সাব্বির স্টাইল

রোজার শুরুতেই ঈদের কেনাকাটা সেরে ফেলেছেন সাব্বির রহমান। পরিবারের সবার কেনাকাটা তিনিই করেন। বাড়ির ছোট ছেলেটি এই কাজ করে আনন্দ পান। তিন দিনজুড়ে চলে তাঁর ঈদের আনন্দ। এই তিন দিনের মধ্যে পাঞ্জাবিই থাকে তাঁর পছন্দের তালিকার শীর্ষে। এবারের ঈদের জন্য দুটি পাঞ্জাবি কিনেছেন। উপহারও পেয়েছেন।
বাংলাদেশ  জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার সাব্বির রহমান বললেন, ‘ঈদের প্রথম দুই দিন শুধু পাঞ্জাবি-পায়জামা পরি। তৃতীয় দিন জিনসের সঙ্গে টি-শার্ট বা শার্ট পরা হয়। স্লিম ফিট পাঞ্জাবি পরতে পছন্দ করি। লম্বা পাঞ্জাবি পরি না। পায়জামা সাধারণ সোজা কাটের পরি। চুড়িদার বা ধুতি পছন্দ করি না।’ নীল তাঁর প্রিয় রং। তাই নীল ও কালো রঙের পাঞ্জাবি কিনেছেন। আর্টিস্টি, ইয়েলো, অঞ্জন’স-এর পাঞ্জাবি পরেন বেশি। কেউ উপহার দিলে সেটাও পরেন। এবার ঈদে পাঞ্জাবির সঙ্গে কটি পরবেন বলে ঠিক করেছেন সাব্বির। দোকান ঘুরে নিজের পছন্দমতো কিনেছেন।
খেলার কারণে দুবার দেশের বাইরে ঈদ করতে হয়েছিল। দলের সবার সঙ্গে সেই ঈদগুলো ভালো কেটেছে। তবে রাজশাহীর ঈদের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা নেই, বললেন তিনি। নিজের শহরে পরিবার ও বন্ধুদের ছাড়া পরিপূর্ণ আনন্দ পান না।
ঈদের দিন সকালে গোসল করে পাঞ্জাবি পরে নামাজ পরতে যান। এরপর মায়ের হাতের বিশেষ লাচ্ছা সেমাই, ক্ষীর, পরোটা ও চটপটি খান। সাব্বির রহমান ঈদের দিন মাকে সাহায্যও করেন। ‘অসাধারণ’ শসা, পেঁয়াজ, টমেটোও নাকি কাটতে পারেন, মজা করে বললেন।
.এরপর বড় ভাইয়ের দুই ছেলেকে নিয়ে চাচা সাব্বির নিজের বাইকে একটু ঘুরে আসেন। এই আবদার তাঁকে মেটাতেই হয়। দুপুরে পরিবারের সবার সঙ্গে বসে ভর্তা, খিচুড়ি ও গরুর মাংস খান।
মন চাইলে সকালের পাঞ্জাবি বদলে আরেকটা পরেন। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে যান। আত্মীয়স্বজনদের বাড়ি যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা চলে রাত অবধি।
বাইরে বের হওয়ার সময় ওকলে ব্র্যান্ডের রোদচশমা দিয়ে ঢাকেন তাঁর সবুজ চোখজোড়া। গলায় হোয়াইট গোল্ডের চেইন, হাতঘড়ি ও হাতের ব্যান্ডগুলো তো সব সময়ের সঙ্গী।
বাড়ির ছোট সন্তান হওয়ার সুবাদে এখনো সালামি পান তিনি। বলেন, ‘আমার নানি সেই ছোটবেলা থেকে ঈদে আমাকে দুই টাকা সালামি দেন। আমিও বড় হয়েছি কিন্তু সালামি সেই দুই টাকাই আছে। বাবার সালামি একটু বেড়েছে। মা, ভাই, ভাবি, মামাদের থেকেও সালামি নিই।’
এখন অবশ্য সাব্বিরকেই দিতে হয় সালামি। দুই ভাতিজা, ছোট খালাতো-মামাতো ভাইবোনদের দেন সালামি।
ঈদের পরদিন বন্ধুদের সঙ্গে এলাকার কোনো বড় ভাইয়ের বাংলোবাড়ি বা আশপাশে কোথাও ঘুরতে যান। এই দিনটি শুধুই বন্ধুদের জন্য। অনেক সময় প্র্যাকটিস বা কোনো কাজে থাকায় বন্ধুদের ফোন ধরতে পারেন না। কিন্তু এটি তিনি যে ইচ্ছা করে করেন না, সেটি জানিয়ে দিতে চান বন্ধুদের।
সাব্বিরের ঈদের আনন্দ এখানেই শেষ নয়। তৃতীয় দিনে সব ভাইবোন আসে তাঁদের বাড়িতে। দিন-রাত চলে জম্পেশ আড্ডা। এই ঈদেও বাড়িতে গিয়ে তাঁর পছন্দের সব খাবার খাবেন। মজা করে বলেন, ‘পাঁচ কেজি ওজন বাড়িয়ে আনব…’

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top