রান্নাঘরে ঝক্কি নয়

রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে হুট করে যদি তেল পড়ে যায় চুলার ওপর, কার না মেজাজ বিগড়ায়! চুলার তাপে ব্যস্ততার সময়টাতে যদি দরকারি জিনিসটাই খুঁজে না পান, কেমন লাগে ভাবুন তো? হঠাৎ করে সিঙ্কে পানি আটকে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।
এসব সমস্যা এড়াতে কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখা প্রয়োজন। আর হঠাৎ সমস্যায় পড়লে কী করতে হবে, সেটিও জেনে রাখা ভালো।

খেয়াল রাখুন সিঙ্কের
হঠাৎ করে সিঙ্কে পানি আটকে গেলে ঝামেলায় পড়েন অনেকেই। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা শরীফ জানালেন, সিঙ্কের নিচের পাইপটা নেড়েচেড়ে পরিষ্কার করে দিলে অনেক সময় এ ঝামেলা থেকে মুক্তি মেলে। পাইপের নিচের অংশটি খুলে পরিষ্কার করে নিলেও উপকার পাওয়া যায়।
রান্নাবিদ ফাতিমা আজিজ জানান, সিঙ্কে পানি আটকে গেলে হাতের সাহায্যে কিছুক্ষণের জন্য ছিদ্রগুলো বন্ধ রেখে এবং কিছুক্ষণের জন্য খোলা রেখে দেখতে পারেন। এভাবে কয়েকবার প্রক্রিয়াটি করার পর সমস্যার সমাধান হতে পারে। পাম্পার কেনা থাকলে সেটির সাহায্যের কিছুক্ষণ বাতাস যেতে দিয়ে এবং কিছুক্ষণ বাতাস আটকে রেখে দেখা যেতে পারে কয়েকবার। জমে থাকা পানি মগ দিয়ে তুলে কমিয়ে নেওয়ার পর বেকিং সোডা মেশানো সিরকার মিশ্রণ ছড়িয়ে রাখতে পারেন সিঙ্কে। সারা রাত এভাবে রেখে দিলে সমস্যাটি দূর হতে পারে।

এসবের পরেও সমস্যা না মিটলে মিস্ত্রি ডেকে সমস্যাটি সারিয়ে নিতে হবে। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের প্রভাষক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, এমন সমস্যা এড়াতে প্রতি বেলা রান্নার কাজ সেরে কুসুম গরম পানির সঙ্গে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে নিয়ে সেই পানি দিয়ে সিঙ্ক পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করলে প্লাস্টিকের পাইপের ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া খেয়াল রাখতে হবে, কাঁচা মরিচের বোঁটা বা খাবারের আঁশযুক্ত যেকোনো অংশ এবং তেল-চর্বিজাতীয় পদার্থ যেন কখনোই সিঙ্কে ফেলা না হয়। এ ছাড়া সিঙ্কের আশপাশের পুরো জায়গাটিই শুকনো রাখতে চেষ্টা করতে হবে।

চুলা চলুক নির্বিঘ্নে
চুলার নিচের ফাঁকা জায়গা এবং চুলার আশপাশের দেয়ালসহ যেসব অংশ চিটচিটে হয়ে যায়, সেগুলো তিন বেলাই পরিষ্কার করা উচিত। কুসুম গরম পানিতে তরল সাবান মিশিয়ে নিয়ে মিশ্রণটি স্টিল বা প্লাস্টিকের স্ক্রাবারে লাগিয়ে নিন। স্ক্রাবারের সাহায্যে এ জায়গাগুলো পরিষ্কার করলে চিটচিটে ভাব থাকবে না। সবশেষে অবশ্যই শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
আবার পাতলা কাপড় বা ফোমে কুসুম গরম পানি ও তরল সাবানের মিশ্রণ লাগিয়ে নিয়ে কাপড় বা ফোমের সাহায্যে চুলার নিচের ফাঁকা জায়গা এবং আশপাশের জায়গাগুলো ভিজিয়ে নিতে পারেন। এভাবে ১-২ মিনিট রেখে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। তবে চুলার যেকোনো কাজই খুব সাবধানে করতে হবে, যেন গ্যাসপাইপ থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
ফাতিমা আজিজ জানালেন, রান্না শেষে চুলা বন্ধ করে রাখার পর একদম ঠান্ডা হয়ে গেলে চুলার বিভিন্ন অংশ আলাদা করে নেওয়া যেতে পারে। একটি পাত্রে গরম পানি ও তরল পরিষ্কারক নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে ফেনা করতে হবে। এবার চুলার বিভিন্ন অংশ এই মিশ্রণে ২-৩ ঘণ্টার জন্য ডুবিয়ে রাখতে হবে। প্রতিটি অংশের দুটি পাশই পরিষ্কার করা হয়ে গেলে নরম কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছতে হবে। এর ফলে তেলচিটচিটে ভাব দূর হবে। চুলার অংশগুলো আলাদা করার পরে পাতলা সুতি কাপড়ে একই ধরনের মিশ্রণ লাগিয়ে নিয়ে কাপড়টি দিয়ে চুলার উপরিভাগও পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। সব কটি অংশ পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার পর সেগুলোকে পুনরায় সেট করে ফেলতে হবে। চুল্লির মধ্যকার ছিদ্রগুলো সোজা আলপিনের সাহায্যে পরিষ্কার করা যেতে পারে, তবে এ কাজে টুথপিক ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ টুথপিক ব্যবহার করতে গেলে সেটি ভেঙে গিয়ে ছিদ্রগুলো আটকে যেতে পারে।
হঠাৎ চুলার ওপর তেল পড়ে গেলে চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা করার পর কিচেন টাওয়েলের সাহায্যে তেলটা মুছে নিন (কিচেন টাওয়েল কিছুটা পেপার ন্যাপকিনের মতো, যেটি রোল করা অবস্থায় কিনতে পাওয়া যায়)। এরপর চুলা আবার জ্বালাতে পারবেন।

চিটচিটে ভাব নয়
ফারহানা শরীফ জানালেন, হঠাৎ রান্নাঘরের মেঝেতে তেল বা তৈলাক্ত কোনো পদার্থ পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা উচিত। তারপর জায়গাটি সাবান-পানি দিয়ে মুছে নিয়ে সবশেষে আবারও শুকনো কাপড় দিয়ে মুছতে হবে। তা না হলে কেউ পড়ে গিয়ে আঘাত পেতে পারেন।

উত্তাপ কমাতে
তাসমিয়া জান্নাত জানালেন, রান্নাঘরের যে স্থানে চুলা থাকে, তার ঠিক উল্টো দিকে এগজস্ট ফ্যান থাকা উচিত। তাহলে চুলার উত্তাপ বাইরে বেরোতে পারবে সহজেই। এ ছাড়া রান্নাঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

নিশ্চিন্তে রান্না
রান্নাঘরে কাটা-বাছার সরঞ্জাম এবং সবজি, চাল প্রভৃতি ধোয়ার পাত্র নির্দিষ্ট স্থানে গুছিয়ে রাখুন। রান্নার প্রয়োজনীয় মসলার কৌটাও গুছিয়ে রাখুন একদিকে। এর ফলে প্রয়োজনের সময় সবই খুঁজে পাবেন।
আর রাঁধুনির স্বস্তির জন্য রান্নাঘরে চুলা, চপিং বোর্ডসহ সবই রাখতে হবে আরামদায়ক উচ্চতায়। সিঙ্কের উচ্চতাও আরামদায়ক হওয়া প্রয়োজন। আমাদের দেশের মানুষের গড় উচ্চতার হিসাবে এই সব কটির উচ্চতাই হওয়া উচিত ৩৬ ইঞ্চি।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top