ময়নাতদন্ত রিপোর্টঃ হাতে কামড়ানোর দাগ কলেজছাত্রী মুনিয়ার

কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার হাতে কামড়ের দাগ দেখা গেছে। মরদেহে যখমের চিহ্ন স্পষ্ট। হাতে দাঁতের চিহ্ন ছাড়াও রক্তজমাট থাকার কথা বলেছে পুলিশ। ছবিতেও এসব চিহ্ন স্পষ্ট।  এদিকে সোমবার রাতেই একটি কার্গোপ্লেনে করে পালিয়েছে আসামী আনভীর সোবহান।

রাজধানীর গুলশানে অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে হত্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আসামীকে গ্রেফাতারের দাবি করেছেন তার স্বজনেরা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে নিজ ফ্ল্যাট থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তরুণীর পরিবার। এদিকে কলেজ ছাত্রী মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার ভগ্নিপতি ও বোন।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে তার ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান বলেন, আমার শ্যালিকা (মুনিয়া) আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। দুদিন আগেও তার সঙ্গে কথা বলেছি। আত্মহত্যা করবে এমন কোনো মোটিভেশন ছিল না। আমাদের মনে হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এখন আমরা ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করবো।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে আজ (২৭ এপ্রিল) মুনিয়ার নিথর দেহ তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাদ আসর জানাযার নামাজ শেষে নগরীর টমছমব্রিজ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৪ টায় নগরীর  উত্তর বাগিচাগাঁও এলাকার অরণি হাউজের সামনে আসে মুনিয়ার মরদেহ বহন করা গাড়ি। সেখানে অপেক্ষমান স্বজনরা লাশের গাড়িতে এক পলক দেখেন মুনিয়াকে, জানান শেষ বিদায়।

পরে সেখানে কান্নারত কন্ঠে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান উপস্থিত সংবাদিকদের বলেন, আমার বোনকে মানসিক নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি মামলা করেছি। আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার দাবি জানাই। তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ঢাকার একটি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন কুমিল্লার মেয়ে মোসারাত জাহান মুনিয়া। রাজধানীর গুলশানের ১২০ নম্বর রোডের এই বাড়িতে গেল মাসের ১ তারিখে ভাড়া আসেন তিনি। বাসাটির ভাড়া ছিল ১ লাখ টাকা। বাসায় একাই থাকতেন কলেজছাত্রী মুনিয়া। খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বাসার তিন তলার ফ্ল্যাট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করে গুলশান থানা পুলিশ।

এ ঘটনার পর সোমবার গভীর রাতে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান। থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top