চেষ্টা করেও আত্মহত্যা থেকে ফেরানো গেল না তাকে

বগুড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তি ৭ তলা একটি বাণিজ্যিক ভবনের ৫ম তলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শহরের বড়গোলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ওই ব্যক্তির নাম টমাস সরকার (৩৮)। তিনি শহরের চকসুত্রাপুর নামাজগড় এলাকার মৃত হাফিজার রহমান সরকারের ছেলে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মহিদুর রহমান মুক্তা নামে এক ব্যবসায়ী জানান, বড়গোলায় ৭তলা একটি বাণিজ্যিক ভবনের পেছনে প্লাস্টারের কাজ চলছে। সেজন্য ভবনের পেছনে নিচ থেকে ৭ তলা পর্যন্ত বাঁশ লাগানো রয়েছে। বেলা সোয়া ৩টার দিকে হঠাৎ শোনা যায় এক ব্যক্তি সেই বাঁশ বেয়ে ৫ তলা পর্যন্ত উঠে গেছে। তখন ওই ভবনে থাকা কর্মীরা ওপরে গিয়ে তাকে নেমে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত না করে উল্টো আত্মহত্যার হুমকি দেন। তখন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

তিনি জানান, পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সাড়ে ৩টার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের ৫ তলার ওপর উঠে বাঁশ ধরে থাকা লোকটিকে নিরাপদে নেমে আসতে অনুরোধ জানান। কিন্তু ওই লোকটি তাতে সাড়া দিচ্ছিলেন না।

এদিকে ওই ব্যক্তির আত্মহননের মুহূর্তের একটি ভিডিও সমকালের হাতে এসেছে। তাতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধারের জন্য তৎপর ছিলেন।

বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল হালিম জানান, উদ্ধারের জন্য ভবনটি থেকে বাঁশ পর্যন্ত মই নেওয়ার চেষ্টা করতেই ওই লোকটি হঠাৎ করে বাঁশ ধরে থাকা দু’ হাত ছেড়ে দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে নিচে একতলা ভবনের ছাদে দিয়ে পড়ে যান। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, ওই লোকটিকে ৪টা ২৮ মিনিটে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপতালে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল সংলগ্ন ছিলিমপুর পুলি ফাঁড়ির সাব ইন্সপেক্টর আশরাফুল ইসলাম জানান, বিকেল সাড়ে ৫টর পর লাশটি মর্গে আনা হয়।

টমাস সরকারের বড় ভাই শামীম সরকার জানান, তারা ৫ ভাই ২ বোন। ছয় বছর আগে তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে সবার ছোট টমাস সরকার মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘টমাস এর আগেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।’

বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনা ঘটার পর লোকটির পরিচয় জানা যাচ্ছিল না। তবে বিষয়টি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ার পর তার নাম ও পরিচয় সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হতে পারি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন টমাস সরকার মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top