নিজেকে যথেষ্ট সম্মান করছেন তো?

প্রতিটি মানুষ একে অপর থেকে আলাদা। আর আছে তাদের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য, ভিন্ন ভিন্ন গুণ যা তাদেরকে অন্যদের চাইতে আলাদা করে। জীবনে চলার পথে অনেক সময় আমাদের পরিস্থির চাপে সমঝোতা করতে হয়। কিন্তু তা করতে গিয়ে নিজেকে অসম্মান করা একদম উচিত হবে না। সবসময় মনে রাখা উচিত যে আপনি নিজে যদি নিজেকে প্রাপ্য সম্মান না করতে পারেন, তবে অন্যেরা কীভাবে আপনাকে সম্মান করবে? আপনি নিজেকে নিজে অসম্মান করছেন কিনা তা বোঝা যায় কিছু আপনার করা কিছু কাজ দেখে।

১। সবাইকে হ্যাঁ বলা

একজন মানুষের পক্ষে সবার কাছে ভাল হয়ে থাকা সম্ভব নয়।সবার সঙ্গে ভাল হয়ে চলাটা নিজের ক্ষেত্রেই কখনও কখনও বিপজ্জনক হতে পারে। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে খালি অন্য কারোর চোখে ভাল হতে গিয়ে হয়তো আপনি কোন কাজে হ্যাঁ বলেছেন। আর এটি করে আপনি নিজেকে অসম্মান করছেন। নিজের সময়, নিজের শ্রমকে মূল্য দিন। অতিরিক্ত কিছু করতে গিয়ে নিজেকে নিজের কাছে ছোট করা থেকে বিরত থাকুন।

২। অভিনয় করা

কখনও কখনও সুবিধা পাওয়ার জন্য আমরা এমন কিছু করি যা আমাদের স্বভাববিরুদ্ধ। আমরা যা নই তা হবার অভিনয় করি। যাতে অন্যদের চোখে ভাল হতে পারি, এবং অন্যদের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে পারি। কিন্তু এতে আপনি নিজেকেই অসম্মান করছেন। কারণ আপনি যেমন, তেমনভাবে নিজেই নিজেকে গ্রহণ করতে পারছেন না। তাহলে অন্যেরা কীভাবে গ্রহণ করবে?

৩। অন্যদের সাথে সহমত প্রকাশ করা

অন্যদের মতের সাথে যদি আপনার নিজের মত মিল থাকে, তবে তা সমর্থন করতে পারেন। কিন্তু কিন্তু যদি আপনার মতবিরুদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ক্ষমতা দেখে অন্যদের কথার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করা মানে আপনি নিজেকে দুর্বল মনে করছেন। অন্যের ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে পারছেন না। এতে আপনি নিজেকেই নিজে অসম্মান করছেন।

৪। অন্যের কথামত চলা

আপনি কি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন না? অন্যের কথা শুনে চোখ বন্ধ করে তা বিশ্বাস করে নিজে যাচাই না করেই কাজ করেন, এটি কখনই ঠিক নয়। এর অর্থ হল আপনার নিজস্ব মতামত নেই, আপনার নিজের উপর বিশ্বাস নেই। অন্য কেউ আপনাকে ব্যবহার করতে পারে সে সুযোগ আপনিই তাদের করে দেন। এটা করে আপনি নিজেই নিজেকে অসম্মান করছেন।

৫। আপনি শুধু তখনই খুশি থাকেন, যখন সবকিছু ঠিক থাকে

এটি মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। যখন জীবনের সবকিছু নিজের পরিকল্পনা মত হয়ে থাকে, তখন মানুষ সবচেয়ে বেশি সুখী থাকে। কিন্তু জীবন সবসময় আপনার ইচ্ছা মত চলবে না। এর মাঝে ব্যর্থতা আসবে। জীবনকে অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে গ্রহণ করুন। যেখানে সফলতা আছে, ব্যর্থতা আছে। কোন কাজে ব্যর্থ হলে, হতাশ হয়ে নিজের প্রতি বিশ্বাস হারাবেন না। যেকোন পরিস্থিতিতে নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন।

৬। নিজের আবেগকে লুকিয়ে রাখা

যা মনের মধ্যে রয়েছে তা সবার সামনে প্রকাশ করুন। কে কী মনে করল তা নিয়ে চিন্তা করা বন্ধ করুন। অন্যের কথা চিন্তা করে নিজের আবেগকে অবহেলা করবেন না। যদি কেউ আপনাকে অপমান করে বিড়াম্বনায় ফেলে তবে পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করুন। আপনি ভীতু বা কাপুরুষ নন প্রমাণ করুন।

৭। নিজের কথা ভাবুন

নিজের কথা চিন্তা করা মানুষকে স্বার্থপর বলে থাকি। কিন্তু জীবনে কখনও কখনও নিজের কথা চিন্তা করতে হয়। আপনি যখন নিজের কথা না ভেবে শুধুমাত্র অন্যদের খুশি কথা খেয়াল রাখেন, তবে নিজেকে অবহেলা করা হবে। আপনার ভাল লাগা- খারাপ লাগা তাদের কাছে গুরুত্ব পায় না। তাই বাকিদের কথা ভাবার সাথে সাথে নিজের কথাও ভাবুন।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top