ব্যস্ত জীবনে গৃহকর্মী সমস্যা সমাধানের কিছু কার্যকরী টিপস!

আজকালকার ব্যস্ত জীবনে গৃহকর্মী হচ্ছে এক আবশ্যকীয় উপাদান। বিশেষ করে যারা কর্মজীবী, তাঁদের তো গৃহকর্মী ছাড়া সবদিক সামাল দেয়া রীতিমত অসম্ভব। আর এই কারণে গৃহকর্মী নিয়ে কমবেশি নাকাল হচ্ছি কিন্তু আমরা সবাই। কারণে-অকারণে কাজে না আসা, দীর্ঘদিনের ছুটি নেয়া, অত্যধিক খরচ, ভালো গৃহকর্মী না পাওয়া ইত্যাদি সমস্যা যেন লেগেই আছে নিত্যদিন। দেখা যাচ্ছে গৃহকর্মী রাখতে গিয়ে আরামের চাইতে যন্ত্রণাই যেন হচ্ছে বেশি।  তাহলে উপায়? চলুন, আজ জেনে নিই এমন কিছু টিপস যা গৃহকর্মী নিয়ে আপনার হয়রানি কমাবে অনেকটাই।

১) যারা খুব ব্যস্ত, বিশেষ করে যারা কর্মজীবী, তাঁরা কখনোই একজন গৃহকর্মী রাখবেন না। বিশেষ করে ছুটা বুয়া হলে অবশ্যই দুজন রাখুন। তাতে একজন একদিন বাদ দিলে বা ছুটিতে গেলে আপনি আরেকজনকে পাচ্ছেন। না, এতে কিন্তু খরচ বাড়বে না। ছুটা বুয়ারা কাজ প্রতি পেমেন্ট নিয়ে থাকে। ধরুন আপনি একজন বুয়াকে দিয়েই ৩ টি কাজ করাচ্ছেন। এর বদলে দুজন রাখবেন। একজনকে দিয়ে দুটি, একজনকে দিয়ে একটি- এভাবে আপনার যেমন সুবিধা হয় তেমন ভাগ করে নেবেন।

২) গৃহকর্মী রাখার আগেই তাঁর সাথে ছুটির ব্যাপারে আলোচনা সেরে নিন। নির্দিষ্ট ছুটির বাইরে অধিক ছুটি কাটালে যে পেমেন্ট কম পাবে, সেটা স্পষ্ট করে বলে নিন। এই শর্তে যে রাজি হবে, তাঁকেই কাজে রাখুন। এতে দেখবেন নির্দিষ্ট ছুটির বাইরে অকারণে বাদ দেয়ার অভ্যাস অনেক কমবে।

৩) দুজন গৃহকর্মী রাখলে দুজনকে দুই সময়ে আসতে বলুন। সবচাইতে ভালো হয় একজনকে সকালে ও একজনকে বিকালে বা সন্ধ্যায় আসতে বললে। এতে আপনারই সুবিধা। দুই বেলাতেই ব্যস্ত সমে একজন সাহায্যকারী পাবেন।

৪) খরচ কমানোর জন্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কাজ করান। যেমন, একদিন ঘর মোছা বা কাপড় ধোয়ার মত ভারী কাজ বাদ দিয়ে তাঁর বদলে আসবাব বা জানালা পরিষ্কার করান বা মশলা পেশান। এতে অল্প খরচে আপনার সব গুলো কাজই হয়ে যাচ্ছে। যে কাজটি রোজ করানোর প্রয়োজন নেই, সেটা অহেতুক রোজ না করিয়ে বদলে আরেকটি কাজ করিয়ে নিলেই খরচ অনেকটা কমে আসে।

৫) গৃহকর্মী ছুটিতে যাওয়ার আগে কিছু কাজ অগ্রিম করিয়ে রাখুন, যেগুলো করতে আপনার অসুবিধা হয়। যেমন, মশলা পিষে রাখুন বা ভারী কাপড় গুলো ধুয়ে রাখুন। এছাড়াও ঝামেলা কমাতে ফ্রিজে কিছু রুটি পরোটা বানিয়ে রাখতে পারেন, মাংস কষিয়ে বা মাছ ভেজেও রাখতে পারেন। বাজার করে ফ্রিজে ওঠানোর সময় ভালো করে কেটে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখাবেন। এতে গৃহ কর্মী কয়েকদিনের ছুটিতে গেলে বা একদিন না আসলেও আপনার খুব একটা অসুবিধা হবে না।

৬) অনেক বাড়িতেই গৃহকর্মীর বড় একটি দায়িত্ব হচ্ছে বাসন মাজা। একদিন মানুষটি কাজে না এলে এই বাসন মাজা নিয়ে বিপাকে পড়ে যান অনেকেই, বিশেষ করে পুরুষেরা। এই সমস্যা এড়ানোর জন্য কিছু বাড়তি বাসন কোসন রাখবেন ঘরে। তাতে আপনার নিজেরই কষ্ট কমবে।

৭) বাড়িতে মেহমান আসার কথা শুনলে অনেক গৃহকর্মীরই কাজ বাদ দেবার প্রবণতা দেখা যায়। বেশি মানুষ, বেশি কাজ- এমনটাই ভেবে থাকে তাঁরা। সেক্ষেত্রে মেহমানের জন্য বাড়তি কাজ করতে হলে গৃহকর্মীকে আলাদা ভাবে টাকা দিন। এতে খুশি মনেই কাজটি সে করবে।

৮) সবচাইতে ভালো হয় গৃহকর্মীর ওপরে ক্রমশ নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজের ওপরে বা যন্ত্রের ওপরে নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করা। যেমন ওয়াশিং মেশিন, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, ডিশ ওয়াসার ইত্যাদি যন্ত্রের ব্যবহার শিখে ফেলা। বাড়ি সবাইকে নিজের কাজটি নিজে করতে শেখালেও যথেষ্ট ফল পাওয়া যায়।

গৃহকর্মী নিয়ে তিক্ততার আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শেষ নেই। আমার ব্যক্তিগত জীবনে যে টিপসগুলো কাজে আসে, পাঠকের জন্য তুলে ধরলাম সেটাই। তবে আমার মনে হয় সবচাইতে জরুরী ভালো ব্যবহার করা। অকারণে খাটুনির কাজ করিয়ে নিজেকে দিয়ে একটু বিবেচনা করে যদি আমরা কাজ করাই, তাঁর সুবিধা অসুবিধা বুঝে যদি নিজেরাও একটু কন্সিডার করি এবং সর্বোপরি সম্মান ও আন্তরিকতার সাথে আচরণ করি, বিপদে আপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই, তাহলে গৃহকর্মী নিয়ে সাধারণত কোন সমস্যা হয় না। এরপরেও যদি সমস্যা হতে থাকে, তাহলে বুঝবেন যে সময় এসেছে গৃহকর্মী পরিবর্তনের।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top