স্ত্রীকে কখনোই যে কথাগুলো বলবেন না

একজন স্ত্রী যেমন স্বামী ছাড়া পরিপূর্ণ নন তেমনি একজন স্বামীও স্ত্রী ছাড়া পরিপূর্ণ নন। সৃষ্টিগতভাবেই আল্লাহ মহান এদের একজনকে অপরজনের সহায়ক এবং মুখাপেক্ষী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। একজন আদম দ্বারা কখনোই পরিপূর্ণতা লাভ করত না এই ধরাধাম। একজন হাওয়ার আগমন ঘটিয়েছিলেন তাই আল্লাহ মহান। পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ স্থাপিত না হলে পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়া যায় না, শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করা যায় না, এমনকি জান্নাতও লাভ করা যাবে না।

স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসায় খুনসুটি আর মান-অভিমান স্বাভাবিক ব্যাপার। তবু কখনো তা মাত্রা ছাড়িয়ে গেলেই শুরু হয় সম্পর্কের টানাপোড়েন। প্রিয় মানুষের অনেক ব্যথা সহ্য হলেও অনেক সময় ছোট্ট একটি কথাও অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়। এমনি কিছু কথা রয়েছে যা বললে বা শুনলে খুব সহজেই ক্ষেপে যেতে পারেন আপনার স্ত্রী। তাই জীবনে সুখী হতে স্ত্রীকে অনেককিছুই বলা যাবে না। যেমন –

* নিজের মা বা অন্য কারো সঙ্গে তুলনা টেনে কোনও কথা তাকে বলতে যাবেন না। এটাও কিন্তু স্ত্রীর মনে খুব আঘাত আনে। মনে রাখবেন, মা মায়ের জায়গায়। স্ত্রী স্ত্রীয়ের জায়গায়।

* পরস্ত্রীর রূপের প্রশংসা তার সামনে একেবারেই করবেন না। কখনও বলবেন না, অমুকের স্ত্রী সুন্দরী, তমুকের প্রেমিকা দারুণ। নিজেকে স্ত্রীর স্থানে বসিয়ে বিচার করে দেখুন এটা কতোটা বিব্রতকর। দেখবেন আপনিও স্ত্রীর মুখে পরপুরুষের প্রশংসা সহ্য করতে পারছেন না।

* বয়স নিয়ে তাকে কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা ঠিক হবে না। এটি তাদের কাছে খুব স্পর্শকাতর বিষয়। সবসময় মনে রাখবেন, তিনি আপনার কাছে চিরযুবতী হয়েই থাকতে চান। বরং তাকে সুন্দর থাকার নানা ধরনের টিপস দিতে পারেন।

* স্ত্রীকে খাবার বানানোর জন্য কর্কশভাবে হুকুম করা ঠিক হবে না। তার মাঝে আপনার প্রয়োজন বোঝার মতো মানসিকতার বিকাশ ঘটান। সে নিজে থেকেই আপনার জন্য তৃপ্তিদায়ক খাবার তৈরি করবে। মাঝেমধ্যে আপনিও তাকে রান্নাঘরের কাজে সাহায্য করতে পারেন। এতে সম্পর্ক ভালো ছাড়া খারাপ হবে না।

* নিজের পরিবার সম্পর্কে গোপণ কোনো কথা আবেগের বসে তাকে শেয়ার না করাই ভালো। এমনকি নিজের ব্যাপারেও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো অতীত শেয়ার না করা ভালো। তবে নিজেদের বর্তমান সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল থেকে নমনীয় আচরণ করা উচিৎ। এতে তার মনেও কোনো ধরণের প্রশ্ন জন্মাবে না।

* স্ত্রী হঠাৎ রেগে গেলে বুদ্ধিমানের মতো কাজ হবে তখন চুপ থাকা। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আলোচনা করতে পারেন। নিজের খারাপ লাগাগুলো তখনই বলুন। কিন্তু স্ত্রীর মাথা গরমের সময় দুটো বাড়তি কথা বলে আগুনে কর্পূর ছিটিয়ে দেবেন না। মাথা ঠাণ্ডা হলে তার ভালো মন্দের বিচার বোধ জাগিয়ে তুলতে আপনার অবস্থানে থেকে বুঝিয়ে বলুন। মনে রাখবেন, সুখী দাম্পত্য চাইলে স্ত্রীকে ঠাণ্ডা রাখাই হল আসল।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মোমিনদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ বৃদ্ধির জন্য একটি চমৎকার পন্থা বাতলে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘তোমরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার না হবে, তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ স্থাপন করবে। আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের কথা বলব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠিত হবে? সাহাবিরা বললেন, নিশ্চয় ইয়া রাসুলাল্লাহ! (তিনি বললেন) ‘তোমাদের মধ্যে বহুল পরিমাণে সালামের প্রচলন করো।’ (মুসলিম : ৮১)।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top