লক্ষ্য অর্জন করতে চান? না বলুন অভ্যাসকে!

ঘুম থেকে দ্রুত ওঠা, খাবারে ঠিকঠাক ডায়েট মেনে চলা, পোশাকের ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা থেকে শুরু করে আপনার জীবনে এমন অনেক অনেক অভ্যাস রয়েছে যেগুলো চেতন অথবা অবচেতন মনে তৈরি করেছেন আপনিই। যেগুলো আপনার অজান্তে তৈরি হয়ে গিয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে তো কিছু করার নেই, তবে এদের ভেতরে বাকী যে অভ্যাসগুলোকে আপনি নিজে একটু একটু করে নিজের জীবনে এনেছেন কোন একটা লক্ষ্য অর্জনের জন্যে, সেগুলো ঠিক কতটা সাহায্য করছে আপনাকে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছতে? আদৌ কোন ইতিবাচক ভূমিকা কি আছে এসব অভ্যাসের আপনার জীবনের লক্ষ্য অর্জনের পেছনে?

না! নেই। তবে এই কথাটা আমার না, বিশেষজ্ঞদের। গবেষণার মাধ্যমে পাওয়া তথ্য তাদেরকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছে যে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে থাকা অভ্যাসগুলো আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে সাহায্য করে না, বরং বাঁধা দেয়। কীভাবে? বলছি। তবে এর উত্তর জানতে হলে প্রথমে আমাদেরকে বুঝতে হবে মস্তিষ্ক কী করে কাজ করে।

মস্তিস্ককে এক্ষেত্রে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়।

১. প্রিমিটিভ ব্রেইন

২. মডার্ন ব্রেইন

প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষেরা তিনটি কারণেই কাজ করত।

১. খাবার খোঁজা

২. সঙ্গী খোঁজা এবং

৩. হিংস্র শ্বাপদদের কাছ থেকে বেঁচে থাকা

তবে তাদের যেহেতু অন্যান্য প্রাণীদের মতন কোন বিশেষ শরিরীক বৈশিষ্ট্য ছিলা, সুতরাং মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা প্রিমিটিভ ব্রেইন সাহায্য করল তাকে। প্রিমিটিভ ব্রেইন দ্বারা মোট তিনটি জিনিস পরিচালিত হয়। খাবার খোঁজা, সঙ্গী খোঁজা এবং বিশ্রাম নেওয়া।

অন্যদিকে প্রি-ফ্রন্টাল করটেক্স নামে পরিচিত মডার্ন ব্রেইন মানুষের মস্তিষ্কে কাজ করা শুরু করে অনেকটা সময় পর। যখন মানুষ আবিষ্কার করে যে একা নয়, বরং একসাথে কাজ করলেই সেটা সবার জন্যে ভালো। নিয়ম তৈরি হয়, সেই নিয়ম পরিচালনার জন্যে মানুষ নির্ধারণ করা হয় এবং নিয়ম পালনের জন্যে কাজ করতে শুরু করে মডার্ন ব্রেইন। যে কিনা প্রিমিটিভ ব্রেইনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারত সহজেই।

আপনি যখন কোন লক্ষ্য অর্জনের জন্যে অভ্যাস রপ্ত করেন বা কোনরকম অভ্যাসের সাহায্য নেন তখন প্রিমিটিভ ব্রেইন কাজ করতে শুরু করে পুরোদমে। কারণ, অভ্যাসের দিকটাও খেয়াল রাখে এই মস্তিষ্কই। ফলে অন্য অনেক বিষয়ে নজর দিতে পারেন না আপনি। কারণ, দীর্ঘস্থায়ী মডার্ন ব্রেইনের বদলে স্বল্পস্থায়ী প্রিমিটিভ ব্রেইন এক্ষেত্রে কাজ করে আর নির্দিষ্ট কিছু ব্যাপারের বাইরে বেশিকিছু ভাবতে পারেনা প্রিমিটিভ ব্রেইন।

অভ্যাস রোধের কৌশল

বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই একটি অভ্যাস তৈরি হয়ে গেলে সেখান থেকে ফেরাটা বেশ কষ্টের হয়ে তাকে। এই যেমন- ধুমপান করা। এক্ষেত্রে সবাই ধুমপায়ীকে ধুমপান করতে না করেন। কিন্তু গবেষকদের মতে, এসময় কোনকিছু করতে নিষেধ না করে বরং অভ্যাসটি সম্পর্কে তাকে কৌতুহলী করে দেওয়াটাই সবচাইতে ভালো উপায়।

কেউ যখন নিজের অভ্যাস সম্পর্কে কৌতুহলী হবে এবং নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করতে শুরু করে, ব্যাপারটা প্রিমিটিভ ব্রেইনের কাজ থেকে মডার্ন ব্রেইনে চলে যায়। ফলে অভ্যাসের যে টান সেটা আলগা হয়ে যায়। একটু একটু করে এভাবেই অভ্যাসটিকেও ছেড়ে ফেলা যায়। তাই চেষ্টা করুন অভ্যাস থেকে দূরে থাকতে আর দীর্ঘস্থায়ী মস্তিষ্ককে আরো বেশি কাজ করার সুযোগ দিয়ে লক্ষ্য অর্জনের পথ মসৃণ করতে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top