বড়াই করবেন না। আপনি অনেকের মধ্যে ভালো হতে পারেন কিন্তু কেউ আপনার থেকেও সেরা হতে পারেন এটা ভুললে চলবে না।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top