মা-শিশুর ‘স্কিন-টু-স্কিন’ সংস্পর্শের ৮ উপকারিতা

শিশু ও মায়ের মধ্যকার সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শকে ‘স্কিন-টু-স্কিন কন্টাক্ট’ বলা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সংস্পর্শের বেশ কয়েকটি উপকারিতা আছে। সেগুলো মা ও শিশু উভয়ের জন্যই।
১. মস্তিষ্ক গঠন
শিশু ও মায়ের মধ্যকার শারীরিক সংস্পর্শ শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জন্মের পর শিশুদের মস্তিষ্ক অপরিণত থেকে যায়। ফলে জন্মের পরই মায়ের সংস্পর্শ পেলে সামাজিক ও আবেগগত বিষয়ে সাড়া দিতে শিশুর মস্তিষ্ক পরিণত হতে থাকে।
২. সম্পর্ক তৈরি
জন্মের পরই শিশুর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে-সব মায়ের তাই চাওয়া। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সম্ভব নয়। তবে এই সম্পর্ক গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে স্কিন-টু-স্কিন সংস্পর্শের ব্যাপক ভূমিকা থাকে।
৩. শ্বাস-প্রশ্বাসে উন্নতি
অপরিণত নবজাতক, যাদের ফুসফুস ঠিকভাবে পরিপক্ব হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে এই সংস্পর্শ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি শিশুদের শরীরে অক্সিজেন সরবরাহের মাত্রা ঠিক রাখতে সহায়তা করে।
৪. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
কৃত্রিমভাবে নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা যায়। কিন্তু একটি কম্বলের মধ্যে নবজাতককে রেখে ৩০ মিনিটে স্কিন-টু-স্কিন কন্টাক্ট করেও এই কাজটি সম্ভব।
৫. বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয়
এই সংস্পর্শের ফলে মায়ের পক্ষে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয়। এতে অন্য কারো সহায়তা দরকার পড়ে না। এ ছাড়া মায়ের বুকে দুধের পরিমাণও বাড়ে।
৬. মানসিক চাপ কমে
জন্মপ্রক্রিয়ার সময় নানা জটিলতার কারণে কখনো কখনো নবজাতকের শরীরে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, যা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু মায়ের সঙ্গে স্কিন-টু-স্কিন সংস্পর্শে থাকলে এ চাপ ধীরে ধীরে কমে আসে।
৭. ভালো ঘুম
শিশুর জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। স্কিন-টু-স্কিন সংস্পর্শ তার ঘুম ও জেগে ওঠার চক্রকে উন্নত করে।
৮. মায়ের বিষণ্নতা কমায়
সন্তান জন্মদানের পর হরমোন মাত্রায় পরিবর্তনের কারণে অনেক মা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়। শিশুর সঙ্গে মায়ের স্কিন-টু-স্কিন সংস্পর্শে এ ধরনের বিষণ্নতা প্রতিরোধ সম্ভব।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top