চুড়ি ফিতা গামছা…

বৈশাখ মানেই অনেক রঙের খেলা। রঙিন বৈশাখকে আরেকটু রঙিন করে তোলে নানা রকমের অনুষঙ্গ। সেটি হতে পারে পোশাকের, হতে পারে সাজের। অনেকে তো ছবি ভালো করার জন্যও জোগাড় করে রাখেন ফুলের ব্যান্ড, গামছা বা পাখা। নিজেকে দেখতে একটু ভিন্ন লাগল। আবার ছবিটাও সুন্দর হলো।
ব্যাগ
পয়লা বৈশাখের সকালেই বেরিয়ে পড়েন অনেকে। ফলে খুব ভারী ব্যাগ না নেওয়াই ভালো। বটুয়া ধরনের ব্যাগ নিতে পারেন। আবার ক্লাচ ব্যবহার করা যেতে পারে। কম বয়সী মেয়েরা আজকাল একটু ঝোলানো ছোট আকারের ব্যাগ ব্যবহার করছে। সেদিনও তা নিতে পারেন। তবে পানির বোতল, ছাতা নেওয়া যায় কি না, তা খেয়াল করবেন আগেই। আর মেকআপ ঠিকঠাক রাখার জন্য কমপ্যাক্ট লিপস্টিক নিতে পারেন সেই ব্যাগে।
অনেকের মধ্যে একটু আলাদা কিছু করতে চাইলে পোশাকের কাপড়ের সঙ্গে মিলিয়ে গামছা দিয়েও তৈরি করতে পারেন ব্যাগ। পাটের তৈরি নকশা করা ব্যাগ, হাতের কাজ করা ব্যবহারের চলও আছে। বিডস, কুন্দনের ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।
গরম থেকে রেহাই পেতে নানা রকমের পাখা পাওয়া যায়। মেলা থেকে কিনতে পারেন। আবার আগে কিনেও ব্যাগে রেখে দিতে পারেন। তালপাতার পাখার চারপাশে কাপড় দিয়ে কুঁচি দিলে বেশি ভালো দেখাবে। সেসব পাখা অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করে ছবি তুলে ফেসবুকে দিলে লাইক একটু বেশিই পড়তে পারে।
টিপ, চুড়ি, ফিতা.
‘ভালে সিন্দুরের টিপ, নয়নে কাজল/রক্তাম্বর পট্টবাস, সোনার আঁচল/শুধাইল দর্পণেরে-কহো সত্য করি/ধরাতলে সবচেয়ে কে আজি সুন্দরী’-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বিম্ববতী’ কবিতায় লিখেছিলেন এমন কথা। তখন আয়নার সামনে কপালে টিপ, চোখে কাজল দিয়ে নিজের মধ্যেই হয়তো মুগ্ধতা এসে পড়ত। পয়লা বৈশাখের সাজগোজ টিপ, চুড়ি, ফিতা না হলে যেন পরিপূর্ণ হয় না। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কাচের চুড়ি পরেন মেয়েরা। অনেকে মেলায় গিয়ে চুড়িওয়ালির কাছ থেকে হাতভর্তি করে কাচের চুড়ি কেনেন; চুড়ি ভেঙে হাত কেটে যাওয়ার ভয়ে কাঠ, মাটি বা তামার চুড়ি পরেন।
কম বয়সী মেয়েরা বেণিতে ফিতা দিয়ে নানা রকম নকশা করতে পারে। ফিতা দিয়ে মাথার দুই পাশে দুই বেণি বা বেণি করে খোঁপাও করা যায়। এবার গুঁজে দাও তাজা ফুল। নান্দনিক নকশার চুলের কাঁটা ব্যবহার করলেও ভালো দেখাবে।
যাঁরা টিপ পরেন না, পয়লা বৈশাখে তাঁদের টিপ পরতে দেখা যায়। একটা সময়ে কুমকুম দিয়ে কপালে টিপ আঁকতেন মেয়েরা। এখন বাজারে ভিন্ন রকমের নকশা করা টিপ পাওয়া যায়। ছোট টিপ, বড় টিপ যেকোনো ধরনের টিপ আরও অনন্য করে তুলবে আপনাকে।
শরৎচন্দ্রের অরক্ষণীয়া উপন্যাসেও মাধুরীর চওড়া লালপেড়ে শাড়ি, পিঠের এলো চুল, কপালে টিপের সাজে তাঁকে স্বর্ণপ্রতিমার মতো লাগছিল। চোখের পলক পড়ে না এমন অবস্থা। বোঝাই যাচ্ছে, আবহমান কাল ধরে এই সাধারণ বিষয়গুলো কবি-সাহিত্যিকের গল্প-উপন্যাসেও উঠে এসেছে।
পয়লা বৈশাখে সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে মুখচিত্র স্থান পেয়েছে। দেশীয় মোটিফ, যেমন: প্যাঁচা, ঢাক, ঢোল, একতারা, তবলা, পালকি, কলস, পাখা আঁকেন মুখে। রং-তুলির ছোঁয়া দিয়ে কেউ কেউ শুধু বাংলায় লিখে নেন ‘পয়লা বৈশাখ’। ব্যস, ঘুরতে ঘুরতে এটিও আনন্দ দেয় ছোট-বড় সবাইকে।.
ফুলের ব্যান্ড, ব্যান্ডানা ও গামছা
দুই-তিন বছর ধরে নানা রকম ফুল দিয়ে বানানো গোল ব্যান্ডের চল দেখা যাচ্ছে পয়লা বৈশাখে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের নারীরা এটি পছন্দ করছেন। একজন আরেকজনকে তাজা ফুলের ব্যান্ড পরিয়ে দিচ্ছেন। ঢাকার শাহবাগের ফুল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পয়লা বৈশাখের দিনে খুব চাহিদা থাকে ব্যান্ডের। অনেকে ফুল পছন্দ করে দিয়ে ব্যান্ড বানিয়ে দিতে বলেন। .
কম বয়সী ছেলেরা বেছে নেয় ব্যান্ডানা। পয়লা বৈশাখের দিনে ফেরি করে কিছু ব্যান্ডানা বিক্রি করতে দেখা যায়। সেখান থেকেও কেনেন তরুণেরা। রুমালকেও ব্যান্ডানার মতো করে ব্যবহার করতে পারেন। বাড়িতে সেলাই মেশিন থাকলে চাইলে নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন ব্যান্ডানা।
তরুণদের একটা বড় অংশ বৈশাখের প্রথম দিনে মাথা ও কোমরে গামছা পরে। সাধারণত ওই দিন আবহাওয়া গরম থাকে। ‘গা মোছা’ থেকে গামছা শব্দটি এলেও ঘাম মুছতে বেশি ব্যবহার করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াসাত সারা বছর গামছা ব্যবহার করেন না, শুধু পয়লা বৈশাখের দিন পাঞ্জাবির সঙ্গে বেছে নেন ছোট গামছা। ‘আগেই গামছা কিনে ধুয়ে রাখি। নরম হয় তাহলে। গলায় ঝুলিয়ে রাখি। মাথায়ও ব্যান্ডানার মতো করে বাঁধি। বেশ একটা ভাব আসে। আমরা আটজন বন্ধু সবাই গামছা পরি সেদিন।’ বলেন রিয়াসাত।
স্যান্ডেল
দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে হয় বৈশাখের প্রথম দিনে। তাই পায়ের স্যান্ডেল বা জুতার দিকে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে। একেবারে নতুন স্যান্ডেল না পরাই ভালো-মনে করেন ডিজাইনার মাহিন খান। এতে পায়ে ফোসকা পড়তে পারে। যদি নতুন পোশাকের সঙ্গে নতুন স্যান্ডেল পরতে চান, তাহলে বাড়িতে কয়েক দিন আগে পরে হাঁটাচলা করতে হবে। মেয়েদের খুব উঁচু স্যান্ডেল না পরে পাম্প শু বা ফ্ল্যাট কিছু পরাই ভালো। একান্তই পরতে হলে ছোট হিলের স্যান্ডেল পরতে পারেন। পায়ে আরাম না থাকলে ঘোরাটাই বৃথা হয়ে যাবে। কোলাপুরি, পাথরের কারুকাজ করা স্যান্ডেল বেশ চলছে।
ছেলেরা জুতাও পরতে পারেন। আবার স্যান্ডেল শুও বেছে নিতে পারেন। যাঁরা স্লিপার পরে অভ্যস্ত, তাঁদের তা-ই পরা উচিত। স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না এমন কিছু পরবেন না। জিনস বা চুড়িদারের সঙ্গে নাগড়া বেশ ভালো মানায়।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top