সাফল্য পেতে ব্যবহার করুন আপনার কণ্ঠস্বর!

কন্ঠ মানুষের জীবনের অন্যতম একটি বড় হাতিয়ার। না, কোন কন্ঠশিল্পী বা বক্তার কথা বলছি না, একজন খুব সাধারন মানুষ, এমনকি আপনার জীবনকেও অনেকটাই পরিচালিত করতে পারে আপনার কন্ঠ। গবেষণায় পাওয়া যায় একজন মানুষ কতটুকু সফল হবে তার অনেকটাই নির্ভর করে তার কন্ঠের ওপর। জীবনের সফলতার স্বপ্নটাকে আরো কাছ থেকে দেখার জন্যে, পুরোপুরি নিজের করে নেওয়ার জন্যে বেশ কিছু উপায়ে আপনাকে সত্যিই সাহায্য করতে পারে আপনারই কন্ঠ। কিন্তু কি করে? চলুন জেনে নিই এক নজরে।

১. নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে

মানুষ নেতা হিসেবে তাকেই চায় যার ওপর সে ভরসা করতে পারে সবচাইতে বেশি। আর এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কন্ঠ যার ভারী ও গমগমে, ব্যাক্তিত্ত্বসম্পন্ন তার ওপরেই সবচাইতে বেশি নির্ভর করে মানুষ। দেখা গিয়েছে, এরকম ভারী কন্ঠের অধিকারী নারী ও পুরুষের ভেতরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ বেশি থাকে ( বিজনেস ইনসাইডার )। আর তারা হয়ে থাকে যথেষ্ট শক্তিশালী আর উত্তেজনাপূর্ণ। যদিও ভালো নেতা হবার জন্যে শারিরীক শক্তি বা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার ক্ষমতার কোন দরকার নেই, তবুও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে মানুষ এমন কাউকেই চায় যে তার কথার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করতে পারবে সবাইকে, দিতে পারবে আশ্বাস।

২. চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে

২০১৪ সালে চালানো একটি গবেষণায় দেখা যায় যে, নীচু ও মিনমিনে আওয়াজে কথা বলা মানুষের পক্ষে চাকরি পাওয়াটা খুবই দুষ্কর হয়ে পড়ে ( বিজনেস ইনসাইডার )। অল্প আওয়াজে বলা কথা খুব সহজেই আপনার ভেতরে কিছু একটা লুকিয়ে রাখার প্রবণতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব ও আরো নানারকম নেতিবাচক ব্যাপার প্রকাশ করে ফেলে। আর তাই চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় কন্ঠের অধিকারীরাই এগিয়ে থাকেন অন্যদের চাইতে।

৩. নিজেকে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে

একটি গবেষণায় দেখা যায় যে, কথা বলার শেষ দিকটায় যারা অনেক বেশি জোর দিয়ে থাকেন বা জোরের সাথে উচ্চারন করেন, যাদের কন্ঠ বাক্যের শেষ অংশে উচ্চ হয়ে যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের ভেতরে আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। এছাড়াও কথা বলার সময় যারা উচ্চগ্রামে কথা বলেন তাদেরকে নিন্মগ্রামে কথা বলা ব্যাক্তিদের তুলনায় অস্থির, কম বিশ্বাসী ও ভীত বলে মনে করা হয় ( কমিউনিকেশন কেইচ )।

৪. মানুষকে কোন ব্যাপারে রাজী করার ক্ষেত্রে

গবেষণায় দেখা যায় যে, কোন কিছুর জন্যে কাউকে মানানোর বা সম্মতি পাওয়ার সবচাইতে ভালো উপায় হচ্ছে খুব দ্রুত কথা বলা ( ফার্স )। কারণ তাতে করে সামনের মানুষটি একই সাথে অনেক কিছু শোনার ফলে সেটাকে বুঝতে ও সিদ্ধান্ত নিতে খুব কম সময় পায়। সামনের মানুষ যেটাকে ঠিক বলে বোঝানোর চেষ্টা করছেন সেদিকেই ঝুঁকে পড়ে বেশি।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top