স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে ইচ্ছাশক্তি বাড়ানোর সাতটি উপায়

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুরু করা কোনো সহজ বিষয় নয়। বহু মানুষ এ বিষয়টি শুরু করে আবার পিছিয়ে যান কিংবা অভ্যাস ত্যাগ করেন। ফলে তাদের নির্দিষ্ট রুটিন ধরে শারীরিক অনুশীলন কিংবা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছা মাঠে মারা যায়। এ কারণে দরকার মানসিক শক্তি বাড়ানো। আর মানসিক শক্তির মাধ্যমেই ধরে রাখা সম্ভব স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হাফিংটন পোস্ট।
১. ইচ্ছাশক্তি যদি হয় সীমিত, তাহলে আপনার তা সংরক্ষণ করতে হবে। একসঙ্গে অনেকগুলো ইচ্ছা প্রকাশ করবেন না। ধরুন আপনি নতুন একটি রুটিন কঠোরভাবে মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে আপনি যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, ডায়েটিং করবেন, তাহলে তা আপনার ইচ্ছাশক্তিকে বিক্ষিপ্ত করে দেবে। এ কারণে নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে ইচ্ছাশক্তি নিয়োজিত করতে হবে। এরপর সে লক্ষ্য সাধন হলে তারপর ভিন্ন কোনো বিষয়ে নজর দেওয়া যেতে পারে।
২. মাংসপেশির দিকে নজর দিন। মানসিকতাকেও মাংসপেশির মতো করে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। মাংসপেশির ব্যায়াম শুরু করলে প্রথমবার কখনোই আপনাকে ৫০ পাউন্ড ওজনের কোনো জিনিস ওঠাতে হবে না। সপ্তাহব্যাপী কোনো প্রোগ্রামের বদলে সপ্তাহে দুই বা তিন দিনের প্রোগ্রামই এজন্য যথেষ্ট। ধরুন, স্বাস্থ্যকর খাবারে মনযোগ দিতে আপনি অভ্যাস করছেন। এজন্য একসঙ্গে সব খাবার পরিবর্তন না করে খাবারের তালিকা থেকে বাদ দিন একটি বা দুটি করে অস্বাস্থ্যকর খাবার।
৩. আপনার রক্তের সুগারের মাত্রা সব সময় পর্যবেক্ষণ করুন। গণ্ডগোল এড়াতে এ ধরনের চর্চায় কখনোই বাড়াবাড়ি করবেন না। সারা দিন ছোট ছোট খাদ্যগ্রহণ আপনাকে মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারে। এ কারণে আপনার লক্ষ্য রাখতে হবে খাদ্যতালিকায় যেন প্রয়োজনীয় সব ধরনের খাবার থাকে।
৪. আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার ইচ্ছাশক্তি কমে যাচ্ছে মিষ্টি খাবার খাওয়ার লোভ সামলাতে পারছেন না, তাহলে সে জন্যও প্রস্তুতি নিন। পরিস্থিতি সামলানোর জন্য একটি মিষ্টি খাবার সাময়িকভাবে তালিকায় রাখতে পারেন।
৫. ঘুমের ঘাটতি বিশেষ করে রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমানো মস্তিষ্কের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে ক্ষুধার মাত্রাতেও পরিবর্তন হয়। আপনার যদি কম ঘুমানো অভ্যাস থাকে তাহলে এক ঘণ্টা করে ঘুম বাড়িয়ে নিন।
৬. আপনি যদি ব্যায়াম কিংবা স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়তে সমস্যায় পড়েন তাহলে চিন্তা করুন, একবার এক্সারসাইজ কিংবা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পর আপনার কতোটা ভালো বোধ হয়। এরপর চিন্তা করুন একটি বাজে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পর আপনার মানসিক অনুভূতি কেমন হয়।
৭. প্রতিদিন সামান্য কয়েক মিনিটের মেডিটেশন আপনার মানসিক শক্তিকে অনেকখানি শক্তিশালী করে তুলবে। এতে আপনার মস্তিষ্কের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়বে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top