শবে মিরাজের ইবাদত

যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ বুধরাব রাতে মুসলিম বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে মিরাজ। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কুরআনখানি, নফল নামাজ, জিকির, ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে পবিত্র শবে মিরাজ উদযাপন করছেন।
পবিত্র শবে মিরাজের নির্দিষ্ট কোনো আমল, দোয়া ও নামাজ না থাকলেও মুসলিম জনগোষ্ঠী এই রাতে নফল নামাজ, দোয়া ও ইবাদত করে থাকেন।এই রাতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করে আল্লাহর দিদার লাভ করেন এবং মানব জাতির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে আসেন।মুহাদ্দিসীনগণ এই রাতের ইবাদত কী হবে তা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, এ রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত তথা কুরআন তেলাওয়াত করা, অধিকহারে দরুদ পাঠ করা এবং নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। কারণ এ রাতেই মহান আল্লাহ মহানবী (স.) এর মাধ্যমে উম্মতের জন্য নামাজ ফরজ করেন।হাদীস শরীফে ইরশাদ রয়েছে, নবী করীম (স) বলেন, কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসেব হবে। তাই ফরজ নামাজ ঠিক রেখে নফল নামাজ যত বেশি পড়া যায় ততই আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে ঠাঁই পাওয়া সহজ হবে।এক হাদীসে রয়েছে, ফরজের পর নফল নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমতের যত নিকটবর্তী হয়, অন্য কোনো আমলে তা সম্ভব হয় না। তাই এ রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। তবে নামাজের জন্য রাকাত সংখ্যার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বরং এই রাতে সামর্থ অনুযায়ী জামাত ব্যতীত অনির্দিষ্টভাবে নফল নামাজ পড়া এবং নিজের ও সকল মুসলমানের জন্য দোয়া করা উচিত।শবে মিরাজে নামাজের রাকাত সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যেই প্রকৃত পুণ্যতা নয়; বরং একাগ্র ও আন্তরিকতা সহকারে অল্পসংখ্যক নামাজই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যথেষ্ট। তাছাড়া সকল প্রকার নামাজেই সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কোনো সূরা নির্দিষ্ট নেই। যার কাছে যেভাবে সহজ মনে হবে, সেভাবেই নামাজ আদায় করে নেবেন।শবে মিরাজের পরদিন অর্থাৎ ২৭ রজব নফল রোজা রাখা যেতে পারে। বর্ণিত আছে, রাসূলে আকরাম (স) যখন মিরাজ ভ্রমণে যান তখন তিনি রোজা অবস্থায় ছিলেন। তাই তাঁর স্মরণে রোজা পালন করা অবশ্যই ফজিলত হিসেবে গণ্য হবে। তবে যে কোনো নফল রোজার ক্ষেত্রে শরীয়তের বিশেষ মূল নীতি হলো, অন্তত একসঙ্গে দুটি রোজা রাখা।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top