দিনের শুরুতে ভুলেও করবেন না এই ১২টি কাজ

কথায় বলে, মর্নিং শোজ দ্যা ডে, মানে সকাল দেখেই বোঝা যায় সারাটা দিন কেমন যাবে। এই সকালটা যদি হয় যাচ্ছেতাই, তাহলে সারাটা দিনই মেজাজ একেবারে চড়ে থাকে। সকালের প্রথম মিনিট দশেকের মাথায়ই বোঝা যায় আগামি আট ঘন্টা কেমন যাবে। আসলে কী জানেন, এ সময়ে আপনি নিজেই করছেন এমন কিছু ভুল যাতে দিনটাই মাটি হয়ে যাচ্ছে। এসব ভুলের ব্যাপারে জানা যায় Oprah, The Times of India এবং Business Insider থেকে। জেনে রাখুন, আর কখনো যেন এই ভুল না করতে হয়।

১) হুড়মুড় করে ঘুম থেকে উঠেই জিমে দৌড়ানো

সারারাত শুয়ে থেকে আপনার পিঠের পেশীগুলো আড়ষ্ট হয়ে থাকে। সকালে হুড়মুড় করে ঘুম থেকে উঠলে পিঠে ব্যাথা থেকে শুরু করে আরও ভয়াবহ কিছু হতে পারে। এছাড়াও ঘুম থেকে উঠলে দ্রুত পায়ে রক্ত চলাচল শুরু হয় ফলে মাথা ঘুরতে পারে, যেটা নারীদের মাঝে বেশি দেখা যায়। একটা কাজ করতে পারেন, শাওয়ারে ঢুকে পড়ার আগে পা-গুলো বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেন। প্রথমে এক পা এক পা করে, এরপর দুই পা একসাথে। এতে সারা শরীরেই রক্ত প্রবাহিত হবে। হ্যামস্ট্রিং এবং এর আশেপাশের পেশি যদি আড়ষ্ট হয়ে থাকে তাহলে তিন-চারবার স্ট্রেচ করে নিন।

২) পর্দা দিয়ে জানালা ঢেকে রাখা

অন্ধকার ঘর ঘুমানোর জন্য খব ভালো। কিন্তু সকালে ঘর এভাবে অন্ধকার করে রাখলে আপনার ঘুম ঘুম ভাবটা কাটবে না। আপনার শরীরের ভেতরে যে ঘড়িটা আছে সেও ঠিকমত কাজ করবে না। তাই সকালে উঠেই জানালার পর্দা সরিয়ে দিন, সূর্যের আলো পড়তে দিন আপনার চোখেমুখে। এটা আপনার ওজন কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

৩) অফিসে লেট করে ঢোকা

Huffington Post এ আসা এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, কর্মকর্তারা লেট করা কর্মচারীদের সুনজরে দেখেন না। তাদের পার্ফর্মেন্স খারাপ বলেই ধরে নেন। আপনি অফিস থেকে অনেক দেরি করে বের হলেও তারা আপনাকে পছন্দ করবেন না। এ কারণে যতো দ্রুত সম্ভব অফিসে চলে যান।

৪) সহকর্মীদেরকে অভিবাদন না জানানো

অফিসে পৌঁছে সহকর্মীদের সাথে টুকটাক কুশল বিনিময় করলে আপনার লাভ বৈ ক্ষতি হবে না। এতে আপনার মানসিকতা ইতিবাচক হতে পারবে সকাল সকালই। এতে আপনার ব্যাপারে সহকর্মীদের মনেও একটা ভালো ধারণা তৈরি হবে।

৫) নাশতা না করেই কফি পান

সকালে ঘুম থেকেই উঠেই কফি হাতড়ে বেড়ান অনেকে। সকালে না হলেও, অনেকেই অফিসে ঢোকার সাথে সাথে কফির কাপ খোঁজেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, গবেষণা বলে কফি পান করার সবচাইতে ভালো সময় হলো সকাল সাড়ে নয়টার পর। সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যে আমাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা সবচাইতে বেশি থাকে। এ সময়ে কফি পান করলে আমাদের শরীর কর্টিসলের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং আমাদের শরীর ক্যাফেইনের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। এছাড়াও খালি পেটে কফি পান করতে গেলে আপনার পেটের যে ক্ষতি হবে তা তো বলাই বাহুল্য। নাশতা করতে মোটেই ভোলা যাবে না। সকালে নাশতা না করলে ওজন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়া থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস পর্যন্ত হতে পারে।

৬) সব ইমেইলের উত্তর দেওয়া

রাত্রে ইনবক্সে যতো মেসেজ জমা হয়েছে সবগুলো পড়ে উত্তর দেবার ইচ্ছে হতে পারে সকালে, অনেকে মনে করেন এতে একটা কাজ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস স্পিকার মিশেল কারের মতে, অফিসে ঢোকার প্রথম ১০ মিনিটে আসলে ইমেইল পড়ে এদের গুরুত্ব বোঝা উচিৎ। সবচাইতে দরকারিগুলোর উত্তর এখন দিন এবং কম দরকারিগুলো রেখে দিন। এতে আপনি অন্য জরুরী কাজগুলো করার সময় পাবেন।

৭) পরিকল্পনা ছাড়াই কাজে ঝাঁপ দেওয়া

সকালে অফিসে ঢুকে ঠিক কী কী কাজ করা উচিৎ, সবচাইতে দরকারি কাজগুলোর লিস্ট করা এবং ক্যালেন্ডারের রিভিউ করা দরকার। কোনো প্ল্যান ছাড়া কাজ শুরু করলে দেখবেন হয়তো প্রস্তুতি ছাড়াই আপনাকে কোনো মিটিং এ চলে যেতে হচ্ছে। সেটা তো আপনি চান না, তাই না?

৮) সবচাইতে সহজ কাজ আগে করা

গবেষণায় দেখা যায়, দিন যতো আগায়, আপনার শক্তি তত কমতে থাকে। এ কারণে জরুরী কাজগুলো সকাল সকাল শেষ করে ফেলা জরুরী। সহজ কাজ আগে করে ফেললে দেখবেন জরুরী কাজ করার সময়ে মাথা কাজ করছে না।

৯) মাল্টিটাস্কিং

সকালে নিজেকে অনেক কর্মোদ্যম মনে হয়, এ কারণে অনেকেই একগাদা কাজ একসাথে করার চেষ্টা করেন। এটা সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়। এক এক করে কাজ করুন।

১০) নেতিবাচক চিন্তা করা

সকালে হয়তো জ্যামে আটকে অনেকটা সময় বের হয়ে গেছে। অথবা সবচাইতে কাছের মানুষটির সাথে ঝগড়া হয়েছে গত রাতে। কারণ যেটাই হোক না কেন, সকাল সকাল সেটা নিয়ে চিন্তা করে মেজাজ বিষিয়ে ফেলা মোটেই কাজের কথা নয়। সকালেই এসব চিন্তা আলাদা একটা বাক্সে ভরে ফেলুন, দরকার হলে এগুলো নিয়ে পরে চিন্তা করবেন।

১১) সকাল সকাল মিটিং

What the Most Successful People Do Before Breakfast এর লেখক লরা ভ্যান্ডারকাম জানান, সকালে করা উচিৎ এমন সব কাজ যাতে মনোযোগ দরকার হয়, যেমন লেখালেখি। এ সময়ে মিটিং করতে গেলে আপনার মস্তিষ্কের ক্ষমতা অযথা খরচ হবে।

১২) রুটিন ছাড়াই চলা

গবেষকেরা বলেন, আপনার মানসিক ক্ষমতার একটা সীমা আছে। সুতরাং এটাকে বুঝেশুনে ব্যবহার করা উচিৎ। একটা রুটিন ঠিক করে নিলে দিনের শুরুতেই আপনাকে মাথা খাটিয়ে বের করতে হবে না কখন লাঞ্চ করবেন, কখন কফি পান করবেন, কখন রিপোর্টটা সাবমিট করবেন এসব ছোট ছোট খুঁটিনাটি। এতে আসলে জরুরী কাজ করার সুযোগ পায় আমাদের মস্তিষ্ক।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top