ওজন যেন না বাড়ে

অতিরিক্ত ওজন এখন অনেকের সমস্যা। সারাক্ষণ চিন্তা, কীভাবে কমানো যায় ওজন! ঈদের আগে ওজন কমিয়ে ফেলব, সেই চেষ্টা চলছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, রমজান মাসে বাড়তি ওজনে যোগ হয় আরও দু-একটা সংখ্যা। রোজায় ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে অধুনা-পাঠকদের পরামর্শ দিয়েছেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার
আখতারুন্নাহার জানান, রোজার এই সময়টায় সারা দিন না খেয়ে থাকা হয় ঠিকই, কিন্তু ইফতারের সময়টায় যে পরিমাণ ভাজাপোড়া খাওয়া হয়, তাতেই ওজন বাড়ার আশঙ্কা হয় অনেকখানি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খান। তৈলাক্ত ও ভারী খাবারে বেশি শক্তি পাওয়া যাবে, এ ধারণা থেকে ওই ধরনের খাবার বেশি বাছাই করেন। কিন্তু এ রকম খাবার শরীরের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে তারতম্য ঘটায় এবং এতে রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে চর্বি জমতে থাকে। চর্বি জমা, এটা হলো একটা কারণ। আরেকটা দিক হলো, এ সময়টায় আমাদের শারীরিক পরিশ্রম খুব কম হয়। রোজা রাখার ক্লান্তির কারণে সারা দিন মোটামুটি অনেকে আমরা শুয়ে-বসেই কাটিয়ে দিই। যাঁরা তারাবিহর নামাজ পড়ছেন, তাঁরা ছাড়া অন্যদের কায়িক শ্রম বলতে হাতে গোনা। একদিকে ভাজা-পোড়া, চিনিজাতীয় খাবার গ্রহণ অন্যদিকে পরিশ্রম না করা এই ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ।
এবার আখতারুন্নাহার পরামর্শ দিলেন জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে রোজায় কীভাবে ওজনে ভারসাম্য রাখা যায়। তিনি মনে করেন, রোজা রেখেছি বলে সারা দিন শুয়ে-বসে থাকা নয়, টুকটাক নিয়মিত যে শারীরিক শ্রমগুলো আগেও করতেন, তা রোজার মধ্যেও বজায় রাখতে হবে। আর সারা দিন না খেয়ে আছি, তাই ইফতার-সেহরিতে অতিরিক্ত খেয়ে সেটা পুষিয়ে নিতে হবে, এমন ধারণা থেকেই ওজন বাড়ে। তাই প্রতিবার খেতে হবে পরিমিত।
সচেতন হতে হবে ইফতারে। এই সময়টায় তেলযুক্ত খাবার কমানো জরুরি। তেলে ভাজা খাবার না খেয়ে ইফতারে খেতে পারেন সেদ্ধ ছোলা, মুড়ি, চিড়া, অল্প তেলের ফ্রায়েড রাইস, অল্প তেল ও সবজি বেশি দিয়ে রান্না করা নুডলস, চিড়া ইত্যাদি। ইফতারে শসা, ডাবের পানি, ফল রাখা যেতে পারে। চিনিযুক্ত শরবত দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে। এতে শরীর দ্রুত সতেজ ও সবল হয়। আমরা অনেকেই বাজারে বিক্রি করা শরবত খাই, এটা স্বাস্থ্যকর নয়। পরিমাণমতো চিনি দিয়ে ঘরে তৈরি শরবতই ইফতারে স্বাস্থ্যসম্মত। এবং এটা ওজনও বাড়াবে না।
খেজুর এবং অন্যান্য ফল কলা, আম, শসা, গাজর, আপেল, আঙুর খেতে পারেন। অথবা সব ফল দিয়ে আর মিষ্টিদই দিয়ে একটি সালাদ বানিয়ে খেতে পারেন। এতে শরীরে প্রচুর শক্তি পাবেন। মোটা হওয়ার ভয়ও তখন থাকবে না।
ইফতার-পরবর্তী রাতের খাবারটাও হওয়া চাই হালকা। ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার খেতে মজা হলেও যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। ইফতারে হালকা খাবার খেয়ে বরং রাতের খাবারে ভাত-মাছ-মাংস-সবজি খান। এ সময় আমরা পাতলা ঝোলজাতীয় খাবার পাতে রাখতে পারি। রাতের খাবারটা যেমন হালকা-স্বাস্থ্যসম্মত হবে, সেহরিটাও একই রকম। অনেকের ধারণা, রোজা রাখতে হলে অবশ্যই মাংস খেতে হবে। এবং অবশ্যই সেটা ভুনা-মসলাদার হতে হবে। এটা ভুল ধারণা। বরং এতেই বেড়ে যায় ওজন। সেহরি ও রাতের খাবারে বেশি পরিমাণে মাছ বা ডিম রাখতে পারেন। তাতে ওজন বাড়ার ঝামেলা থাকবে না। প্রতিদিন খাবারের মেনুতে রঙিন সবজি ও ফল রাখতে পারেন। যেমন কুমড়া, গাজর, পাকা পেঁপে, কামরাঙা, মাল্টা, আপেল, কমলা, লেবু ইত্যাদি।
আর মনে রাখবেন, কখনোই অতিরিক্ত খাবেন না। এটি এই সময়ে ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ। যা-ই খান, পরিমিত খেতে হবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top