DSLR ক্যামেরা কিনার খুঁটিনাটি

ছবি উঠাতে কার না ভালো লাগে, আর ছবি যদি হয় ঝকঝকে তকতকে তাহলে তো দেখেই মনটা ভালো হয়ে যায়। আর যিনি ছবি তুলেন তার কাছে তখনই সেটা পরম পাওয়া যখন মানুষ তার তোলা ছবি দেখে আনন্দ অনুভব করে। ধরুন আপনি কিছু স্ন্যাপ নিলেন এবং দেখলেন যে কিছু সুন্দর সুন্দর ছবি উঠেছে তখনই আপনার ভিতর একটা আগ্রহ সৃষ্টি হবে যে কি ধরনে ক্যামেরা আপনাকে আরও ভালো ছবি তুলতে সহায়তা করবে? এইজন্য আপনি ফটোগ্রাফির কাজের উপর কিছু পড়াশুনাও করেছেন এবং চিন্তা করছেন ফটোগ্রাফির পিছনে কিছুটা সময় দেওয়া যাক।

এই সংখ্যাটি আপনাকে ডিজিটাল এস এল আর(DSLRs) এর কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য বোঝাতে সহায়তা করবে পাশাপাশি DSLR কিনার পূর্বে কি কি জিনিস লক্ষ করা উচিত তা জানতে সহায়তা করবে।

DSLR কি?

শুরু করার পূর্বে একটা জিনিস জানা উচিত যে, যতই অভিনব বা ব্যায়বহুল ক্যামেরা হোক না কেন, কোনো ক্যামেরাই আপনাকে ভালো ফটোগ্রাফার হিসাবে তৈরি করতে পারবে না, যদি না আপনার ভিতর সৃজনশীল প্রতিভা না থাকে।

সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স অর্থাৎ এস এল আর বলতে মূলত বোঝায় যে, আপনি যখন ভিউফাইন্ডারের ভিতর দিয়ে তাকবেন, অনেকগুলো প্রিজম ও আয়নার সিরিজের ভিতর দিয়ে সত্যিকারের সেই দৃশ্যিই দেখবেন যা আপনার ক্যামেরা দেখে। ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরা হচ্ছে এমন এক ধরনের ডিজিটাল ক্যামেরা যা ডিজিটাল ইমেজ সেন্সর এবং একক সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্সের মেকানিজম এবং অপটিক্সের মিশ্র প্রক্রিয়া যা ফটোগ্রাফিক ফ্লিম থেকে ভিন্ন। মূলত প্রতিবিম্ব নকশা প্রকল্প, ডি এস এল আর এবং অন্যান্য ডিজিটাল ক্যামেরার মধ্যে পার্থক্য বহন করে।

প্রথম লক্ষনীয়-

আপনি যখন একটি ডি এস এল আর কিনবেন তখন অবশ্যই দোকান থেকে কিনবেন কারন আপনার হাতের সাইজ অনুযায়ী তা কেমন ফিট হচ্ছে এবং তা কতটুকু ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারছেন তা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যা আপনে অনলাইন থেকে কিনলে দেখতে পারবেন না।

যদি আপনি অনলাইন থেকে কিনেন তাহলে একটা পুরনো প্রবচন মনে রাখবেন- “এটা সত্য হতে পারে খুব ভাল শোনাচ্ছে, এটা সত্য হতে পারে খুব ভাল” অর্থাৎ বাজার দামের তুলনায় যদি আপনি অন্য কোথাও কম দামে পেয়ে যান তাহলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে ভালো করে দেখে নিতে হবে টাকা দেওয়ার পূর্বে। আবার অনেক সময় দেখা যায় তারা কোনো ওয়ারেন্টি দিতে পারেনা এবং সকল এক্সেসরিস দিবে না যা পরবর্তিতে আলাদাভাবে বিক্রি করবে।

ব্র্যান্ড-

বিক্রিত সকল ডি এস এল আর মধ্যে প্রধানত দুইটি ব্র্যান্ডঃ কেনন এবং নিকন থেকে বিক্রি হয় ৮৫ শতাংশ। তাছাড়াও আরো কিছু বিদেশি ক্যামেরা তৈরিকারী কোম্পানি আছে যেমনঃ পেন্টাক্স, অলিম্পাস এবং সনি। সকল কোম্পানিই খুব ভালো ক্যামেরা তৈরি করে। সকল কোম্পানির কিছু শক্তি ও দুর্বল দিক রয়েছে। আপনাকে শুধু খুজে নিতে হবে যে, আপনার চাহিদাও পছন্দের কোন দিকটা কোন কোম্পানির শক্তিশালী।

প্রায় সময় নিকনিয়ান( Nikon shooters) এবং কেননিয়ান( Canon shooters) দের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধতে দেখা যায় যে তাদের ব্র্যান্ডই সবচেয়ে ভালো কিন্তু আমি তা মনে করি না। কিন্তু আমি কোনো পার্থক্যই দেখি না যখন আমি কেনন বা নিকন দিয়ে ছবি তুলি। এমনকি গ্যালারী শোতে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো ব্যাক্তিকে বলতে শুনি নাই- “ওয়াও এটাই সত্যিকারের মহান নিকন শট বা এই ছবির মধ্যে কেননের যাদু লুকিয়ে আছে”।

মেগাপিক্সেল(Megapixels)-

আজকাল, মেগাপিক্সেলের প্রশ্ন নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক আছে। সাধারনত সব ডি এস এল আর এই অন্তত ১০ মেগাপিক্সেল ডিজিটাল সেন্সর আছে। মেগাপিক্সেল একটি নিছক ডিজিটাল সেন্সর যা আলোর সকল বিন্ধু বা পিক্সেল নিয়ে একটি ছবি তৈরি করে। বেশি এককের মেগাপিক্সেল থাকা মানেই ভালো ছবি নয়। বড় এককের মেগাপিক্সেল মানে ছবিকে বৃহৎ আকারে প্রস্ফুটিত করা যায়। ১০ মেগাপিক্সেলই যথেষ্ট যেকোনো আকারের ছবি মুদ্রণের জন্য।

উচ্চ ISO কর্মক্ষমতা-

ISO হচ্ছে আপনার ডিজিটাল ক্যামেরার আলোর সংবেদনশীলতা। যত বেশি উচ্চ সামর্থ্য কর্মক্ষমতা তত বেশি ভালো শট নিতে পারবে কম আলোর আবহাওয়ায়। আপনি যদি সব সময় চমৎকার রোদ্র উজ্জ্বল দিনের বেলায় বাইরে ছবি তুলেন বা ইনডোরে ফ্ল্যাশ দিয়ে ছবি তুলেন তাহলে আপনার ISO নিয়ে চিন্তা না করলেও চলবে। কিন্তু আপনি যদি ক্রীড়া, কর্ম, আলো সমৃদ্ধ ইনডোর, বিয়ে বাড়ি বা যেখানে ফ্ল্যাশ লাইট গ্রহনযোগ্য নয় অথবা রাতে রাস্তার দৃশ্য ক্যামেরা বন্ধি করতে চান তাহলে অবশ্যই উচ্চ ISO কর্মক্ষমতা উল্লেখযোগ্য।    
অধিকাংশ DSLR এর ১০০-১৬০০ ISO ক্ষমতা রয়েছে। ১০০ হচ্ছে প্রচুর আলোর জন্য আর ১৬০০ হচ্ছে কম আলোর জন্য। যদিও বর্তমানে ৩২০০, ৬৪০০, এমনকি ১২৮০০ উচ্চ ISO কর্মক্ষমতাসম্পন্ন DSLR ভোক্তারা ব্যাবহার করছে কারন ক্যামেরার মধ্যে এই ক্ষমতা আছে তার মানে এই নয় যে তার ISOঅনুপাতে কর্মক্ষমতা আছে।

অধিকাংশ ক্যামেরাই গ্রহনযোগ্য নয়েজের মধ্যে ছবি তুলতে সক্ষম। অধিকাংশ ISO ১৬০০, অধিক নয়েজের মধ্যে ছবি তুলতে সক্ষম যা ISO 400 এর পক্ষে সম্ভব নয়। এমনকি ১২৮০০ মধ্যে শুধু ব্যবহার হয় মাত্র ৩২০০। ইহা সত্যি উপভোগ্য। যদিও ইহা শুধু বর্ননা মাত্র তারপরও আপনি ক্যামেরা রিভিউ সাইটে এই বিষয়ের প্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষন করে দেখতে পারেন।

বৃহৎ এবং উচ্চ রেজুলেশ্যন LCD-

আপনার ক্যামেরার LCD যদি A 3″ বা তার থেকে বড় হয় তাহলে এটি একটি ভাল ব্যাপার। শট পর্যালোচনা বা জুম করে ফোকাস চেক করার জন্য বৃহৎ এবং উচ্চ রেজুলেশ্যন অনেক সহজ করে দিবে। আর যদি লাইভ ভিউ বৈশিষ্ট্য থাকে তা আপনার জন্য আরো সহায়ক হবে।

লাইভ ভিউ(LIVE VIEW)-

ক্যামেরার কিছু মডেলে লাইভ ভিউ আছে যার মাধ্যমে ফোকাস চেক করতে পারবেন। আমি এই অপশনটার ভক্ত না কারন উজ্জ্বল রৌদ্রে দেখা খুব কষ্টের কিন্তু অনেকেই এই ফিয়েচারটাকে ভালোবাসেন।

ফ্রেমস পার সেকেন্ড(FPS)-

ফ্রেমস পার সেকেন্ড বলতে বুঝায় যে, মাল্টি মুডে এবং শাটার বাটনকে চেপে ধরলে কতগুলো ছবি তুলতে সক্ষম। এইক্ষেত্রে ২-৩ FPS খুব সাধারন কিন্তু ৮FPS খুব দ্রুত হবে।

মুভি মোড(MOVIE MODE)-

কিছু সংখ্যক নতুন ডি এস এল আর এ হাই ডেফিনিশনের ভিডিও করা যায়। যদিও বিষয়টি একান্তই ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত কিন্তু এটি একটি মান সম্মত বৈশিষ্ট্য নতুন ডি এস এল আর ভোক্তাদের জন্য।

সেন্সর ক্লিনিং(Sensor cleaning)-

বার বার লেন্স পরিবর্তনের ফলে ধুলো বা ময়লা জমার সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে ছবিতে ঝাপসা দাগ পরে যা সত্যি বিরক্তিকর। সৌভাগ্যবশত অধিকাংশ ক্যামেরায় সেলফ ক্লিনিং বা ময়লা দূর করার সেন্সর রয়েছে। কিনার আগে অবশ্যই দেখে নিবেন ক্লিনিং সেন্সর আছে কিনা তা না হলে বার বার পরিষ্কারের জন্য দোকান ঘর আসা যাওয়া করতে হবে।

লেন্স(Lenses)-

লেন্স হচ্ছে ডি এস এল আরের অতি গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। আপনার বাজেট যদি টাইট থাকে তাহলে ক্যামেরার সাথে যেই সজ্জা(Kit) লেন্সটি পাওয়া যায় সেটিই ভালো হবে আর যদি আপনার বাজেট থেকে টাকা অবশিষ্ট্য থাকে তাহলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী লেন্স আপগ্রেড করতে পারেন। অবশ্যই নতুনদের জন্য কিট লেন্স যথেষ্ট্য।

ফ্ল্যাশ(Flashes)-

প্রায় সব ডি এস এল আর ক্যামেরায় পপ আপ ফ্ল্যাশ অন্তর্নির্মিত যা ইনডোরে পর্যাপ্ত এবং আউটডোরে ক্ষীণ পরিমানে তুলা সম্ভব। কেনার আগে অবশ্যিই ভালো করে দেখে নিবেন ঠিকভাবে কাজ করে কিনা।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top