সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না? আপনিই বেশি স্মার্ট!

ঘুমকাতুরে? সকাল সকাল ঘুম থেকে ডাকলেই মেজাজ গরম হয়ে যায়? ‘ঘুমিয়েই তো জীবনের অর্ধেক সময় নষ্ট করে দিলে…’ শুনতে হয় এই গঞ্জনা? এ বার এর মোক্ষম জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। তাও বিজ্ঞাননির্ভর জবাব। মা হোক স্ত্রী – সকালে ঘুম থেকে তোলার জন্য ‘পাগলামি’ শুরু হলে সটান বলে দিন, ‘যাঁরা সহজে বিছানা ছাড়তে পারেন না, তাঁরা আসলে বেশি বুদ্ধিমান।’

না, আমরা নই। এ কথা বলছেন গবেষকরা। ২০০৯ সালে এলসভিয়ারে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রথম অ্যালার্ম শুনেই যাঁরা ভোর-ভোর উঠে পড়েন, তাঁদের থেকে আপনি বেশি স্মার্ট, বুদ্ধিমান ও সুখী। ‘কেন রাতের পেঁচারা বেশি বুদ্ধিমান’ শীর্ষক গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কখন আপনি ঘুমোতে যাবেন, কখন ঘম থেকে উঠবেন এটা যদি আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে আপনি অন্যদের থেকে বেশি বুদ্ধিমান, বেশি সৃজনশীল ও বেশি সুখী।

অধ্যাপক সন্তোষী কানাজাওয়া ও কাজা পেরিনার গবেষণা বলছে, পারিপার্শ্বিক দায়িত্ব-কর্তব্যই আমাদের ঘুমের বিলাসিতা ছাড়তে বাধ্য করে। শরীরের ঘুমের বোতামটি অফ করে দেয়। এই বোতামের তোয়াক্কা না-করে বাইরের যাবতীয় কাজ-কর্মকে দূরে সরিয়ে রেখে প্রয়োজন মতো ঘুমিয়ে নিতে পারেন, তাঁরাই বেশি বুদ্ধিমান হন। কারণ তাঁদের ব্যক্তিগত এনার্জি যথেষ্ট বেশি থাকে।

এছাড়াও ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, যাঁরা রাত ১১টায় ঘুমোতে যান আর সকাল ৮টায় ওঠেন, তাঁরা সুখী ও আশীর্বাদধন্য জীবনযাপন করেন। তাঁরা বেশি অর্থও উপার্জন করেন। কাজেই আমাদের সবার অ্যালার্ম দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত। ১২ ঘণ্টা ঘুমোন উচিত। আর যখন উঠতে ইচ্ছে করবে, তখনই ঘুম থেকে উঠুন।

তাই বলে আবার অত্যধিক ঘুমোবেন না। তাও খুব-একটা স্বাস্থ্যকর নয়। পরিমিত ঘুমোন। যা আপনাকে সুস্থ ও ফুরফুরে রাখবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top