স্বর্ণ-রৌপ্য দিয়ে দাঁত-নাক বাঁধানোর বিধান

জড় পদার্থ বলতে জমাট বাধা এমন পদার্থকে যা ক্রমবর্ধনশীল নয়। এ ছাড়া কোনো উদ্ভিদ বিংবা প্রাণীর সাথেও এর কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন, সোনা, রূপা, পিতল, লোহা পাথার ইত্যাদি। এ জাতীয় যে কোনো বস্তুকে চিকিৎসারে জন্য ব্যবহার করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। এ জাতীয় বস্তু থেকে তৈরি ঔষধ সেবন করা, শরীরের ভেতরে কিংবা বাইরে কৃত্রিম কোনো উপায়ে ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। প্রমাণ হলো- হজরত রাসূল (সা.) একবার হজরত আরফাজাকে (রা.) প্রথমে রূপার পরে সোনার তৈরি কৃত্রিম নাক স্থাপনে অনুমতি দিয়েছিলেন। (ফতওয়ায়ে আলমগিরী)।

হাদিসটি হলো- আরফাজা ইবনু আসআদ (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জাহিলী আমলে কুলাবের যুদ্ধে আমার নাক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। আমি রুপার একটি নাক বাঁধিয়ে নিলাম। কিন্তু আমি তাতে দুৰ্গন্ধ অনুভব করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি স্বর্ণের নাক বানিয়ে নিতে বললেন। [সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত], অধ্যায়: ২২/ পোশাক পরিচ্ছদ, হাদিস নম্বর : ১৭৭০]

অথচ তার এই স্বর্ণের নাসিকা স্থাপনে তার বিশেষ কোনো কষ্টের কারণ ছিল না। বরং দৃশ্যমান একটি ত্রুটি দূর করার উদ্দেশ্যেই হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই অনুমতি দিয়েছিলেন। আর এর ভিত্তিতে আমাদের ফকীহগণও স্বর্ণ ও রূপা দিয়ে দাঁত বাঁধানোর অনুমতি দিয়েছেন। (খোলাসাতুল ফাতাওয়া)।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top