মুসলিমদের সম্মানে প্রতি বছর ইফতার পার্টি হয় হোয়াইট হাউসে

আমেরিকাকে বলা হয়, বিশ্বের এক নম্বর সুপার পাওয়ার। এই দেশে প্রায় ৭০ লাখ মুসলমানের বসবাস। এখানকার মুসলিমগণ সাধারণত থাকেন ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ইলিনয়েস, ইস্তিয়ানো, মিশিগা, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড রাজ্যগুলোতে।

রমজান উপলক্ষ্যে আমেরিকার বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনগুলো তৎপর হয়ে ওঠে। তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রমজানের সময়টাতে ইসলামি আবহ তুলে ধরার চেষ্টা করে। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে, আমেরিকান মুসিলম অ্যালিমেন্স, আমেরিকান আরব অ্যান্টি ডিসক্রিমিনেশন, আমেরিকান মুসিলম কাউন্সিল, মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ারস কাউন্সিল, কাউন্সিল অব আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন প্রভৃতি। এ সব সংগঠনের মূল কর্মসূচির মধ্যে থাকে রমজানে ইফতার ও সেহেরির স্থানীয় সময়সূচী ঘোষণা করা এবং লিফলেট বা ক্যালেন্ডার আকারে মুদ্রিত করে প্রচারের ব্যবস্থা করা, রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্বলিত লেকচার পাবলিশ্ড করা, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিম আলেম-ওলামা ও ইসলামি স্কলারদের দাওয়াত করে সেমিনারের আয়োজন করা, ইসলামি আক্বিদা ও মুসলিম জীবন বিধানের ব্যাখ্যা ও বক্তব্য স্থানীয় মিডিয়ায় প্রচার করা, ফোন ও ই-মেইলে মুসলিমদের নিত্য প্রয়োজনীয় মাসয়ালার সমাধান দেয়া ইত্যাদি।

রমজান মাসে এ দেশে বসবাসকারী মুসলিমগণ ইসলাম পালনের দিকে গভীর মনোযোগ দিয়ে থাকেন। তারা পোশাক হিসেবে পায়জামা-পাঞ্জাবি ও স্যালোয়ার-কোর্তা পরিধান করেন এবং নারীরা হিজাব পরে ঘর থেকে বের হন। এ সময় তরুণী ও শিশুদের মধ্যে মেহেদি দিয়ে হাত রঙিন করতে দেখা যায়।

আমেরিকান মুসলিমগণ স্যুপ, পুডিং, রুটি, বার্গার ও পিৎজা ইত্যাদি দিয়ে সেহেরি সেরে থাকেন। তবে এশিয়ান ও আফ্রিকান মুসলিমগণ তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতেই পছন্দ করেন বেশি। সেহেরিতে পার্থ্যক্য হলেও ইফতারিতে প্রায় সবাই একই ধরনের খাবার খেয়ে থাকেন। তাদের ইফতার সামগ্রীর মধ্যে থাকে খোরমা, রুটি, খেজুর, সালাদ, ইয়াগার্ট, পনির, ডিম, মাংস, হট বিনস, স্যুপ, চা ইত্যাদি। মুসলিমদের সম্মানে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন সর্বপ্রথম হোয়াইট হাউসে ইফতার পার্টির আয়োজন করেছিলেন। সেই থেকে এ আয়োজন নিয়মিত চলছে। হোয়াইট হাউসের ইফতার পার্টিতে আমেরিকান মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করে থাকেন। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার ইফতার পার্টিতে ৫৩টি দেশের মুসলিম প্রতিনিধিদের নিয়ে ইফতার করেন।

নাইন ইলেভেনের হামলার পর আমেরিকার মুসলিমদের অত্যন্ন দুর্দশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। জন সাধারণের ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে মুসলিমগণ অনেকটাই লুকিয়ে ইসলাম পালন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু ২০০২ সালে মুসলিমদের অবাক করে দিয়ে আমেরিকাতে প্রথম বারের মত রামজান ও ঈদ উপলক্ষে ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। তারপর অবস্থা অনেকটাই ফিকে হয়ে আসে।

বর্তমানে অনেক অমুসলিম এই মাসে ইসলাম গ্রহণ করে থাকেন। জনসংখ্যার হিসেবে আমেরিকাতে এখন মুসলিমদের অবস্থান তৃতীয়। কিন্তু যেভাবে সে দেশে অমুসলিম নাগরিকরা ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন, তাতে অনেকেই মনে করছেন, অচিরেই মুসলিমগণ সেখানে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন।

সূত্র : আরবি দৈনিক আল-ইহরাম, আল-ইকতেসাদ অবলম্বনে

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top