ওর ডিভোর্সটা হয়ে গেলেই আমরা বিয়ে করতে চাই, কিন্তু…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমি একটি মেয়েকে খুব ভালোবাসি। ও আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমাদের সম্পর্কের ৩ বছর চলছে। গত বছর ওর বিয়ে হয়ে যায়। ও কোনভাবেই বিয়েতে রাজী ছিলোনা। ওর পরিবারের চাপে বিয়েটা করেছে। আর আমিও ওই সময় দেশের বাইরে ছিলাম, তাই কিছু করতে পারিনি। কেবল আল্লাহর উপর ভরসা রেখেছিলাম।

ওর বয়স ২০ বছর আর ওর স্বামীর বয়স ৩১। ওর স্বামী লন্ডনে থাকে। বিয়ের দুই পর ওর স্বামী লন্ডনে চলে যায়। ওর বিয়ে হবার পর আমি কেবল আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া চাইতাম আল্লাহ্‌ যেন আমাদের মিলিয়ে দেয় কারণ তিনি চাইলে সব পারেন।

ওর হাজব্যান্ড লন্ডন যাওয়ার পর ওর সাথে ভালোভাবে যোগাযোগ করেনা, ও কে কল দেয়না। আর ও হাজব্যান্ডের সাথে ভালোভাবে কথা বলতে পারেনা। ও দুইবার চেয়েছিলো আমাকে ভুলে হাজব্যান্ডের সাথে ভালোভাবে থাকতে। কিন্তু পারেনি, আমিও পারিনি। এক কথায় ওর সাথে ওর স্বামীর কোন সম্পর্ক নেই। ওর স্বামীকে ও কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেনা। ওর পরিবারকে এসব কথা ও বলেছে কিন্তু তারা কোন পাত্তা দেয়না। ও ডিভোর্স দিতে চেয়েছে কিন্তু পরিবার তাতেও রাজী হচ্ছেনা।

আমরা দুজন ঠিক করেছিলাম পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করবো। পরে আবার ভেবেছি ডিভোর্স না হলে বিয়ে করবো কীভাবে? আমাদের একটা ভালো উপায় বলবেন? কীভাবে সুন্দর একটা উপায় আমরা মিলতে পারবো? আমাদের জন্য কী করা ভালো হবে? পালিয়ে যাওয়া নাকি ডিভোর্সের জন্য অপেক্ষা করা?”

পরামর্শ:

আপনার চিঠি পড়ে মনে হচ্ছে মেয়েটিকে আপনি খুবই ভালোবাসেন। আর মেয়েটিও আপনাকে। তারপরও আমি বলব, দ্বিতীয়বার খুব মন দিয়ে ভেবে দেখুন। মেয়েটির বিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়েছে, স্বভাবতই সে স্বামীকে মেনে নিতে পারছে না। তবে আপনি ভেবে দেখুন ডিভোর্সি মেয়েটিকে বিয়ের পর আপনি মেনে নিতে পারবেন কিনা। বা আপনার পারিবারিক যেসব সমস্যা হবে, সেগুলো আপনি সমাধান করতে পারবেন কিনা। মেয়েটির সাথে নিশ্চয়ই স্বামীর শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, এই ব্যাপারটিও ভবিষ্যতে আপনাদের মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি করবে কিনা, সেটাও ভালোমত ভেবে নেবেন। কেননা আপনার জন্য এটি প্রথম বিয়ে হলেও মেয়েটির জন্য হবে দ্বিতীয় বিয়ে। এই বিয়েতেও যদি সমস্যা হয়, মেয়েটির জীবনই শেষ হয়ে যাবে।

যদি সবকিছু ভাবনার পর আপনাদের উত্তর হ্যাঁ হয়, যদি পরস্পরকে বিয়েই করতে চান আপনারা, তাহলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পালিয়ে যাওয়া কোন সমাধান না, অন্যের স্ত্রী নিয়ে পালিয়ে গেলে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন আপনি। এক্ষেত্রে যা করতে হবে, ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হবে। প্রথমেই বিয়ের কাবিন নামারব কপি সহ একজন কাজির সাথে যোগাযোগ করুন। কাবিন নামার কপি না থাকলে কপি যোগাড় করুন। খোলা তালাক বলে এক রকমের তালাক দেয়া যায়, যেটা নারী এক তরফা দিতে পারেন। কাজীর মাধ্যমে এই তালাকের জন্য আবেদন করুন। তালাকের আবেদনের একটি কপি স্বামীকেও পাঠানো হবে এবং একটি নির্দিষ্ট সময় দেয়া হবে। এই সময়ের মাঝে নারী যদি সমঝোতা করতে রাজি না হন, তাহলে তালাক হয়ে যাবে। তখন তালাক রেজিস্ট্রি করিয়ে নিলেই হবে। আপনার প্রেমিকা নিজের ইচ্ছার সমঝোতা না করলে এই তালাক কেউ ঠেকাতে পারবে না। এই তালাকের সময়টুকুন যেভাবেই হোক আপনাদের পার করতে হবে। এই সময়টা খুবই কষ্টের হবে। পারিবারিকভাবে মেয়েটি অসম্ভব চাপের সম্মুখীন হবে। এক্ষেত্রে মেয়েটি কিছুদিনের জন্য অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে পারে। তবে অবশ্যই আপনার সাথে না। একইসাথে আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে আপনারা কিছু অগ্রিম ব্যবস্থা করে রাখতে পারেন যেন মেয়েটিকে বাবার বাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি জোর পূর্বক কিছু করাতে না পারে।

ডিভোর্সটি হয়ে গেলে আপনি মেয়ে বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিন। যদি পরিবার মেনে নেয় তো খুব ভালো। হয়তো নেবে। যদি না নেয়, তাহলে আপনারা প্রাপ্ত বয়স্ক, আপনার পরিবারের সম্মতিতে দুজনে সিদ্ধান্ত নিন। তবে হ্যাঁ, অন্তত একটি পরিবারের সমর্থন যেন অবশ্যই থাকে আপনাদের সাথে। সেটা সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top