সম্পর্ক শুরু হবার পর বুঝেছি আমি কী ভুল করলাম…”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমার বয়স ২৫ বছর। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। চার বছর ধরে একজনের সাথে আমার সম্পর্ক। সে আমার ক্লাসমেট। আমার পরিবারের সাথে তার পরিবারের সামাজিক অবস্থান কোনভাবেই মিলে না। আমার বাবা, মা এবং পরিবারের সবাই উচ্চ শিক্ষিত। তার পরিবারে সে এবং তার বড় ভাই ছাড়া কেউই পড়াশোনা করে নি। আমি তাঁকে প্রথম থেকে ভালবাসতাম। একসময় তাঁকে ভালবাসার কথা জানাই। সে প্রথমে রাজি হতে চায় না। পরে কি ভেবে যেন রাজি হয়। এভাবেই সম্পর্ক শুরু হয়।

সম্পর্ক শুরু হওয়ার পর বুঝতে পারি আমি কত বড় ভুল করেছি। সে আমার সাথে খুব বাজে ব্যবহার করতো। কথায় কথায় ঝগড়া আর অকথ্য ভাষায় গালাগালি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। আমার দোষটা কোথায় আমি সেটাই বুঝতে পারতাম না। আমি কীভাবে তার মন রক্ষা করে চলতে পারবো সেটাই বুঝতাম না। আমি তাঁকে খুব ভালবাসতাম। তাই কখনোই তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করি নি। এভাবেই তিন বছর পার হয়ে যায়। আমি আর সহ্য করতে না পেরে এক সময় সরে আসার সিদ্ধান্ত নেই। আমি তার সাথে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। তখন আমার খুব কষ্ট হয়েছিল, তবু এই সিদ্ধান্তটা নিতে বাধ্য হই। এভাবে ৩ মাস পার হওয়ার পর আমি আর থাকতে পারছিলাম না। তাই আবার তার সাথে যোগাযোগ করি ঝামেলা মিটিয়ে ফেলার জন্য। কিন্তু সে সরাসরি বলে দেয়, সে সম্পর্ক রাখতে চায় না। আমি তখন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এরপর আর কখনোই যোগাযোগ করি নি।

এক সময় আমি নিজেকে সামলে নেই। পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। হঠাৎ একদিন সে আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং সবকিছুর জন্য ক্ষমা চায়। সে আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করতে চায়। কিন্তু ততদিনে আমি নিজেকে অনেকটাই সামলে নিয়েছি। আমি তাঁকে মানা করে দেই। সে ভীষণ কান্নাকাটি করে। এভাবে সে প্রতিদিনই আমাকে ফোন করে কাঁদত। এক সময় আমার মন নরম হয়ে যায়। আমি আবার তার সাথে সম্পর্ক ঠিক করি। সম্পর্ক ঠিক হওয়ার পর তার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন আগের চেয়ে কম ঝগড়া হয়, গালাগালিও তেমন করে না। সে আমাকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তার বড় ভাই এবং ভাবী আমাকে মোটেই পছন্দ করে না। তারাই তার পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।সে তার ভাই ভাবীর কাছে আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে সব শেয়ার করেছে। তারা আমাকে খুব ঘৃণা করে। তার কোন সমস্যা হলেই তার ভাই আমাকে দোষারোপ করে। সব ঝামেলার জন্য আমাকে দায়ী করে। সে তার ভাই ভাবীকে খুব ভালবাসে। তাই সে তাঁদের কিছু বলে না।

আমার মনে হচ্ছে তাকে বিয়ে করলে আমি আমার প্রাপ্য সম্মানটুকু পাবো না, তার কাছেও না, তার পরিবারের কাছেও না। আবার এটাও ভাবি, বাবা মার পছন্দে অচেনা কাউকে বিয়ে করলে এরচেয়েও খারাপ অবস্থা হতে পারে। আমার এখন কী করা উচিত?”

পরামর্শ:

আমার মনে হয় আপু, আপনার ধারণাটা ঠিক। এই পরিবারে বিয়ে করলে আপনার সুখী না হবার সম্ভাবনাই বেশী। ছেলেটি আপাতত হয়তো বাজে ব্যবহার করছে না। কিন্তু মানুষ নিজের স্বভাব বদল করতে পারে না। কোন গ্যারান্টি দেয়া যায় না যে সে কিছুদিন পর বাজে ব্যবহার করবে না। তাছগা, বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামীর চাইতেও জরুরী স্বামীর পরিবার। চেলেতি যেহেতু ভাই ভাবী ছাড়া কিছু বোঝে না আর ভাই ভাবী আপনাকে ঘৃণা করে, সেহেতু আমি এখানে আপনার কোন ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি না।

অচেনা কাকে বিয়ে করলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে, কিন্তু ভালোও তো হতে পারে আপু। তাই না? অনেকেই তো পারিবারিকভাবে বিয়ে করে সুখে থাকছেন। কিন্তু এখানে বিয়ে করার অর্থ হবে জেনেশুনে আগুনে ঝাঁপ দেয়া। অন্তত এখন পর্যন্ত তেমনই মনে হচ্ছে আমার।

আমার মনে হয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আরও ভালো করে ভেবে দেখুন আপু।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top