ঘুমের মাঝে ঘামেন খুব ? তাহলে জেনে নিন তার কারণ ও প্রতিকার

ঘাম প্রাকৃতিক ভাবে আমাদের শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে। অধিকাংশ মানুষের শরীরে ২০-৪০ লক্ষ ঘর্ম গ্রন্থি থাকে। এই গ্রন্থি গুলোর বেশির ভাগই থাকে বগলে, মুখে, হাতের তালুতে ও পায়ের পাতায়। মেয়েদের চেয়ে ছেলেরাই বেশি ঘেমে থাকে। দুই ধরণের ঘর্ম গ্রন্থি আছে, অ্যাপোক্রাইন ও ইক্রাইন । অ্যাপোক্রাইন গ্ল্যান্ড আবেগ অনুভূতির সময় কাজ করে ও ইক্রাইন গ্ল্যান্ড শরীর ঠাণ্ডা করে। রাতের বেলার ঘামের জন্য দায়ী ইক্রাইন গ্ল্যান্ড।
অনেক মানুষ তাঁর ঘরের তাপমাত্রা ঠাণ্ডা থাকলেও রাতের বেলা এমন ঘেমে যান যে বিছানাপত্র ভিজে চুপচুপে হয়ে যায়। এই অস্বাভাবিক ঘাম খুবই বিরক্তিকর। একে নক্টারনাল হাইপারহাইড্রসিস বলে । মানুষ সাধারণত যেসব কারণে ঘেমে থাকে তা হল –
  • – ঘুমানোর আগে মশলা যুক্ত খাবার ও হট ড্রিঙ্কস খেলে ।
  • – আবহাওয়া গরম থাকলে বা বেড রুমের তাপমাত্রা বেশি হলে।
  • – খুব বেশি গরম জামা কাপড় পরে ঘুমালে।
  • – ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যায়াম করলে।
  • যদি আপনার রাতের বেলায় ঘেমে যাওয়ার প্রবণতা প্রায়ই হয়ে থাকে যা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এবং ঘামের সাথে জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ যেমন ওজন কমে যাওয়া, দেখা দেয় তাহলে একজন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
শারীরিক যে সমস্যা গুলোর কারণে রাতে ঘাম হতে পারে তা হল –
১। মেনোপোজ
যাদের মেনোপোজ হয়েছে তাদের রাতের বেলায় ঘুমের সময় ঘাম হতে পারে বা মেনোপোজ হওয়ার পূর্ব লক্ষণ স্বরূপ ও ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে।
২। সংক্রমণ
হার্টের ব্যাক্টেরিয়া জনিত ইনফেকশন- এন্ডোকারডাইটিস ( হার্টের ভাল্ব এর প্রদাহ হয়) ও অস্টিওমায়ালিটিস ( হাড়ের এর প্রদাহ ) এর কারণে ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে । টিউবারকোলোসিস ও HIV এর লক্ষণ স্বরূপ ঘুমের সময় ঘাম হতে পারে।
৩। ক্যান্সার
কিছু কিছু ক্যান্সার এর পূর্ব লক্ষণ হিসেবে ঘুমের সময় ঘাম হতে পারে। এছাড়াও ওজন কমে যাওয়া ও জ্বরের ও থাকতে পারে।
৪। হাইপোগ্লাইসেমিয়া
যারা ইনসুলিন নিয়ে থাকেন বা ডায়াবেটিস এর ঔষধ সেবন করেন তাদের ও রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে।
৫। হরমোন ডিজঅর্ডার
হরমোন নিঃসরণ কারী গ্রন্থি এন্ডোক্রাইন সিস্টেম এ কোন সমস্যা থাকলে রাতের বেলা ঘাম বেশি হতে পারে। যারা হরমোনের ঔষধ সেবন করছেন তাদের ও ঘুমের সময় ঘাম হতে পারে।
এছাড়াও দুশ্চিন্তার জন্য ও দিনের বেলার মত রাতের বেলাতেও প্রচুর ঘাম হতে পারে।
হাইপারহাইড্রোসিস বা অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া তেমন ক্ষতিকারক নয় কিন্তু অস্বস্তিকর তো বটেই। জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা থাকে মুক্তি পাওয়া যায়। যেমন – আপনার বেডরুমের তাপমাত্রা ঘুমের উপযোগী রাখুন, বিছানা থেকে অতিরিক্ত কাঁথা কম্বল সরিয়ে ফেলুন, রাতের বেলা মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন, রাতের বেলা ব্যায়াম করবেন না। এগুলো করার পর ও যদি আপনার ঘুমের সময় অতিরিক্ত ঘাম হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top