হাতেনাতে ধরে ফেললেন মিথ্যাবাদীকে! এরপর?

বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে, কিন্তু আপনার বন্ধু-বান্ধব এবং সহকর্মীরা হরহামেশাই আপনাকে মিথ্যা বলে চলেছে। ১০ মিনিট ধরে কথা বললে তার মাঝে ২-৩টি মিথ্যা থাকাটা একেবারেই সাধারণ। এতগুলো মিথ্যা আমরা সচরাচর ধরতে পারি না। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণায় দেখা যায় আমরা গড়ে মাত্র ৫৪% শতাংশ মিথ্যা ধরে ফেলতে পারি। কিন্তু মিথ্যা ধরে ফেললেও আসলে তার পর কী করা উচিৎ? বিশেষত অফিসের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মিথ্যা ধরে ফেলাটা জরুরী হয়ে পড়ে। কিছু কিছু মিথ্যা বুঝে ফেললে আমাদের এতোই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় যে সে সময়ে মিথ্যাবাদীকে কী করা উচিৎ তা নিয়ে চিন্তাও করা কঠিন হয়ে পড়ে। এসব সময়ে আলোচনাটাকে ইতিবাচক রাখা দরকার, কিন্তু মিথ্যাবাদী যে দোষ করেছে সেটা যেন আবার চাপা পড়ে না যায়। এ কাজটা করা বেশ কঠিন।

অনেক সময়ে আবার আপনার মন বলছে ওই মানুষটির কথাগুলো মিথ্যা, কিন্তু আপনি নিশ্চিত হতেও পারছেন না। এ সময়ে কী করবেন? তখন তাদেরকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করবেন? অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করবেন সত্যটা জানার জন্য? নাকি কিছুই না করে তার কথাটা সত্যি বলে মেনে নেবেন? অফিসে এমন কোনো পরিস্থিতির অবতারনা হলে কী করা যেতে পারে?

Emotional Intelligence 2.0 এর লেখক ডক্টর ট্র্যাভিস ব্র্যাডবেরি লিঙ্কডইন ওয়েবসাইটে জানান অফিসে এমন মিথ্যাবাদীকে ধরে ফেললে কী করা যেতে পারে। আগে তো মিথ্যেটা ধরতে হবে। কেউ মিথ্যা বলছে কিনা তা বোঝার জন্য বেশ কিছু টিপস আছে, যা আপনি জেনে নিতে পারেন প্রিয়.কমের এই পোস্টে। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে কী করবেন, তা নিয়ে কয়েকটি কাজ করা যেতে পারে, বলেন ডক্টর ব্র্যাডবেরি।

অন্য কোনো কিছু করার আগে আপনার নিয়ম-নীতি জেনে নিতে হবে। অফিসে মিথ্যাবাদীর জন্য কী শাস্তির ব্যবস্থা আছে বা এমন পরিস্থিতিতে আপনার কিছু করার নিয়ম আছে কিনা তা জেনে নিন। জানা না থাকলে হয়তো আপনার ছোট একটি ভুলে পুরো জিনিসটায় হিতে বিপরীত হতে পারে।

১) কিছু না করা

আমাদের সামনে কেউ মিথ্যার ফুলঝুরি ছোটালে ব্যাপারটা আমাদের মোটেই পছন্দ হবে না ঠিক। আমাদের ইচ্ছে হবে তার জারিজুরি ফাঁস করে দেই সবার সামনে। কিন্তু অফিসে এই কাজটা করা ঠিক হবে কিনা তা ভেবে দেখুন। মিথ্যাটা ফাঁস হয়ে গেলে আসলে উপকারের চাইতে ক্ষতি হবে কিনা তা ভাবুন। ছোটখাটো মিথ্যাটা এড়িয়ে গেলে অনেক সময়ে শত্রুতাও এড়ানো সম্ভব হয়। তবে খুব বড় এবং গুরুতর কোনো মিথ্যা হলে সেটা অবশ্যই এভাবে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

২) হাসাহাসি করে উড়িয়ে দিন

কিছু কিছু মিথ্যা একেবারে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। কিন্তু এগুলো নিয়ে আবার খুব বেশি চেঁচামেচিও করা যায় না। এক্ষেত্রে মজা করে তাকে জানিয়ে দিতে পারেন যে মিথ্যাটা আপনি ধরে ফেলেছেন। এতে মিথ্যাবাদী নিজের মিথ্যাটা স্বীকার করার সুযোগ পায়। আর ব্যাপারটা কোনো ঝামেলা ছাড়াই মিটমাট হয়ে যায়।

৩) না বোঝার ভান করুন

অন্যান্য সহকর্মীর সামনে। আপনি যদি বুঝে ফেলেন তার কথাটা মিথ্যা, তবে এমন ভান করুন যেন আপনি নিতান্তই বোকাসোকা, ব্যাপারটা বুঝতে পারছেন না কিছুতেই। ব্যাপারটা নিয়ে অনেক করে প্রশ্ন করুন। ব্যাপারটার যতো গভীরে যাবেন, সত্যটা তত বেরিয়ে আসবে। এতে তারা নিজের ভুল স্বীকার করতে পারবে, অন্যদের সামনে বিব্রত হতে হবে না।

৪) সরাসরি ধরিয়ে দিন

মিথ্যাটাকে অন্য কোনোভাবেই সামনে আনতে না পারলে সরাসরি তাকে চার্জ করাটাই ভালো। তবে এ কাজটা তাকে আড়ালে নিয়ে অথবা যার ব্যাপারে মিথ্যা বলা হয়েছে সেই সংশ্লিষ্ট মানুষটির সাথে সরাসরি করা বলা দরকার। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রমাণসহ তাকে ধরতে হবে। নইলে সে অস্বীকার করে পার পেয়ে যেতে পারে।

অনেক সময়েই একটা মিথ্যাকে ফাঁস করে দেওয়াটাই সবচাইতে ভালো, সেটা না করলে হয়তো আপনার চাকরি চলে যাবার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে তার আগে কিছু জিনিস চিন্তা করে নিন:

–          আপনি কি কোম্পানির ভালোর কথা চিন্তা করে তাকে ধরিয়ে দিতে চান নাকি শুধুই রাগের কারণে? রাগের কারণে হলে আরেকবার ভেবে দেখুন।

–          নিজেকে নিরাপদ রাখুন। মিথ্যাবাদীর বিরুদ্ধে প্রমাণ রাখুন। এই ঘটনায় নিজেকে যেন দোষী হতে না হয় কোনোভাবে তা নিশ্চিত করুন।

কিছু কিছু মানুষ ছোটখাটো মিথ্যা বলে নিজেকে অন্যের চোখে ভালো প্রমাণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছু মানুষ একেবারে প্রফেশনালের মতো মিথ্যা বলে, তারা নিজেদের পুরো ক্যারিয়ার তৈরি করয়ে মিথ্যার উপরে। আর তারা মানুষকে মিথ্যা বল ধোঁকাও দেয় এমনভাবে যাতে কেউ তাকে ধরতে না পারে। এ কারণে প্রতি ক্ষেত্রে একই সমাধান দেওয়া যায় না। খুব ভালো করে চিন্তাভাবনা করেই অগ্রসর হতে হবে।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top