‘ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়’

ওয়াসা’র সরবরাহ করা পানি শতভাগ সুপেয়’ বলে দাবি করেছেন ঢাকা ওয়াসা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান।

রাজধানীর ৯১ শতাংশ বাসিন্দা পানি ফুটিয়ে পান করে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য প্রত্যাখান করে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “ঢাকা ওয়াসার নীতি ও আইন, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সেবা নিশ্চিৎকরণ, সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা ও সন্তুষ্টি- এ তিনটি বিষয় ছিল টিআইবির গবেষণার উদ্দেশ্য। কিন্তু তাদের প্রতিবেদনে এই তিনটি বিষয় নিয়ে যে ডেটা এসেছে তার সবই অনুমাননির্ভর। এই গবেষণায় কোনো পেশাদারিত্ব তো নেইই, সেই সঙ্গে এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই”।

“এই প্রতিবেদন প্রকাশ আসলে এক স্টান্টবাজি হয়ে গেছে। অনুমানভিত্তিক এই প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে ওয়াসাকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করতে চেয়েছে টিআইবি”, যোগ করেন তাকসিম।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, “ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশনের মানদণ্ড অনুযায়ী ঢাকা ওয়াসার পানি ১০০ ভাগ সুপেয়। এই তথ্য সম্পূর্ণ হাইপোথেটিক্যাল এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। ঢাকা শহরে বসবাসরত এক কোটি ৭২ লাখ লোক সবাই পানি ফুটিয়ে পান করেন না। ফুটানোর প্রয়োজনও পড়ে না”।

উৎস থেকে গ্রাহকের জলাধার পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ বলেও এসময় দাবি করেন তাকসিম এ খান।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল ‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। টিআইবির ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে পান করেন।আর বাসাবাড়িতে এই পানি ফোটাতেই বছরে পোড়ানো হচ্ছে ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার ঘনমিটার গ্যাস, যার আর্থিকমূল্য ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

এছাড়াও টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার গ্রাহকদের ৫১ দশমিক পাঁচ শতাংশ বলছেন পানি অপরিষ্কার, ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ গ্রাহক পানিতে দুর্গন্ধ থাকার কথা বলেছেন। আর ৩৪ দশমিক পাঁচ শতাংশ গ্রাহক বলছেন, সারা বছরই পানি অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত থাকে।

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওয়াসা’র ট্রিটেমন্ট প্লান্টের সক্ষমতা না থাকায় নগরে প্রতিদিনের ৯৬ শতাংশ পয়ঃবর্জ্য অপরিশোধিত অবস্থায় বিভিন্ন খাল হয়ে আশপাশের নদীতে গিয়ে পড়ছে।এ বিষয়ে ওয়াসা এমডি বলেন, এডিবির ১৭ হাজার কোটি টাকা অর্থায়নে এসব প্লান্টের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন তারা। ঢাকায় তিনটি বৃহৎ পানি শোধনাগার প্রকল্প নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের হয়রানি ও দুর্নীতি নিয়ে টিআইবি যেসব অভিযোগ এনেছে, তা প্রত্যাখ্যান করে তাকসিম এ খান আরো বলেন, “এখন পানির সংযোগ পেতে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থাকায় অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। ঢাকা ওয়াসার সকল পানির মিটারকেই অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। এছাড়াও পানির পাম্পে সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন (এসসিএডিএ) সিস্টেম স্থাপন করে ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ দ্বারা গভীর নলকূপের অপারেশন, কন্ট্রোল ও মনিটরিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে ঢাকা ওয়াসার পরিচালনা ব্যয় কমানো হয়েছে”।

এসময় টিআইবির প্রতিবেদনকে হাস্যকর বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top