পরিপাটি ঘরের কোণ

সারাদিনের শত ব্যস্ততার পর একটু আশ্রয়ের খোঁজে সবাইকে ফিরতে হয় তার আপন নীড়ে। সি্নগ্ধতায় ঘেরা নিজের ছিমছাম ঘরটি যেন নিমিষেই দূর করে দেয় সারাদিনের সব ক্লান্তি। ঘর বড় হোক বা ছোট, তার প্রতিটি কোণে থাকা চাই প্রশান্তির ছাপ। তাই মনের মতো সাজিয়ে নিন আপনার প্রিয় অন্দরটি। অন্দরসজ্জার শুরুটি হতে পারে ঘরের কোণ থেকে। কারণ পুরো ঘরের সাজসজ্জাকে পাল্টে দিতে পারে ঘরের কোণের নজরকাড়া সাজ। ঘরের কোণকে ফোকাস করার জন্য ব্যতিক্রমী ডেকোরেশনের বিকল্প নেই। একটি লম্বা ফুলদানি বা বড় কোনো ভাস্কর্য রাখতে পারেন ঘরের কোণ ঘেঁষে অথবা মাটির পটারি থাকতে পারে। চাইলে একটি পানিভর্তি পাত্রে কিছু ভাসমান মোম দিয়ে সেটি রেখে দিতে পারেন ঘরের এক কোনায়। অতিথি এলে জ্বালিয়ে দিন মোমগুলো। সি্নগ্ধ আলোয় আলোকিত ঘর প্রশান্তি নিয়ে আসবে মনে। ঘরের কোণের দেয়ালে রাখতে পারেন তাক বা শেলফ। প্রতিটি তাকে দৃষ্টিনন্দন কিছু শোপিস সাজিয়ে রাখুন। ক্রিস্টাল বা কাচের হতে পারে শোপিসগুলো। আবার ঘরে দেশি আমেজ নিয়ে আসতে চাইলে বাঁশ, বেত বা পাটের শোপিস রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাকগুলো হতে পারে কাঠের। চমৎকার আলো-আঁধারি বা শেডের খেলায়ও সাজাতে পারেন ঘরের কর্নার। যেমন শোপিস রাখার তাকগুলো যদি গ্গ্নাসের হয় তবে ওপরে স্পটলাইট রেখে দিন। এতে স্পটলাইটের আলো প্রতিটি তাক ভেদ করে নিচের দিকে নেমে এসে আলোকিত করবে ঘরের কোণ। শুধু স্পটলাইটের আলোতেই নয়, কর্নারকে আলোকিত করার কাজে ব্যবহার করতে পারেন ল্যাম্পশেড। ঘরের কোণে একটু বড় আকারের একটি স্ট্যান্ড ল্যাম্পশেড ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে পারে বহুগুণ।

আজকাল বাঁশ, কাগজ ও কাপড়ের তৈরি ল্যাম্পশেড বেশ জনপ্রিয়। আবার ছায়া নিয়ে খেলতে চাইলে ঝালর রাখতে পারেন কর্নারের টেবিলে। ঝালর থেকে ছিটকে বের হওয়া রঙিন আলো স্বপি্নল করে তুলবে রাতের পরিবেশকে। ওপর থেকে ঝুলন্ত ল্যাম্পশেড ঝুলিয়ে বা সিলিংয়ে স্পটলাইট বসিয়েও আলোকিত করতে পারেন ঘরের কর্নার। ঘরের কোণ একটু ব্যতিক্রমী করার জন্য দেয়ালকে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন ঘরের দেয়ালে এক্সপোজ ব্রিকের বা প্লাস্টার ছাড়া কাজ করা থাকলে সেটি এনে কর্নারে মিলিয়ে দেওয়া যায়। দেয়ালে টেরাকোটা রাখতে পারেন বা সুদৃশ্য কোনো পেইন্টিং ঝুলিয়ে দিতে পারেন। সবুজের সি্নগ্ধতায় ঘরের কোণ সাজাতে পারেন ইনডোর প্লান্টসের সাহায্যে। গোল কাচের জারের মধ্যে মানিপ্লান্ট লাগিয়ে একটা কর্নার তুলে দিলেই তরতরিয়ে বাড়তে থাকবে সেটি। আর একটু একটু করে বদলে দেবে ঘরের পরিবেশ। বসার ঘরের কোণে ক্যাকটাস, সাইকাসসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ রাখা যেতে পারে। আবার লম্বা কোনো পাত্রে লতা জাতীয় উদ্ভিদ রাখতে পারেন। কোণ দিয়ে বেয়ে ওঠা সবুজ গাছ ঘরে নিয়ে আসবে সজীবতা। আবার কর্নারের সাইড টেবিলে রাখা ফুলদানিতে গুঁজে দিতে পারেন একগুচ্ছ তাজা ফুল। এটি সবার নজর কাড়বেই। যাদের ঘর ছোট তারা কর্নার শুধু শোপিস দিয়ে না সাজিয়ে যদি ব্যবহার করতে চান, তবে সেটাও করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন জায়গাটি ব্যবহার করা হয়, আবার দেখতেও সুন্দর লাগে। যেমন বসার ঘরের কর্নারে টিভি কেবিনেট রাখতে পারেন। এতে ঘরের যে কোনো জায়গা থেকে টিভির দিকে নজর যাবে সহজেই। শোবার ঘরে খাট এমনভাবে রাখতে পারেন যেন সাইড টেবিলটি কর্নারে রাখা যায়। এতে ঘরের কোণটি সুন্দর দেখাবে। আবার টেবিলে ল্যাম্প, টেলিফোন বা ফটোফ্রেমের মতো জিনিসগুলোও রাখা যাবে। ডাইনিং রুমের দেয়াল ঘেঁষে কেবিনেট রাখতে পারেন। বসার ঘর বা শোবার ঘরের কোনা দিয়ে র‌্যাক বা শেলফে রাখতে পারেন শখের গল্পের বই। যেভাবেই সাজান না কেন, আপনার রুচিবোধ আর সৃজনশীলতার ছোঁয়া যেন থাকে ঘরের কোণে কোণে। টিপস কর্নার জাঁকজমকভাবে সাজালে ঘরের অন্যান্য জিনিসপত্র হালকা নকশার হওয়া জরুরি।

ঘরের অন্যান্য আসবাবের সঙ্গে একদমই যায় না, এমন কোনো কিছু কর্নারে রাখবেন না। যেমন ঘরে বেতের সোফা থাকলে কর্নারে গ্গ্নাসের ব্যবহার করবেন না।

ঘরের কোণে সহজেই ময়লা জমে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top