শ্রমিকদের জন্য কী করে দূতাবাসগুলো?

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে বাংলাদেশের শ্রমিকরা। তাদের স্বার্থ, সুবিধা ও কল্যাণ নিশ্চিতের দায়িত্ব রয়েছে বাংলাদেশের মিশনগুলোর ওপর। মিশনগুলোর ভালোভাবে দায়িত্ব পালনের নজির থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম, শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, ঠিকমতো সেবা না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়। শ্রমিকদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাতারে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কাজ হচ্ছে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা।’ তিনি জানান, তাদের অধিকারের মধ্যে রয়েছে—বেতন ও ছুটি ঠিকমতো পাচ্ছে কিনা এবং খাবার ও বাসস্থানের সমস্যা আছে কিনা ইত্যাদি বিষয় দূতাবাস থেকে দেখা।

আসুদ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কাছে রিপোর্ট আসলে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করি, সরকার ও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে অধিকার ও কল্যাণের বিষয়গুলো সুরাহা করে থাকি।’

কল্যাণের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কেউ চাকরি হারালে, অসুস্থ হলে বা মারা গেলে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয় দূতাবাসের মাধ্যমে। এছাড়া মারা যাওয়ার পর দেশে মৃতদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। যদি বৈধ শ্রমিক হয় তবে কোম্পানি খরচ বহন করে এবং অবৈধ হলে দূতাবাস ও কমিউনিটির লোকজনের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দেশে পাঠানো হয়।’

শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য অনেক সময় আইনের আশ্রয় নেওয়ার দরকার পড়লে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হয় বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

শ্রমিকরা দূতাবাসে ঠিকমতো সেবা পান না—এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের রিসোর্সের অভাব আছে, তবে এর মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব আমরা করার চেষ্টা করি।’

কাতারে কয়েক লাখ শ্রমিকের বিপরীতে মিশনে ১০ জনের কম কর্মকর্তা কাজ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রমিক সম্পর্কের পাশাপাশি কাতারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ক্রীড়াসহ সব বিষয় দেখভাল করতে হয় এই কয়েকজন কর্মকর্তাকে।’

সেবা প্রদানের বিষয়ে মিশন প্রধানের গুরুত্ব অনেক বেশি জানিয়ে আসুদ আহমেদ বলেন, ‘অন্যদের উৎসাহিত করাসহ অন স্পট অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয় মিশন প্রধানকে।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘কাতারে একটি ঘটনায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে সেখানে আমিসহ আরেকজন কর্মকর্তা একদিকে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করছি, অন্যদিকে কোম্পানি ও কাতার সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি আমাদের হতে হয় এখানে।’

বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শ্রমিকদের সেবা দেওয়ার বিষয়টি প্রতিটি মিশনে একই ধরনের। শ্রমাধিকার, কল্যাণসহ অন্যান্য বিষয় এর মধ্যে পড়ে।’

সম্প্রতি প্রায় দেড়শ’ বাংলাদেশি দূতাবাসে এসে অভিযোগ করেন, তারা কোম্পানির কাছ থেকে বেতন পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে তাদের আইনি সহায়তার ব্যবস্থা আমরা করেছি বলে জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে রিপোর্ট এলে সংশ্লিষ্ট কর্মকতা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন এবং প্রয়োজন মনে করলে আমার সঙ্গে কথা বলে নির্দেশনা চান।’

সাধারণ সেবার পাশাপাশি কোভিড-১৯ এর মতো সমস্যায় দূতাবাস গরিব শ্রমিকদের সহায়তা দিয়ে থাকে বলে জানান নজরুল।

এ বছর রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে সৌদি আরবে মিশন উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনরত নজরুল বলেন, ‘শ্রমিকদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে মাইন্ডসেট অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া প্রয়োজনীয় লোকবল ও অর্থ, প্রশিক্ষণ, মোটিভেশন ও সঠিক নেতৃত্ব প্রয়োজন সেবা দেওয়ার জন্য।’

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top