পরকিয়া করছে জেনেও আমার স্বামীর সাথে কেমন ব্যবহার করা উচিত?

স্বামী পরকিয়ায় লিপ্ত এই সমস্যাটি বর্তমানে প্রায় সংসারেই রয়েছে। বেশিরভাগ সংসারেই দেখা যায় যে, বিয়ের কয়েক বছর পরে স্ত্রীর প্রতি আসক্তি কিছুটা কমে যায় প্রতিটি পুরুষেরই। তারা নতুন কোনো নারীর বা পূর্ব প্রেমিকার সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়েন। এর ফলে ভাঙ্গন দেখা দেয় প্রতিটি সংসারের। অতীতকালে নারীরা বিষয়টি মুখ বুজে মেনে নিত শুধুমাত্র সন্তানের কথা চিন্তা করে। কিন্তু বর্তমানে যুগ অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। এখন আর নারীরা এসব অন্যায় একেবারেই সহ্য করেন না। তারা এর প্রতিবাদ করেন। আপনিও তাই করবেন এই আশাই ব্যক্ত করি। সন্তান বাবা ছাড়া বড় হতে পারে। হয়তবা এক্ষেত্রে কিছুটা মানসিক চাপ পড়তে পারে আপনার সন্তানের মাঝে কিন্তু ভেবে দেখুন আপনারা যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত ঝগড়া করবেন তখনও তার উপরে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে। তাই যা হওয়ার তা ভাগ্যের উপরে ছেড়ে দিন এবং এর প্রতিবাদ করুন। তবে এর আগে কিছু পদক্ষেপ মেনে অগ্রসর হোন, এতে হতে পারে আপনার সংসারের এই সমস্যাটি আপনার স্বামী সুষ্ঠুভাবেই সমাধান করতে পারেন।

প্রথমত,

চিৎকার চেঁচামেচি করবেন না কেননা চিৎকার-চেঁচামেচি করে কোন লাভ নেই, এতে উল্টো নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপার সকলকে জানিয়ে দেয়া হবে। বিশেষ করে তারা জেনে জাবে, যাদের কাজ মানুষকে নিয়ে গসিপ করা। আর জীবন সঙ্গী যদি বিপথে গিয়েই থাকেন, চেঁচামেচি করে তাকে আপনি ফেরাতে পারবেন না। তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

দ্বিতীয়ত,

মুখোমুখি কথা বলুন। জীবনসঙ্গীর সাথে সরাসরি কথা বলুন। জানিয়ে দিন যে আপনি সব জানেন এবং জবাব চান যে তিনি কেন এমন করলেন। সাথে এটাও জেনে নিন যে তিনি কী চান। কেউ যদি আপনাকে ভালো না বাসে, তাঁর কাছ থেকে জোর করে ভালোবাসা আদায় করা যায় না। তিনি সম্পর্ক রাখতে চান কি চান না সেটা তাঁর কাছ থেকে জেনে নিন আগে। তারপর আপনি ভাবতে শুরু করুন যে আপনি কী চান।

তৃতীয়ত,

মুরুব্বীদের সাহায্য নিন নিজের মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি বা মুরুব্বী কারো সহায়তা নিন যারা আপনাদের বিয়েতে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। তাঁদের সমস্ত বিষয়টা খুলে বলুন। মুরুব্বীরা অবশ্যই জীবন সম্পর্কে আমাদের চাইতে বেশী জানেন। তাই তাঁদের পরামর্শ অবশ্যই নিন নিজে একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে।

চতুর্থত,

সন্তানের সাহায্য নিন। স্বামী-স্ত্রীর যদি সন্তান না থাকে, তখন আলাদা হয়ে যাওয়াটা একটু হলেও সহজ হয়। কিন্তু সন্তান থাকলে তাঁদের কথাই ভাবতে হবে সবার আগে। তাই যদি সন্তান থেকে থাকে আর আপনার ইচ্ছা থেকে থাকে সম্পর্ক ধরে রাখার, তাহলে সন্তানকে দিয়েই চেষ্টা করুন স্বামী বা স্ত্রীর মন ফেরানোর। মনে রাখবেন, স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হয়, মা-বাবার কিন্তু ডিভোর্স হয় না।

পঞ্চমত,

ডিভোর্সের আগে খুব ভালো করে ভেবে নিন। ডিভোর্স কোন সহজ সিদ্ধান্ত নয়, তাই এই কাজটা করার আগে খুব ভালো করে ভেবে নিন। জীবনসঙ্গী যদি ক্ষমা চান ও শুধরে যাবার সংকল্প করেন, তাহলে তাকে আরেকটা সুযোগ দেয়া যায় কিনা সেটাও ভেবে দেখবেন।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top