ধর্মপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠায় বিদ্যানন্দের উদ্যোক্তা তার পদ থেকে পদত্যাগ করছেন

এবার সাম্প্রদায়িকতার বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত বিদ্যানন্দ। “বিদ্যানন্দ” নামটি একজন হিন্দু ব্যাক্তির নাম এবং এই প্রতিষ্ঠানের মালিক একজন হিন্দু তাই এইখানে টাকা অনুদান দেওয়া বা বিদ্যানন্দ থেকে খাবার সাহায্য নেওয়া হারাম বলে ইন্টারনেট মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি দল।

বিদ্যানন্দের উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাই স্বেচ্ছায় তিনি তার পদ থেকে সরে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি বিদ্যানন্দের ফেসবুক পেইজ এ এই বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হয় যা নিচে হুবুহু তুলে ধরা হলো।

“”বিদ্যানন্দ” নামটি দিয়েছেন এক মুসলিম ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। “আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন” স্লোগানে তিনি এই নাম দিয়েছিলেন।অনেকেই ব্যক্তির নাম থেকে বিদ্যানন্দ নামের উদ্ভব ভেবে ভুল করেন। এজন্য আমরা নামটাই পরিবর্তন করতে চেয়েছি, কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকরা রাজী হয় না।বিদ্যানন্দের প্রবাসী উদ্যোক্তা সশরীরে খুব অল্পই সময় দিতে পারেন।৯০% মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাই চালিয়ে যান বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবুও উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে।সে সমস্যাও আশা করি সমাধান হয়ে যাবে। বিদ্যানন্দ প্রধান গত মাসেই পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। বিষয়টি আমরা প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম কভিড-১৯ ক্যাম্পেইনের পরে।ত্যাগের উপর ভিত্তি করে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা। আর্থিক, সামাজিক কিংবা ব্যক্তিগত ত্যাগে স্বেচ্ছাসেবকরা রচনা করে অনুপ্রেরণার গল্পগুলো। নিশ্চিত থাকেন, তাঁদের সে যাত্রা অব্যাহত থাকবে আগামীতেও।[ক্ষমা চাচ্ছি এই হতাশার বার্তার জন্য। গত মাসের এই সিদ্ধান্তটি আমরা প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম কভিড-১৯ ক্যাম্পেইনের পর। কিন্তু অনেকগুলো পেজ থেকেই প্রচুর ন্যাগেটিভ লেখা শেয়ার হচ্ছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্যাম্পেইনটি। তাই শেয়ার করতে বাধ্য হয়েছি।]”

এ বিষয়ে একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,

মুক্তিযুদ্ধে দেশকে স্বাধীন করতে সব ধর্মের মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে যুদ্ধ করতে পেরেছে একসাথে, হিন্দু,মুসলমান একই খাবার একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করে খেতে পেরেছে। উদ্দেশ্য ছিল এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার যেখানে ধনী-গরিব,জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই হাতে হাত মিলিয়ে বাঁচবে, একে অপরের পাশে দাঁড়াবে।অথচ আজ এই বিংশ শতাব্দিতে এসে স্বাধীনতার এত বছর পর আমরা সেই মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলেছি। বিদেশ থেকে যখন ত্রান আসে তখন কি আমরা এটা বিধর্মীদের দেওয়া ত্রান বলে ফিরিয়ে দিয়েছি কখনো? বিদ্যানন্দের মত একটা প্রতিষ্ঠানকে শুধুমাত্র নামের কারনে কেনো এইরকম সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতিতে পরতে হবে। হাজার হাজার মানুষ আজ বিদ্যানন্দের কারনে ভরা পেটে ঘুমাতে যায়। যারা এই অপপ্রচার চালিয়েছে তাদের খুজে বের করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা চাই এমন কাউকে এই সংগঠনের নেতৃত্বে যিনি এই সংগঠনের এই অগ্রগতির পথিকৃৎ । কিশোর দা এমনই একজন মানুষ। উনার এই সরে যাওয়া হবে মানবতার পরাজয়। আমরা চাই না এমন হোক। আমি হিন্দু মুসলিম জানি না। আমি চাই দেশের জন্য ভাল কিছু হোক। সামান্য কয়জন ধর্মান্ধের বিজয় আমি মেনে নিতে পারব না।
অমুসলিম বলে পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে? কী অদ্ভুত। । এভাবে মানবতাকে হারতে দেওয়া যাবে না।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top