উজ্জ্বল কিশোরী

ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে গলায় ভারী গয়নাপোশাকের নিচের অংশে উঁচুনিচু কাটদিন তিনেক আগের কথা। পুরোনো ছবির অ্যালবাম ঘাঁটছিলাম। মনে মনে হোঁচটই খেলাম। কিশোরী বয়সের ছবিগুলোর সঙ্গে এখনকার কিশোরীদের মেলানো যাচ্ছে না। পোশাক-আশাক, চাল-চলনে বদলটা চোখে পড়ার মতোই। এক অথবা দুই বেণি, সালোয়ার-কামিজ বা সাধারণ কাটের ফ্রক, কানে-গলায় ছোট গয়না। আগের প্রজন্মের বেশির ভাগ কিশোরীর সাজ-পোশাক এমনই ছিল। ১০-১২ বছর পর এখন ভিন্ন দৃশ্য। কিশোরীরা এখন অনেক সাবলীল। প্রায় সব ধরনের পোশাকই পরছে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। ঈদের বাজার ঘুরে সেই চিত্রই পাওয়া গেল। আধুনিক কাট, রঙিন নকশা আর আরামদায়ক কাপড়—সব মিলিয়েই এবারে কিশোরীদের পোশাকে এসেছে বেশ ভিন্নতা।
ফ্যাশন হাউসগুলো এখনকার কিশোরীদের ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই পোশাক বানাচ্ছে। ইন্টারনেটের যুগে সব তথ্য তো ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে। ফিউশনধর্মী স্টাইলের অনেকটাই যেন সেখান থেকে বেছে নেওয়া। ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘কিশোরীরা এখন যেন বয়সের থেকেও বড় হয়ে গেছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এখন তাদের আর ফ্রেমে আটকানো যাচ্ছে না। তারা সবকিছুই এখন বহন করতে পারে। তারা এখন এতটাই স্মার্ট যে শাড়ি থেকে সালোয়ার-কামিজ, সবই পরছে। আমরা এখন সেটা মাথায় রেখেই কাজ করছি।’
পোশাকের কাটগুলো এ বছর নজর কাড়ছে বেশ। ভিন্ন ধরনের কাটগুলো বেশ নিচ্ছে কিশোরী ক্রেতারা। সালোয়ার-কামিজ, কুর্তা, টিউনিক, ফ্রক ইত্যাদি পোশাকের নিচের অংশটায় বেশ উঁচু-নিচু ঢেউয়ের মতো করে কাটা। নতুন ধারা অনুযায়ী কুর্তার সামনের নিচের দিকটা ছোট, পেছনের দিকটা বেশ লম্বা। একটু ঢিলেঢালা কাটই রাখা হচ্ছে। কারণ, এখন গরমকাল। টিউনিকগুলো করা হচ্ছে মূলত সোজা কাট দিয়ে। সিঙ্গেল কুর্তা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। নিচের অংশটা কিশোরীরা নিজের মতো করে মিলিয়ে নিচ্ছে। কুঁচির ব্যবহার হচ্ছে সামনের দিকে। গলায় বোট নেক, কলার প্রভৃতি থাকবে।
পালাজ্জো, প্যান্টের নিচের অংশে আসছে নকশাপালাজ্জো, চাপা প্যান্ট, সালোয়ারের নিচের অংশে প্রিন্ট বা হাতের কাজ দেখা যাচ্ছে এবার। অনেকে কামিজের সঙ্গে সালোয়ারের বদলে স্কার্ট নিচ্ছে। পোশাকে কারচুপি, সুতার কাজ, জারদৌসি এবার বেশ দেখা যাবে বলে জানালেন ডিজাইনার মায়া রহমান। তিনি জানান, নরম কাপড়ে তৈরি পোশাকগুলো কিশোরীদের জন্য আরামদায়ক হবে। সিল্ক, জর্জেট, শিফন, সুতির পোশাকগুলো তারা ভালো বহন করতে পারবে।
একসময় কিশোরীদের পোশাকে কালো রংটা খুব একটা প্রশংসা পেত না। এখন রঙের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য পছন্দ করছে এই বয়সের মেয়েরা। কালো, সাদা, হালকা— যেকোনো রং পোশাকে বহন করছে তারা। তবে উজ্জ্বল রংগুলো তাদের বেশি মানায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। হলুদ, নীল, সবুজ, কমলা, গোলাপি, কালো, লাল, বেগুনি—সব রংই রাঙাচ্ছে তাদের পোশাকগুলো। প্রাইড গ্রুপের পরিচালক মুহাম্মদ এ মোমেন মনে করেন, আমাদের দেশে কোনো রঙের ধারাকে অনুসরণ করা হয় না। উৎসবের সময় সব রংই ফুটে ওঠে পোশাকে। তিনি বলেন, ‘এবার আমরা ফুলেল নকশা নিয়ে কাজ করছি। এতে একটা রঙিন পরিবেশ পাওয়া যাবে পোশাকে। ভিসকস কাপড়ের ওপর ফুলেল এবং বিমূর্ত ডিজাইন করা হয়েছে। পোশাকের ওপর বসানো হয়েছে পাথর। দেওয়া হয়েছে ফয়েলের কাজ।’
অনেক সময় কিন্তু গয়নার ওপর নির্ভর করেও পোশাক বেছে নেওয়া যায়। কিশোরীরা একটু ভিন্নতা আনতে এ ফ্যাশনটি বেশ ভালোভাবেই করছেন। এখন ভারী গয়নার চল। রুপা, অক্সিডাইজড ধাতু, বিডস, কাঠ, সুতা ব্যবহার করে বড় নকশার গয়না বানানো হচ্ছে। সঙ্গে লম্বাটে ধরনের পুঁতির মালাও চলছে। গয়নার একটা সাধারণ নিয়ম—গলায় ভারী মালা হলে কানে ছোট দুল ভালো লাগবে। একইভাবে কানে যখন বড় দুল ঝুলবে, গলায় থাকবে হালকা মালা। তবে কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো না। কোনো পোশাক, গয়না, জুতা যদি বহন করতে না পারা যায়, তাহলে সেটা না পরাই ভালো। কিশোরীদের সাজ নিয়ে আমরা সব সময়ই বলে এসেছি যে এ বয়সে মেকআপ ব্যবহার না করাটাই ভালো। এ বয়সের সৌন্দর্য অন্য কোনো বয়সে পাওয়া যাবে না। কাজল আর হালকা রঙের লিপস্টিক ছাড়া অন্য কোনো কিছু লাগানোর প্রয়োজনীয়তা নেই। বরং পোশাক, গয়না, জুতা, ব্যাগের ওপর মনোযোগ দিয়ে পুরো সাজটাতে ভিন্নতা আনা যায়।

কুর্তার দৈর্ঘ্য বুঝে নিচের অংশটি বেছে নেওয়া ভালোশ্রাগ বা পঞ্চো, ছোট বা লম্বা কটি চলছে ঈদ ফ্যাশনেউজ্জ্বল হলুদ রঙের কামিজের সঙ্গে কানে গোলাপের ঝাড়। পোশাকের রং উজ্জ্বল না হলেও গয়নার রং ও নকশা নজরকাড়া।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top