আমার ছেলে ব্যক্তিগত স্বার্থে কিছু করেনি: লিয়াকতের মা

টেকনাফে চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় কারাগারে থাকা আসামি বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলির মা মরিয়ম বেগম বলেছেন, তার ছেল পরিবারের বা ব্যক্তিগত স্বার্থে কিছু করেনি।

মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পূর্ব হুলাইন গ্রামে লিয়াকতের বাড়িতে তার মায়ের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে পরিবারের বা ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনো কিছু করেনি। সে সরকারি দায়িত্বরত অবস্থায় এ ঘটনায় যুক্ত ছিল। সুতরাং সরকারই ভালো জানবে।’

এ সময় কেঁদে কেঁদে লিয়াকতের মা জানতে চান, ‘আমার ছেলের কি ফাঁসি হবে?’ ছেলেকে গ্রেপ্তারের পর থেকে মুষড়ে পড়েছেন তিনি।

পূর্ব হুলাইন গ্রামের মৃত মো. সাহাব মিয়ার ছেলে লিয়াকত ২০১০ সালে পুলিশে যোগ দেন। ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে লিয়াকত পঞ্চম। লিয়াকত প্রথমে ডিবি, পরে সোয়াত ও অ্যান্টি টেরিরিজম ইউনিটে কাজ করেন। দুই বছর আগে পুলিশ পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান এবং এক বছর আগে টেকনাফ থানায় যোগদান করেন তিনি।

লিয়াকত প্রথমে চন্দনাইশ উপজেলায় বিয়ে করেন। ওই স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর বোয়ালখালী থেকে আরেক বিয়ে করে। ওই ঘরে তার দুই বছরের এক ছেলে রয়েছে।

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান।

ঘটনার পর কক্সবাজার পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাশেদ তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। তবে পুলিশের এমন ভাষ্য নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত সাবেক সেনা কর্মকর্তার এক সঙ্গীর বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের ভাষ্যের অমিল রয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। এমন প্রেক্ষাপটে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এ ঘটনায় গত বুধবার সকালে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ পুলিশের ৯ সদস্যের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের আদালতে মামলা করেন সিনহা রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়া। আদালতের নির্দেশে বুধবার রাতেই মামলাটি টেকনাফ থানায় নথিভুক্ত হয়।

এরপর বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশ সদস্য। পরে র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে তাদের ৭ দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর সাতজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top