কিনবেন শখের ডিজিটাল ক্যামেরা?

বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ কিছু ব্যাপার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এদের মধ্যে অন্যতম বলা যেতে পারে ফটোগ্রাফি। মোবাইলে ক্যামেরা যুক্ত হওয়ায় অনেকের হাতেই চলে এসেছে ক্যামেরা। ক্যামেরা হাতে পেলেই সবাই শুট করেন। আর এদের মাঝে অনেকেই আগ্রহী হয়ে ওঠেন এ্যাডভান্সড ফটোগ্রাফিতে। তারা মোবাইল ক্যামেরার ছোট জগতে আবদ্ধ না থেকে আরও বড় দুনিয়ায় প্রবেশ করতে চান। তাদের জন্যই আজকের এই লেখা। আর যারা সাধারন কাজ অথবা নিজস্ব ব্যক্তিগত অথবা হোম ইউজের জন্য ক্যামেরা কিনতে চান তাদেরও এ লেখাটি সাহায্য করবে বলে আশা করি।

ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার সময় আমরা সাধারনত যে কাজটি করে থাকি তা হলো বাজারে গিয়ে কিছু দোকানে ঘুরে কিছু মডেল দেখি। তারপর যে মডেলের মেগাপিক্সেল সবচেয়ে বেশি , সেটা চোখ বন্ধ করে কিনে নিয়ে চলে আসি। কেনার পর প্রথম কিছুদিন কোন সমস্যা হয়না। কিন্তু ছয়মাস থেকে এক বছর এর মাথায় যখন মোটামুটি দক্ষ হয়ে উঠি ফটোগ্রাফিতে , তখন বুঝতে শিখি যে ক্যামেরায় কি কি আছে আর কি কি নেই। তখন মনে হয়, যে কেনার সময় একটু একটু খোঁজ খবর করলেই বোধহয় ভালো হত।

শধুমাত্র বেশি মেগাপিক্সেল থাকলেই একটা ক্যামেরা ভালো কাজের হয়না , আরও কিছু জিনিস হিসেবে থাকতে হয়। আরও কিছু জিনিস এর খোঁজখবর করতে হয়। এখন আমরা সেগুলো জানার চেষ্টা করব।

মেগাপিক্সেল-

ডিজিটাল ক্যামেরা কতটুকু ভালো ছবি তুলতে পারবে সেটা যে কয়েকটা জিনিস নিয়ন্ত্রন করে তার মধ্যে একটা হলো মেগাপিক্সেল। তবে যে জিনিসটা হিসেবে আনতে হবে তা হলো সাধারনত বেশি মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা বেশি দামী হয়। তবে বেশি মেগাপিক্সেল থাকলে ছবি বড় করে প্রিন্ট করার সুবিধাটুকু থাকে, আবার কোন ছবিকে এডিট করার সময় কোন অংশবিশেষ কেটে ফেলে দিলেও ছবির মান বেশি একটা ক্ষুন্য হয় না।

জুম-

ডিজিটাল, নাকি অপটিক্যাল, ক্যামেরার ক্ষেত্রে জুম একটি বিশেষ বিষয়। এটি একটি সিস্টেম যেটা দুরের বস্তুকে কাছে এনে ছবি তুলতে পারে। চিন্তা করুন আপনি যেখানে দাড়িয়ে আছেন , আপনার সাবজেক্ট তার থেকে অনেক দুরে। অথচ ভালো ছবি তোলার জন্য আপনাকে তার আরও কাছে যাওয়া দরকার যা আপনি পারছেন না কোন কারনে। এসব ক্ষেত্রে একটাই সমাধান। ব্যাবহার করুন আপনার ক্যামেরার জুম অপশনটি।

ডিজিটাল ক্যামেরায় যখন জুম নিয়ে কথা বলা হয় , তখন যে বিষয়টি অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করা হয় তা হলো ডিজিটাল জুম। অপটিক্যাল জুম ব্যাবহার করলে একটি ছবির কোয়ালিটির কোনরকম ক্ষতি হবার সুযোগ থাকেনা। কারন পুরো ব্যাপারটায় দুরের ছবিকে কাছে এনে বড় করে কাছে আনা হচ্ছে এবং সেই বড় অবস্থাতেই ছবিটি ক্যামেরায় রেকর্ড হচ্ছে। কিন্তু ডিজিটাল জুম যেটা করে তা হলো ছবিটার যে অংশটুকু চাওয়া হচ্ছে , তাই রেখে বাকি অংশগুলো কেটে বাদ দিয়ে দেয়। তারপর কাটা অংশটুকু আবার স্ট্যান্ডার্ড সাইজে আনা হয়। যার ফলে ছবির মান খারাপ হয়ে যায়। যত বেশি ডিজিটাল জুম করা হবে , ছবির মান তত বেশি খারাপ হতে থাকবে।

তাই , ডিজিটাল ক্যামেরা কিনবার সময় তাতে জুম আছে জানলেই চলবেনা , সেটা কি ধরনের জুম তাও জানতে হবে। আবার বেশি ক্ষমতার জুম শুধু হাতে ব্যবহার করা কঠিন। যতবেশি জুম ব্যবহার করা হবে, ছবি তত বেশি কেঁপে যাবার আশঙ্কা থাকবে। হাতের সামান্য নড়াচড়া অথবা শ্বাস নেবার সময়েও ছবির কম্পোজিশন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এটা এড়ানো যেতে পারে ট্রাইপড ব্যবহার করে। কিন্তু ট্রাইপড সবসময় ব্যবহার করা যায় না। তাই ব্যবহার বুঝে জুম বাছাই করুন।

এক্সপোজার সেটিংস-

এক্সপোজার সেটিংস নিয়ন্ত্রন করে ক্যামেরায় কতখানি আলো প্রবেশ করবে। বেশিরভাগ ব্যাবহারকারীর জন্য অটোমেটিক এক্সপোজার ব্যাবস্থা ভালো। যদি আর একটু এডভান্স হতে চান তবে প্রি-প্রোগামড এক্সপোজার আছে কিনা তা দেখে নিতে পারেন। প্রি-প্রোগামড সিস্টেমে বিভিন্ন পরিবেশের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সেটিংস থাকে। তাই নিজের সুবিধা মতো সেগুলো পরিবর্তন করে আপনার পরিবেশের সাথে মানানসই করে নিতে পারেন। যদি সিরিয়াস ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন, এসবের পাশাপাশি ম্যানুয়াল এক্সপোজার সেটিংস থাকলে ভালো।

ব্যাটারী-
যে জিনিসটা অনেকেই খেয়াল করেন না তা হলো পাওয়ার সিস্টেম। ক্যামেরাটিতে কি ধরনের ব্যাটারী ব্যাবহার হচ্ছে তা জেনে নিন। সেই ব্যাটারিতে কতগুলো ছবি তোলা যাবে তা জেনে নিন। যদি তা আপনার সাথে মানানসই না হয় তবে বাড়তি ব্যাটারী ব্যাবহার করার কথা চিন্তা করতে পারেন।

মেমোরী
ক্যামেরা কি ধরনের মেমোরী ব্যাবহার করছে তা জেনে নিন। সেটা কি ইন্টারনাল নাকি এক্সটারনাল তা বুঝে নিন। এক্সটারনাল হলে কত গিগাবাইট পর্যন্ত মেমরী কার্ড ব্যাবহার করা যাবে তা জেনে নিন। এরপরে নিজের ব্যবহার এবং ক্যামেরার ক্ষমতা বুঝে মেমরী কিনে নিন।

এল সি ডি ডিসপ্লে-
ক্যামেরার এল সি ডি ডিসপ্লে কতটুকু বড় তা দেখে নিন। এল সি ডি ডিসপ্লে যত বড় হয় , তত সুবিধা। ডিজিটাল ক্যামেরার সবথেকে বড় মজাটা হলো ছবি তুলবার পর পরই ছবি দেখতে পারা। ফলে ছবি খারাপ হয়েছে মনে হলে আবার ছবি তোলা সম্ভব হয়।

সব জানার পরও অনেক সময় ভুল হয়ে যেতে পারে। ক্যামেরা কেনার সময় এমন কাউকে সাথে রাখুন যে ক্যামেরা চেনে, বোঝে। এর পাশাপাশি যদি আপনি বন্ধুদের কাছ থেকে ক্যামেরা নিয়ে ব্যাবহার করেন, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন কোন অংশটি বেশিগুররুত্বপুর্ণ আর কোনটা কম, কোন ফিচারটি ছাড় দেয়া যেতে পারে আর কোন ফিচারটি রাখতেই হবে, যে কোন ভাবেই হোক। কেনার আগেই বুঝে যান কি কিনতে যাচ্ছেন আপনি।
আশাকরি তথ্যগুলো আপনার কাজে লাগবে। শুভেচ্ছা রইলো।


লিখেছেন-
খন্দকার ইশতিয়াক মাহমুদ

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top