আমি গর্ভবতী, সে অন্য মেয়েকে নিয়ে ঢাকার বাইরে গিয়েছে…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আপু, আমি আপনার কলামের নিয়মিত একজন পাঠিকা। আমার নামটা গোপন রাখবেন। আপু, আমি খুব খারাপ একটা অবস্থায় ফেঁসে গেছি। আমি একদম শুরু থেকে বলি।

খুব ছোট বেলায় বাবা-মার মধ্যে নারীঘতিত সমস্যা দেখেছি। আমি বড় হতে হতে সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। তাই এই বিষয়টা খুব অপছন্দ করতাম। আমি যখন কলেজে পড়ি একটা ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক হয়। এবং তা প্রায় এক বছর ছিল। এর মধ্যে আমাদের ২/৩ বার শারীরিক সম্পর্ক ও হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আমি বুঝতে পারি যে আমি ওকে না, আমার অন্য এক বন্ধুকে পাগলের মত ভালবাসি। তাই ওকে সব জানাই এবং সরে আসি।

পরবর্তীতে জানি যে আমার ওই বন্ধুও আমাকে পছন্দ করে। আমিও তার জীবনে প্রথম নই বরং তার জীবনে এর আগে বহু মেয়ে ছিল। কিন্তু সব জেনেও আমি তাকে এবং সে আমাকে প্রচণ্ড ভালবেসে ফেলি। তার পরিবার আমার পরিবার থেকে অনেক পিছিয়ে এবং সে এস.এস.সি পাশ জেনেও আমি তার কাছ থেকে সরতে পারি নাই। যদিও আমদের সম্পর্ক এর প্রায় ১ বছর পর আমি তার পড়ালেখার সত্যটা জেনেছি। চাওয়া সত্তেও আমি ওকে ছাড়তে পারি নাই।এবং সেও আমাকে অনেক ভালবাসে।

পরে আমরা আমাদের সম্পর্কের ১.৫ বছর পর পালিয়ে বিয়ে করি। তখন আমি এইচ.এস.সি পাশও করে ফেলেছি। কিন্তু কোন ভাবে তাকে পড়ালেখা শুরু করাতে পারিনি। আমাদের বিয়ের পর আমার পরিবার অনেক ঝামেলা করে আমাকে নিয়ে আসে। তখন আমার বয়স ১৭ বছর ৫ মাস। আমি দেড় মাসের মাথায় আবার পালিয়ে ওর কাছে চলে যাই। পরে ৬ মাস পর দুই পরিবারের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যায়। কিন্ত আমি ওদের পরিবারের কিছু সত্য জেনে যাই। যদিও আমি এখনও আমার হাজবেন্ডকে জিজ্ঞাসাও করি নাই এগুলা সম্পর্কে। শুধু ও কষ্ট পেতে পারে ভেবে। ওর পরিবারের কেউ আমাকে কোন দিন কোন কিছু বলেও না, এমনকি সারা দিন কথাও বলতে আসে না। আমি চুপ করে থাকি। এমনকি তারা তাদের ছেলের সাথেই ঠিক মত কথা বলে না। ও আমাকে অনেক সাপোর্ট করে কিন্তু নিজে কোন কাজ করে না। পরিবারও কোন সাহায্য করে নাই।

বিয়ের আগেই ওর টুকটাক বাজী লাগানোর অভ্যাস ছিল ওটাও আমি ছাড়াতে পারিনি।। পরে একদিন বলল যে পরিবার কিছু করে দেয় না, কিন্তু নিজের খরচ তো আছেই। তাই সে চাইলেও ছাড়তে পারছে না। আমি মেনে নেই। আমার পরিবার আমাকে অনার্সে ভর্তি করে দেয় এবং তারাই খরচ চালায়। আমি যথাসম্ভব পরিবারে সময় এবং কাজে সাহায্য করি। যদিও ওদের বংশে আমার অনেক সুনাম। আর আমার পরিবারে সবাই ওকে অনেক ভালবাসে। আমাদের বিয়ের ৩ বছর হয়েছে। এর মধ্যে ওর অবস্থার জন্য ২ বার এবোরসন করাতে বাধ্য হই। কিন্তু বিয়ের ২ বছরের মাথায় আমি জানতে পারি ওর অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে। আমি ওর পরিবারকে জানাই কিন্তু তারা ওর পক্ষ সমর্থন করে। কিন্তু আমার কথায় ও ফিরে আসে। আমি আমার পরিবারে লজ্জায় জানাতে পারি নাই যেহেতু তাদের হাজার অমতে আমাদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু এরপরে শুরু হয় ওর এই একই জিনিস বারবার করা। এই পর্যন্ত ৮/৯ বার আমি ওকে আলাদা আলাদা মেয়ের ব্যাপারে ধরেছি। প্রতিবার আর হবে না বলে ও আমাকে কথা দিয়েছে এবং আবার করেছে। কিন্তু গত জুলাইতে সে আমাকে না বলে ১ মেয়েকে নিয়ে ৩ দিনের জন্য ঢাকার বাইরে থেকে ঘুরে এসেছে, একসাথে থেকে এসেছে। আমি এটাও ওর ঢাকায় আসার পর দিনই ধরে ফেলেছি এবং ওকে ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি এবং আমার মা এবং বড় ভাইকে জানাই। ও সেবার এসে আমার হাত পা ধরে মাফ চেয়ে আমাকে বিশ্বাস দিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু লুকিয়ে ওই মেয়ের সাথে কথা বলতে থাকে। আমি আবার জেনে গেলে বলে ওই মেয়ে ওকে ডিস্টার্ব করে। আমি ওই মেয়ের পরিবারে ফোন করে সব জানিয়ে দেই এবং ওদের এই সম্পর্কটা কমে যায়। আমার জানা মতে ছিলই না কিন্তু ওই মেয়ে পরে আমাকে জানায় যে মাঝেমাঝে কথা হত।

আমি ৩ মাসের প্রেগন্যান্ট, তাও আবার জমজ বাচ্চার। আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছি কিন্তু ওই মেয়ে এখন আবিষ্কার করেছে যে আমার স্বামী এখন ওই মেয়ের পাশের বাসার ১ মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলে। সেটা ওই মেয়ে আমাকে বলে এবং আমিও বুঝতে পারি যে এটাই সত্য। আমার প্রেগন্যান্সির খবর শোনার পর আমি আমার স্বামীর মধ্যে অনেক চেঞ্জ দেখেছিলাম। কিন্তু সে আবার এগুলা করছে জেনে আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি। আমি গতকালই আমার বাসায় চলে এসেছি। আমাকে প্রথমে ৫/৬ বার ফোন দিলেও আর পরে যোগাযোগের চেষ্টাও করে নি। আমি শুধু এখন ওকে শুধু ডিভোর্স দিতে চাই। কিন্তু আমি এখনও ওকে পাগলের মত ভালবাসি। আমি জানি ও আমাকে ছাড়া পাগল হয়ে যাবে। আমাকেও সে প্রচুর ভালবাসে কিন্তু সে নিজের খারাপ অভ্যাস ছাড়তে পারছে না। সম্প্রতি সে রাজনীতিতে ঢুকেছে।

আমি মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে আছি আপু।বা সায় কাউকে লজ্জায় কিছু বলতেও পারছি না। শুধু মা সব জানে। মা বলেছে যে ডেলিভারি পর্যন্ত চুপ থাকতে। ইসলামেড় নিয়মে প্রেগন্যান্সির সময় তালাক হয় না তাই।আর আমার পরিবার আমাকে যেকোনো অবস্থায় সাহায্য করবে। কিন্তু আপু আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো কিনা জানি না কিন্তু ওর এই অভ্যাস মেনে নিয়ে থাকতে পারব না। আমি আমার ছোটবেলা আমার সন্তানকে দিতে চাই না। কিন্তু আমি ওকে এখন ওকে অনেক ভালবাসি। আমি জানি আমার এই অবস্থা শুধু আমিই বানিয়েছি। আমি আমার বাবা মা কে আর কষ্ট দিতে চাই না।

আমার এখন কী করা উচিৎ?”

পরামর্শ:

আপনি ঠিকই ধরেছেন আপু, নিজের জীবনের এই ভয়াবহ অবস্থার জন্য আপনি নিজেই দায়ী। ভুল মানুষকে ভুল সময়ে বিয়ে করেছেন, পরিবারকে এভাবে কষ্ট দিয়েছেন, সব জেনেশুনেও এই মানুষটার সন্তান গর্ভে ধারণ করেছেন… মিথ্যা আশ্বাস দেব না আপু। এই ভুলের কারণে আসলেই আপনাকে অনেক বড় বড় মাসুল গুণতে হবে জীবনে।

যাই হোক, আমার অন্তত মনে হয় না আপনার স্বামী কখনো সংশোধিত হবেন। আমার মনে হয় আপনি নিজেও সেটা ভালভাবেই জানেন। তাই সেই আশা না করাই ভালো। মা ঠিক বলেছেন, মায়ের কথা শুনুন। এবং এই সম্পর্কটা থেকে বের হয়ে যাবার সমস্ত চেষ্টাই করুন। বাচ্চাদের কথা ভাববেন না। এমন বেকার আর চরিত্রহীন বাবার কাছ থেকে আপনার সন্তানেরা কিছুই পাবে না। আপনি ভাগ্যবতী যে এতকিছুর পরও পরিবার আপনার পাশে ঠিকই আছে। তাই আমার মনে হয় পরিবারের কথাই এখন আপনার শোনা উচিত। পরিবার যা সিদ্ধান্ত নেবে, ভালোই নেবে।

গর্ভবতী বলে লেখাপড়ার ক্ষতি হতে দেবেন না আপু। লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো আপনার জন্য খুবই জরুরী। মনে সাহস রাখুন। সব ঠিক হয়ে যাবে। আপানার সম্পূর্ণ অধিকার আছে নতুনভাবে জীবন শুরু করার। যে ভুল অতীতে করেছেন, সেই ভুল আর করবেন না প্লিজ। স্বামী আপনাকে অনেক ভালোবাসে, এটা আপনার একেবারেই ভুল ধারণা। আপনি তাঁকে ভালোবাসেন বলে আপনার এমনটা মনে হচ্ছে। স্বামী যদি আপনাকে অনেক ভালোই বাসতেন, কখনো অন্য নারীতে আসক্ত হতেন না। অন্য নারীকে নিয়ে হোটেলে গিয়ে থাকার তো প্রশ্নই আসে না। আপনার স্বামী একজন অসুস্থ মানুষ, তার নারী আসক্তি অসুস্থতার সব সীমা অতিক্রম করেছে। এবং আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে আপনাকে ছাড়া তার কিছুই হবে না, পাগল হওয়া অনেক দূরের ব্যাপার। স্বার্থপর মানুষেরা কখনো পাগল হয় না।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top