পানির দরে বিক্রি হচ্ছে দুধ, কেনার কেউ নেই

একদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাব, অন্যদিকে কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি। এ দুই কারণে জয়পুরহাটের বাজারগুলোতে দুধের চাহিদা কমে গেছে। ফলে দাম কমিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না খামারিরা। এতে বিপাকে পড়েছেন তারা।

খামারিরা জানান, এক লিটার পানির দামে এক লিটার দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। কেননা, গরু লালন-পালন, গরুর খাবারের খরচ কমেনি। বরং বর্ষার কারণে গোখাদ্য পচে যাওয়ায় বাইরে থেকে বেশি দামে সংগ্রহ করতে হচ্ছে খাবার। এ অবস্থা বেশি দিন থাকলে খামারি ও গ্রামের গাভি মালিকদের পথে বসতে হবে।

প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, জয়পুরহাট সদর, কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর ও পাঁচবিবি উপজেলায় ছোট-বড় ২ শতাধিক খামার আছে। এ ছাড়া কিছু গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে বাণিজ্যিকভাবে গাভি পালন করা হয়। এতে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। প্রচুর দুধ উৎপাদিত হওয়ায় এই এলাকা থেকে আড়ং, ব্র্যাক, মিল্ক্ক ভিটাসহ বেশ কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান তরল দুধ সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতের পর সারাদেশে খোলাবাজারে বিক্রি করে। এ ছাড়া স্থানীয় ঘোষদের কাছে এবং ঘি, ছানা ও মিষ্টি কারখানায়ও প্রচুর দুধ বিক্রি হয়। তবে করোনার প্রভাবে এসব প্রতিষ্ঠান দুধ কেনা বন্ধ রেখেছে। ফলে এমনিতেই বিপাকে রয়েছেন খামারি ও গ্রামের গাভির মালিকরা। সেই সঙ্গে টানা বৃষ্টিতে গোখাদ্যের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে তাদের এখন দিশেহারা অবস্থা।

খামারিদের অভিযোগ, এক লিটার দুধে উৎপাদন খরচ গড়ে ৪৩ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকা লিটার দরে।

কালাই উপজেলার নুনুজ গ্রামের খামারি মকবুল হোসেন বলেন, ‘তার খামারে প্রতিদিন গড়ে ৭০ লিটারের মতো দুধ উৎপাদিত হয়। কয়েকদিন আগে একটি প্রতিষ্ঠান তার কাছ থেকে দুধ নিয়ে বগুড়ায় পাঠাত। গত কয়েকদিন ধরে তারা আর দুধ নিতে আসে না। বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার পুনটহাটে ২২ টাকা লিটার দরে বিক্রি করেছি।’ জয়পুরহাট ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদমান আলীফ বলেন, এমনিতেই পানির দামে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে খামারিদের। আবার বর্ষায় গোখাদ্য পচে যাওয়ায় এর দামও বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে যে ভুসির বস্তার (৪৫ কেজির) দাম ছিল ১ হাজার ৪০০ টাকা, এখন এর দাম হয়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকা। আবার খড়ের দামও বেড়ে গেছে অনেক। এমন অবস্থা চললে খামারগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top