যে ৩টি সাধারণ চিন্তাই সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট

ভালোবাসার শুরুটা সব সময়েই হয় আতশবাজির মতো অসাধারণ আর স্বপ্নের মতো সুন্দর। কিন্তু সম্পর্কের বয়স বাড়তে থাকলে দেখা যায় খুঁটিনাটি কিছু সমস্যা। একটা সময়ে সম্পর্কের এসব ফাটল বড় হতে হতে দুজনের মনেই ছড়িয়ে দেয় অসন্তোষ। এর জন্য দায়ী আপাতদৃষ্টিতে খুব নিরীহ চিন্তা। সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে চাইলে আপনার মন থেকেও সরিয়ে দেওয়া উচিৎ এসব চিন্তা।

 

সাইকোলজির ব্যাপারে অ্যারন বেকের বেশ কিছু বই রয়েছে। এগুলোতে তিনি একেবারেই অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভালোবাসার সম্পর্ককে দেখতে শেখান। কী কী ছোট্ট ভুলের কারণে সম্পর্ক ভেঙ্গে যেতে পারে, সেসবের ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। Business Insider থেকে জানা যায়, অ্যারন বেক সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দেন যে ব্যাপারটির ওপর তা হলো মাইন্ড রিডিং, বা সঙ্গী কী চিন্তা করছে তা জানার চেষ্টা।

 

আপনি মাইন্ড রিডার হিসেবে যাচ্ছেতাই

মানুষ একজন আরেকজনের মনের কথা পড়তে পারে না। আমরা একে অন্যের চিন্তাভাবনা অনুমান করতেও পারি না তেমন সঠিকভাবে। কিন্তু এর পরেও আমরা চেষ্টা করতে থাকি।

“ও এত চুপচাপ কেন? নিশ্চয়ই আমার উপরে রাগ করে আছে।”

“ও অমুক কাজটা করেনি। ও আমাকে মোটেই ভালোবাসে না।”

মানুষের প্রতিটি কাজের পেছনে একশো একটা কারণ থাকতে পারে। আমরা বোকার মতো ধরে নেই আমরা যা ভাবছি সেটাই আসল কারণ। আর আমরা সাধারণত ধরে নেই এই কারণটা নেতিবাচক কিছু। এভাবেই ছোট্ট একটা চিন্তা থেকে সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরতে পারে। Huffington Post  এর মতে সম্পর্ক ভাঙার বড় কারণগুলোর মাঝে এটি একটি।

শুনতে খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু মাতালেরাও এই কাজটি করে। তারা ধরেই নেয় কেউ তার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। সম্পর্কেও আমরা এমন মাতালের মতো আচরণ করি, ধরেই নেই সঙ্গী কাজটি করছে আমাদের কষ্ট দেবার জন্য। আমরা ভাবি ছোট ছোট ভুলগুলোর মানে হলো সে আর আপনাকে ভালোবাসে না।

অনেকেই বলতে পারেন, “আমি অনেকদিন ধরে এই মানুষটিকে চিনি। সে কি চিন্তা করছে আমি বুঝবো না তো কে বুঝবে?”

কিছু কিছু ক্ষেত্রে জিনিসটা সত্যি। কিন্তু এখানে আসলে ভুল বোঝাবুঝির জায়গাটাও অনেক বেশি। এই কারণে আসলে আপনি তার মনের অবস্থাটা বুঝতে পারেন না। আবার আপনি যদি আশা করেন সে আপনার মনের কথা বুঝবে, সেটাও সমস্যার সৃষ্টি করে। তিন ধরণের চিন্তা এক্ষেত্রে দায়ী। দেখে নিন সেগুলো কী-

১) দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন

আপনি বিষণ্ণতায় ভুগলে কী হয়? সবকিছু নিয়েই আপনার চিন্তা খারাপ দিকে মোড় নেয়। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব চিন্তা মোড় নিতে পারে খারাপের দিকে। মানুষ যখন প্রেমে পড়ে তখন সঙ্গীর সবকিছুই তার ভালো লাগে, কোন কারণ ছাড়াই। এটা আসলে সম্পর্কের জন্য ভালো। কিন্তু এমন খারাপ সময় আসতে পারে যখন সঙ্গীর প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজের পেছনে খারাপ অর্থ খোঁজে মানুষ। সঙ্গীর যে বৈশিষ্ট্যগুলো ভালো লাগত সেগুলোই এখন হয়ে পড়ে দুচোখের বিষ।

এক্ষেত্রে “মাইন্ড রিডিং” এর দোষটাই বেশি। সঙ্গীর চিন্তাভাবনার ধারণা করতে গিয়ে আপনি যদি ইতিবাচক কিছু ভেবে নেন তাহলে সেটা সম্পর্কের জন্য ভালো। আর নেতিবাচক কিছু চিন্তা করলে সেটা খারাপ ফলাফলই আনবে। দৃষ্টিভঙ্গিতে এমন পরিবর্তন আসতে দেবেন না।

২) অজানা নিয়ম

দেখুন তো এই চিন্তাটা আপনার মাঝে আছে কিনা-

“আমার সাথে সম্পর্কে থাকার কিছু নিয়ম আছে। কিন্তু আমি তোমাকে সেগুলো বলবো না। তুমি না জেনেই যদি একটা ভুল করে ফেলো তাহলে আমি রেগে যাব। তুমি নিয়মগুলো কেন জানো না? সেটা তোমারই দোষ।”

শুনতে খুবই অন্যায় মনে হচ্ছে? আপনি নিজে নিজে নিয়ম তৈরি করলেন, তাকে বললেন না অথচ ধরে নিলেন তার জানার কথা। সে তো আর অন্তর্যামী নয়, আপনি না বললে জানবে কী করে? অথচ এই অনুচিত কাজটাই অনেকে সম্পর্কে টেনে আনেন।

কেউ কেউ ভাবেন, এ ব্যাপারগুলো তো একটু খেয়াল করলেই সে বুঝতে পারে। আমাকে বলে দিতে হবে কেন?

কিন্তু আপনার কাছে যেটা স্পষ্ট সেটা অন্য কারও কাছে স্পষ্ট নাও হতে পারে। একই ঘটনার ব্যাপারে আমাদের একেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম। তাই আপনি যা বুঝেছেন, তিনিও সেটাই বুঝবেন এটা ভাবাটা মোটেই ঠিক নয়। এমন ভুল বোঝাবুঝিই হয়ে উঠতে পারে আপনাদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ। এ কারণে আপনার উচিৎ এমন কোন নিয়ম থাকলে তাকে সরাসরি সেগুলো বলে দেওয়া। কেবলমাত্র তাহলেই তিনি বুঝবেন তার কী করা দরকার।

৩) প্রতীকী অর্থ

প্রতীকী অর্থ মানে বোঝেন তো? একটা জিনিস দিয়ে আরেকটাকে বোঝানো। আমাদের পতাকা যেমন আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক, তেমন করেই। ভাবুন, আপনি কোনো কারণে লেট হয়ে গেলেন এবং আপনার সঙ্গী প্রচন্ড চেঁচামেচি তুলকালাম শুরু করলো। আপনি তো হতবাক! একটু দেরি করার কারণে এমন শাস্তি? তার কারণ হলো এই প্রতীকী অর্থ। আপনি দেরি করে ফেলেছেন, তারমানে আপনি তার ব্যাপারে মোটেও কেয়ার করেন না। আপনি তাকে একটুও ভালোবাসেন না।

তরকারিতে লবণ বেশি হয়েছে? আপনি রাগে গুম মেরে গেলেন। সে ভালো করে রান্না করছে না, তারমানে সে আপনাকে সহ্যই করতে পারে না! সে আপনার সাথে সংসার করতে চায় না!

কি হাস্যকর লাগেছে শুনতে, তাই না? একে অপরের সাথে যোগাযোগের অভাবে এমনটা হয়ে থাকে। আমরা দরকারি ব্যাপারগুলো সঙ্গীকে বলি না অথচ ধরে নেই তারা বুঝবে এগুলোর গুরুত্ব কতো বেশি। আপনি যদি আশা করেন আপনার সঙ্গী এমন অন্তর্যামী হবে তাহলেই শুরু হবে সমস্যা।

এছাড়াও অনেকেই নিজের দিকে সমস্যাগুলো টেনে আনার চেষ্টা করেন। অর্থাৎ সঙ্গীর মেজাজে কোন রকম পরিবর্তন হলেই ভাবেন এটার সাথে তার কোনও সম্পর্ক আছে। “ও চুপ করে আছে, মনে হয় আমার উপরে রাগ,” অথবা, “আজকে রাতে দেরি করে ফিরেছে, মনে হয় আমার রান্না ওর ভালো লাগে না”। এমন চিন্তাগুলো মোটেই ভালো নয়।

সমস্যাগুলো তো চিহ্নিত করা গেলো। এখন সমাধান? সমাধান হলো এটাই, যে নিজেকে বা সঙ্গীকে মাইন্ড রিডিং করতে দেবেন না। কোনো ব্যাপারে বিভ্রান্তি থাকলে তাকে জিজ্ঞেস করুন। আপনার যদি মনে হয় কোন দরকারি ব্যাপার তার জানা উচিৎ তাহলে নিজে থেকেই তাকে জানিয়ে দিন। সবসময় তার কাজের খারাপ অর্থ খুজবেন না। কোনো ব্যাপারে না জানলে ইতিবাচক ধারণা করুন। আর তাকে জিজ্ঞেস করুন, তাহলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। ধরে নেবেন না সম্পর্কে সব দোষ তারই। ভালো কিছু অভ্যাস তৈরি করুন। আপনাদের দুজনেরই সম্পর্ক এটা, দুজনে মিলেই ঠিক করুন।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top