কর্মক্ষেত্রে হতে চান আদর্শ কর্মী? করতে হবে কিছু অত্যাবশ্যকীয় কাজ

মানুষের জীবনে স্বপ্নের কোন শেষ নেই। একটা ভালো চাকরি বেশিরভাগ মানুষকেই এনে দেয় স্বপ্ন ছোঁয়ার আনন্দ। তবে সাদাকালো স্বপ্নগুলোকে রঙিন করার জন্য চাকরিক্ষেত্রেও হতে হয় সফল। কিন্তু সাফল্যের মুকুট মাথায় চাপানোর গৌরব সবার হয় না। এ জন্য প্রয়োজন বিশেষ কিছু বিষয় যা আপনাকে সম্মুখে এগোতে সাহায্য করবে। আসুন, সেই বিষয়গুলো জেনে নিই।

দ্বিধাহীনভাবে দলীয় প্রচেষ্টার অংশ হতে হবে

যখন একজন কর্মী দলীয় প্রচেষ্টায় সফলভাবে অংশগ্রহণ করে তখন প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। তার নিজের মধ্যেও একটা তৃপ্তির আবেশ ছড়িয়ে পড়ে। তবে একটি দলের অংশ হয়ে কাজ করা সহজ ব্যাপার নয়। এখানে বিভিন্ন চিন্তা, ধ্যান ধারণার মানুষের সন্নিবেশ ঘটতে পারে। তাই কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য, নেতিবাচক বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে দলের অংশ হিসাবে কাজ করতে হবে।

বরফ শীতল মস্তিষ্ক দিয়ে করতে হবে বিচার বিশ্লেষণ

কয়েকজন কর্মকর্তার একটি অদক্ষ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানকে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ‘মার্স’ কোম্পানি স্টিফেন স্পিলবার্গকে ‘E.T’ সিনেমার জন্য তাদের ক্যান্ডি ব্যবহারের অনুমতি দেয় নি। তখন সেই সুযোগটি তাদের প্রতিপক্ষ প্রতিষ্ঠান পেয়ে যায় এবং পরবর্তীতে মার্স কোম্পানির আফসোস করা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। তাই একজন কর্মীকে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে মাথা ঠাণ্ডা করে, অনেক বিচার বিশ্লেষণ করে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আবেগ অনুভূতির কোন মূল্য নেই, দেখতে হবে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ।

অন্যের সাথে যোগাযোগের দক্ষতা থাকতে হবে

কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য কার্যকর যোগাযোগের দক্ষতা অনেক বড় নিয়ামক হিসাবে কাজ করে। একজন কর্মীর উচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে সবসময়ই নতুন ধারনা উপস্থাপন করা এবং অন্য প্রকল্পের সঙ্গে নতুন ধারনা সমন্বয় করা। আর এই কাজটা ঠিকঠাক করতে পারলেই তিনি সফল। একজন দক্ষ কর্মী হতে হলে সবার সাথে ভালো যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে, প্রয়োজনে যে কারো পরামর্শ বা উপদেশ গ্রহণ করতে হবে।

চমৎকার কার্যনীতি থাকতেই হবে

সকল প্রতিষ্ঠানই তাদের কর্মীদের কাছ থেকে উত্তম কার্যনীতি প্রত্যাশা করে। যদি আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বুঝতে পারেন যে আপনার কাজের মধ্যে আছে শৃঙ্খলা, সততা এবং নিষ্ঠা তবে আপনার উপরে ওঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র। ধীরে ধীরে আপনার উপর প্রতিষ্ঠান ভরসা করতে শুরু করবে এবং আপনি বড় দায়িত্ব পেতে শুরু করবেন। তবে মনে রাখবেন বড় দায়িত্ব পালন করাটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।

শিষ্টাচার আপনাকে এগিয়ে দেবে কয়েক ধাপ

অনেক ক্ষেত্রেই শিষ্টাচার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয় কিন্ত এ বিষয়টি কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সত্যি বলতে কলেজ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে উচ্চ কর্মকর্তা পর্যন্ত প্রত্যেকের আচরণগত খুঁটিনাটিসমূহ শেখার প্রয়োজন হয়; যেন তারা যখন কারো সাথে ওঠাবসা করে তখন যেন তারা নিজেদের আচরণের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকে। আর কর্মক্ষেত্রসহ জীবনের সকল পর্যায়ে বিনয়ী হওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ বিনয়ী মানুষকে সবাই পছন্দ করে এমনকি শত্রুরাও।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top