কেমন_হবে_আপনার_ইবাদত

আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’য়ালা মানুষ ও জ্বিন কে সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। আর আমরা মানুষেরা যেটা করি সেটা হলো ইবাদত তো করিই না এবং অনেক ক্ষেত্রেই আল্লাহর আদেশ অমান্য করি,আর যারা ইবাদত করি তাদের মধ্যেও অনেকেই আল্লাহর হুকুম সরাসরি অমান্য করি,কথাটি তিতা হলেও সত্যি।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনের অনেকগুলো সূরাতে সালাতের কথা বলেছেন। ইসলামে সালাত হলো সর্বপ্রধাণ ইবাদত,যার হিসাব আল্লাহ সবার আগে নিবেন। তাহলে আমরা কি এই সালাত আদায় করি? আর করলেও এর থেকে কি কোন শিক্ষা নেই?

আযানে যখন বলা হয়,নামাজের দিকে এসো,তারপরই বলা হয় কল্যানের দিকে এসো। এর মানে কি? নামাজের দিকে যাওয়া মানেই তো কল্যানের দিকে যাওয়া তাই না? কল্যান টা কার? কল্যানটা আপনার,কল্যানটা মানুষের। কিন্তু যদি আপনি সালাত আদায় করে এসেই ঘুষ খাওয়া শুরু করে দেন,খাবারে ভেজাল মেশান,মানুষের হক নষ্ট করেন তাহলে? তাহলে সেই নামাজ যেটা আপনি পড়লেন সেটা আপনাকে কি শেখালো? নামাজ পড়লেতো আপনার বিশুদ্ধ হবার কথা,আল্লাহর ভয়ে ভীত হবার কথা। আপনি কি ভাবছেন? নামাজ আদায় করলাম হয়ে গেল ইবাদত? এই নামাজ যদি আপনাকে খারাপ কাজ থেকে না ফেরায়,মিথ্যা বলতে বাঁধা না দেয় তাহলেতো আপনি ভন্ডামি ছাড়া আর কিছুই করছেন না।

আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’য়ালা আপনাকে সারাদিন সারারাত মসজিদে পরে থাকতে বলেননি,এটাও বলেননি যে ঘন্টার পর ঘন্টা আমাকে সিজদা দিয়ে বসে থাকবে। শুধু অল্প কিছু ফরজ ইবাদত দিয়েছেন যেটা আপনাকে করতেই হবে আপনার নিজের জন্যই। আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় না করলে আল্লাহর কি হবে বলুনতো? কিছুই হবে না,তাঁর ভান্ডার তো অফুরন্ত,তিনি তো অসীম,তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। বরং আমরাই তাঁর মুখাপেক্ষী। সালাত হলো আল্লাহর সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম,যাতে আপনি পবিত্র থাকতে পারেন আর পবিত্রতাই হলো আপনার সারাদিনের ইবাদত।

বেশ কিছুদিন আগে আমাকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন,এতো ইবাদত করে লাভ কি? আমি তো শুনেছি ইবাদত করেও অনেকে জাহান্নামে যাবে।

আমি উনাকে বলেছিলাম,
আপনি ঠিক বলেছেন,তাহলে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন।
বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে খেতেই হবে,কিন্তু খেলেই কি আপনি বাঁচতে পারবেন?
উনি চুপ করে ছিলেন,কিছু বলছিলেন না। আমি উনাকে বললাম,জান্নাতে যেতে হলে আপনার ঈমাণের সাথে সাথে আমলও থাকতে হবে। আর সেইজন্য ইবাদত অবশ্যই করতে হবে। তবে সেই ইবাদত হতে হবে সহিহ শুদ্ধ ইবাদত। আপনি শুধু খেলেই হবে না,খাওয়াটা হতে হবে আপনার জন্য উপকারী,পুষ্টিকর। আর যদি আপনি এমন খাবার খান যাতে আপনার কোন উপকারতো হবেই না বরং বিভিন্ন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে তাহলে কি লাভ খেয়ে?

এখন কেউ যদি এমন কোন ইবাদত করে যেটা করতে বলা হয়নি,যেটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত নয়,কিংবা যদি রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত) করে তাহলে কি সে জান্নাতে যেতে পারবে?

ইবাদত করুন সহিহ শুদ্ধ ভাবে,এবং দেখুন সেই ইবাদত আপনাকে ইসলামে যা নিষিদ্ধ সেইসব কাজ থেকে ফেরায় কিনা,তাহলেই বুঝবেন আপনি ঠিকঠাক ইবাদত করছেন।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top