পাঁচ বছর পর মা-বাবা আমাকে আবারও বিয়ে দেন গরীব ঘর দেখে…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমার জীবনে বড় একটা ভুল ছিল যখন আমি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে গিয়েছিলাম তখন নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করে ফেলেছিলাম। আমার বয়স তখন ১৮ ছিলো আর আমার বাবা মা কেউ ই বিয়েটা মেনে নেননি। ছেলেটা যে নেশা করত তা আমি আগে জানতাম না। ৪ মাস পর বাবা আমাকে ডিভোর্স করিয়ে লন্ডনে নিয়ে আসেন। আমি ঐ বাড়িতে প্রথম স্বামীর সাথে ১৫ দিনের মত ছিলাম।

৫ বছর পর বাবা-মা আবার আমাকে বিয়ে দেন গরীব ঘর দেখে। স্বামীকে দেখতে এত ভদ্র মনে হয়েছিলো যা বলার বাইরে। আমার অতীতের সবকিছু মা আগেই তাঁকে বলেছে, আমি নিজেও বলেছি। মানে আমার আগের বিয়ের কথা। মা বলেছিলো বিয়ের পর আমি ছেলেকে লন্ডন নিয়ে যাবো। বিয়ের পর ওরা বলতে শুরু করলো আমরা নাকি কিছু বলিনি আগের বিয়ের ব্যাপারে।

ছেলে বা ছেলেরপরিবার এখন আর আমার সাথে যোগাযোগ করেনা। এক মাস পর আমার বাচ্চা হবে, আমি এখন লন্ডনে আছি। প্লিজ বলুন আমি কী করবো?

উল্লেখ্য যে বাংলাদেশে থাকতেও ওরা অনেক বাজে ব্যবহার করত। অথচ একবারও ভাবেনা যে ওরা আমার পরিবারের যোগ্য নয়, ওদের কিছুই নেই। বলেছিলো ওর বাবা ব্যবসা করে, সেটাও মিথ্যে ছিলো। কী করে মানুষ এত মিথ্যে বলতে পারে।ওরা আমার সাথে খুব খারাপ আচরণ করত। কথায় কথায় সন্তান নষ্ট করে ফেলার কথা বলত।

আমি এখন কী করবো?”

পরামর্শ:

আপনার কথাগুলো খুব সংক্ষেপে লেখায় অনেক কিছুই আমি বুঝতে পারছি না আপু। যেমন, মা বলেছিলেন ছেলেকে লন্ডনে নিয়ে আসবেন। সেটা কি আপনারা আনেন নি, নাকি ওরাই আসতে চাইছে না?

প্রথম জীবনে একটা বড় ভুল হয়ে গেছে আপনার জীবনে, এবং আমার ভয় হচ্ছে, দ্বিতীয় বিয়েটিও আপনার ভুলই হয়েছে আপু। পিতা মাতা হয়তো এটা চিন্তা করেছিলেন যে গরীব ঘরের পাত্র হলে কখনো আপনার কথার ওপরে কথা বলবে না বা আপনার অতীত নিয়ে মাথা ঘামাবে না। লন্ডনে আসতে পেরেই খুশি থাকবে ইত্যাদি। আর এটাই ছিল আপনাদের সবচাইতে বড় ভুল। সম্পর্ক সর্বদা সমানে সমানে হওয়াই ভালো। আর যে ছেলে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে বিধায় আপনার ওপরে কথা বলবে না, তার সাথে সংসার সুখের হবার তো প্রশ্নই ওঠে না। প্রথম থেকেই আপনাদের মাঝে স্বামী-স্ত্রী সুলভ সম্পর্কের চাইতে বেশী ছিল দেয়া নেয়া ধরণের সম্পর্ক।

যাই হোক, যেহেতু সন্তান হবে, সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখার শেষ একটা চেষ্টা করতে হবে। আপনি প্রথমেই ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখুন যে মা কি আসলেই পাত্র পক্ষকে সব সত্যি কথা বলেছিলেন? যদি মা আসলেই বলে থাকেন এবং তার পরও পাত্র পক্ষ সেটা অস্বীকার করছে, এটার অর্থ তাঁরা আসলেই সম্পর্ক রাখতে চান না। এখন আপনাদের একটাই করণীয়, সেটা হচ্ছে যাদের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছিল, পরিবারের সেইসব মুরুব্বিদের সাথে যোগাযোগ করা। সবাই মিলে পাত্রের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করুন যে তাঁরা আসলে কী চায়। তাঁরা কি সম্পর্ক রাখতে চায়, নাকি চায় না। আপনি জানান যে এভাবে ঝুলন্ত সম্পর্ক রক্ষা করতে আপনি আগ্রহী নন এবং একটা ফয়সালা চান। স্বামীকে লন্ডনে নিয়ে আসতে চান। পাত্র যদি লন্ডনে আসে তাহলে দুজনে মিলে সংসার করবেন বাচ্চাকে নিয়ে, এমনটা দাবী করে দেখুন। তারপর দেখুন পাত্রপক্ষ কী জবাব দেয়।

যদি তাঁরা মানা করে দেয় যে কোন সম্পর্ক রাখবে না, তাহলে তো কিছু বলার নেই। আর যদি সমঝোতায় রাজি হয়, তাহলে আপনারাও একটু চেষ্টা করে দেখুন। তবে হ্যাঁ, সবার আগে আপনি নিজের মনকে জিজ্ঞেস করে দেখুন। আপনি কী এই সম্পর্কটি রাখতে চান? আপনি কি স্বামীকে ভালোবাসেন? আপনি কি এত অপছন্দের মাঝে স্বামীর সাথে ভালো থাকতে পারবেন? যদি উত্তর গুলো হ্যাঁ হয়, তবেই কেবল সম্পর্ক জোড়া লাগানোর কথা ভাবুন। কারণ ভালোবাসা ও বিশ্বাস ছাড়া দাম্পত্য অর্থহীন।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top