হেঁটেই বাড়ির পথে ৩ বন্ধু!

রিপন, কাউছার এবং আজিজুল তিন বন্ধু। তিন জনই কাজ করেন একটি ওয়েলডিং ওয়ার্কশপে।

সোমবার (১০ মে) সকাল নয়টায় রাজধানীর পান্থপথ থেকে হাঁটা শুরু করেন তারা। উদ্দেশ্য প্রায় ৬০ কিমি দূরে তাদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ।
ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে রিপন জানান, আমরা তিন জনই ৭-৮ বছর ধরে একটি ওয়েলডিং ওয়ার্কশপে কাজ করি, কিন্তু কখনোই মা ছাড়া ঈদ করিনি। করোনা-লডডাউন-গাড়ি বন্ধ কোনো কিছুই আমাদের আটকাতে পারবেনা ইনশাআল্লাহ। ৫০ থেকে ৬০ কিলো রাস্তা হেঁটেই চলে যাব বাড়ি। কত আর সময় লাগবে, ১০-১২ ঘণ্টা হয়তো। প্রাইভেটকার-সিএনজি পাচ্ছি কিন্তু ভাড়া চায় ১০ গুণ। এত ভাড়া দিয়ে গাড়িতে গেলে বাড়ি গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে আর ঈদ করা সম্ভব হবে না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার হেঁটেই চলে যাবো।

ঈদের ছুটি হওয়ার আগেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করছেন নিম্নআয়ের মানুষ। সোমবার (১০ মে) সকাল থেকে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ, সিএনজি ও রিকশা বা ভ্যানগাড়িতে করে ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে।

গাবতলীর আমিন বাজার ও শালিপুর থেকে শুরু হয়েছে মানুষের ঢল তেমনি প্রচণ্ড যানজট। তার মধ্য দিয়ে যে ভাবে পারছে ঈদের ছুটি কাটানোর জন্য ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে।

মো. রাশেদসহ আরও পাঁচ বন্ধু মিলে আটকে রয়েছেন গাবতলী টেকনিক্যাল বাস কাউন্টারের সামনে। তারা যাবেন বগুড়া শহরে। রাশেদ বাংলানিউজকে বলেন, আমরা সবাই চট্টগ্রাম (জেটিপিসি) চায়না একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। রোববার (৯ মে) রাত দশটায় কোম্পানির গাড়িতে করে আমাদেরকে এখানে পৌঁছে দিয়েছে। ভেবেছিলাম গাবতলী আসলে একটা ব্যবস্থা হবে কিন্তু কোনো ব্যবস্থা দেখছিনা, হঠাৎ দুই-একটা প্রাইভেটকার যেতে চায় কিন্তু জনপ্রতি ভাড়া ২৪শ টাকা। কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।

সিএনজি চালিত অটোরিকশায় গাবতলী থেকে আরিচা ঘাটের ভাড়া জন প্রতি আজ ৩৫০ টাকা। পাঁচ জন করে এক সিএনজিতে মোট ১৭৫০ হাজার টাকা করে যাচ্ছে আরিচা পর্যন্ত।

সকাল থেকে গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যাদের মুখে মাস্ক নেই তাদেরকে মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছেন এবং করোনা থেকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।

অন্যদিকে গাবতলী আমিন বাজার শালিপুর এলাকায় তীব্র যানজট লেগে আছে। আর এই যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সসহ নানা জরুরি পরিবহনগুলো।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top