স্বামীর বড় ভাবীর অত্যাচারে জীবনটা নরক হয়ে উঠেছে…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“কখনও ভাবিনি আমার জীবনের সমস্যা আজকে এই পরিস্থিতিতে আসবে। পরিবার থেকে আমার বিয়ে দেয়া হয়েছে আজ ৮ বছর। বিয়ের পর দেশের বাইরে চলে আসি। আমার স্বামীর পুরো পরিবার এখানে থাকে। আসার পর থেকেই আমার স্বামীর বড় ভাবী আমার সাথে বাজে ব্যবহার করত। আর সবকিছুতেই আমাকে ছোট করত যা একেবারেই সহ্য করার মত ছিলোনা। যেহেতু আমি একটু শান্ত স্বভাবের মেয়ে তাই কারো সাথে এসব তেমন শেয়ার করতাম না আর চেষ্টা করতাম আমার দ্বারা যেন কোন ঝামেলা না হয়। এসব নিয়ে আপসেট থাকতে থাকতে স্বামীর সাথেই একটা দূরত্ব হয়ে গেছে। ওর সাথে শেয়ার করেও কোন লাভ হয়নি। যাইহোক, ঐ মহিলা সবসময় আমার শাশুড়ি আর স্বামীকে কানপড়া দিত। আমি সবকিছু চেপে থাকতাম। চাইতাম না আমার কোন কার্যালাপে দেশে থাকা আমার পরিবারের বদনাম হোক। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে আমার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। উনার সাথে আমার এই পর্যন্ত বেশ অনেকবার কথা কাটাকাটি হয় এবং কিছুদিন আগে সে আমার গায়ে হাত তোলে।

আমার স্বামী প্রথম থেকেই এই ব্যাপারে উদাসীন। উনি সবকিছুতেই ঐ মহিলার সাথে আমার তুলনা করে। আমি কিছু বলতে গেলে আমাকেই উলটা গালি দেয়। সবকিছু চিন্তা করে আমি নিজে থেকে স্যরি বলে বেশ অনেকবার সবকিছু ঠিক করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তার ভাবী আমার সাথে কথা বলতে নারাজ। আমার যে কি দোষ সেটাও কেউ এখনো পরিষ্কার জানিনা। আপু, আজকাল আমি এতটাই মানসিক হতাশ হয়ে থাকি যে বাচ্চাদেরও ঠিকমত খেয়াল রাখতে পারছিনা। যেহেতু আমরা জয়েন্ট ফ্যামিলি তাই উনার অত্যাচার ২৪ ঘন্টাই সহ্য করতে হয়। এখন মনে হয় আমি এই পরিবারে আসার আগে যখন ওরা ভালো ছিলো, তখন আমিই সমস্যা। ভাবি যে বাচ্চাদের নিয়ে ওদের পরিবার থেকে দূরে কোথাও চলে যাবো। উনি যেন আমার ছায়াও সহ্য করতে পারেনা। কিন্তু আমার স্বামী আর শাশুড়ির সাথে ঠিকমত ব্যবহার করে। আমি কী করবো আপু? কোন কিছুই চিন্তা করে খুঁজে পাচ্ছিনা।

বিয়ের আগে আমি বিবিএ ৩য় বর্ষে পড়তাম কিন্তু আর পড়াশোনার দরকার নেই বলে আমার স্বামী আমাকে আমেরিকায় নিয়ে আসে। যার কারণে আমি বিবিএ শেষ করতে পারিনি। কিন্তু ওর পরিবারের সব মহিলাই জব করেন। টাকা পয়সার দিক থেকে আমাকে কোন কষ্ট দেয়নি কিন্তু বউ এর মর্যাদা আমি কখনও পাইনি। ও সবসময় নিজের চাওয়াটাকেই বড় করে দেখে। আমার পরিবার বা পরিচিত কারোর সাথে মিশতে চায়না এবং আমাকেও মিশতে দিতে চায়না। সবসময় নিজের পরিবারকে বড় করে দেখে আর আমাকে সবকিছুতেই ছোট করে। এখন আমার যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে। ওর আচরণ দেখে মনে হয় আমি আলাদা হলেও সুখী হতে পারবোনা। কিছুদিন আগে ওর ভাবীকে নিয়ে বলায় আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে, এমনকি গায়ে হাত তোলে। আমি ওদের পরিবারের অন্যদের তুলনায় কম সুন্দরী বলা চলে। তার উপর ওরা সবাই বড় হয়েছে বিদেশের মাটিতে। আর আমি তো আন্ডার গ্র্যাজুয়েট, তাই হয়তো ও আমার সাথে ম্যাচ করতে পারছেনা। মাঝে মাঝে বলে বাংলাদেশে বিয়ে করে আমার খুব বড় একটা ভুল হয়ে গেছে। আমার কী করার আছে আপু?

পরামর্শ:

আপু, আপনার স্বামীর বড় ভাবীর বয়স কত এবং আপনার ভাসুর বেঁচে আছেন কী নেই, বা এইসবে তাঁর ভূমিকা কী সেটা উল্লেখ করেন নি। করলে আমার বুঝতে সুবিধা হতো। আমি কোন নোংরা সন্দেহ করতে চাই না, কিন্তু আপনার স্বামী ও উক্ত বড় ভাবীর কিছু আচরণ আমার খুবই অস্বাভাবিক লাগছে। যেমন, সংসারে এইসব খুঁটিনাটি লেগেই থাকে। কিন্তু ভাবীকে নিয়ে কথা বলায় আপনার গায়ে কেন হাত তুলবেন স্বামী? তাছাড়া ভাবী আপনাকে মারার পরও তিনি চুপ করে আছেন, এটা তো খুবই অবাক করার মত ঘটনা। ভাবীকে যতই সম্মান করুক বা ভালবাসুক না কেন, এই একবিংশ শতাব্দীতে স্ত্রীর গায়ে ভাবী হাত তুলবে আর কোন স্বামী চুপ করে থাকবে, সেটা রীতিমত বিস্মিত হবার মত ব্যাপার। বিশেষ করে স্বামী যেখানে বিদেশে বড় হয়েছেন!

আরও অবাক করা বিষয় হচ্ছে বিনা কারণে ভাবীর আক্রোশ। এটি যে আপনার গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করেন না তিনি। আমার অন্তত মনে হচ্ছে যে তাঁর আক্রোশ এখানেই যে আপনি তাঁর দেবরের স্ত্রী! আরও কোন কারণ তো আপনি দেখতে পাচ্ছি না। আর ভাবী যদি নিঃসন্তান হয়ে থাকে, তাহলে আপনার সন্তান আছে সেটাও তাঁর রাগের কারণ হতে পারে।

এসবে আপনার শাশুড়ির তেমন কোন ভূমিকা নেই বলেই মনে হচ্ছে। চিঠি পড়ে বুঝতে পারছি যে আপনার একাধিক সন্তান। চুপ করে থাকা অনেক হয়েছে, ব্যাপারটি এখন নারী নির্যাতনের পর্যায়ে চলে গেছে। আপনি অবিলম্বে আপনার পরিবারকে সব জানান। ভাবী যে আপনার গায়ে হাত তুলেছে সেটাও গোপন করবেন না। সবকিছু খুলে বলুন এবং জানান যে আপনি আর পারছেন না। আপনি এর মীমাংসা চান, এমন অসুস্থ একটা পরিবেশে নিজের সন্তানদের মানুষ করতে চান না আপনি। নিজের পরিবারকে দিয়ে চাপ প্রয়োগ করান, যেভাবেই হোক এই সংসার থেকে আলাদা হয়ে যেতেই হবে আপনাকে আপু। আপনাকে যতই অবহেলা করুক, সন্তানদের হারানোর ভয় পেলে আর সামাজিক-পারিবারিক চাপে পড়লে আপনার স্বামী আলাদা হয়ে যেতেও পারে। তাছাড়া আপু, যে কোন দেশেই পারিবারিক নির্যাতনের আইন খুব শক্ত। ভাবী আবারও বেশী বাড়াবাড়ি করলে, আপনার গায়ে হাত তুললে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতেই হবে। হয়তো সেটাই হবে আপনার সেই মহিলার হাত থেকে মুক্তি পাবার সুযোগ। যত যাই হোক, চুপচাপ সহ্য করবেন না। চুপচাপ সহ্য করে কারো কাছেই তো ভালো হতে পারলেন না। অন্তত আপনার বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যতের কথা ভেবে হলেও আপু প্রতিবাদ করুন।

আরেকটা কথা আপু, সম্ভব হলে সেই দেশে লেখাপড়া করার ব্যবস্থা করুন ও সম্ভব হলে বাইরে কাজ করুন। এতে খানিকটা হলেও সাময়িক স্বস্তি পাবেন। যদিও জানিনা বাচ্চাদের রেখে এটা করা সম্ভব হবে কিনা আপনার পক্ষে। আরেকটা কথা, স্বামীর সাথে কোন রকম ঝগড়াঝাঁটি বা চেঁচামেচির মাঝে যাবেন না। যা করবেন চুপচাপ। আর স্বামী যদি গায়ে হাত তোলে, আমার মনে হয় তাঁর বিরুদ্ধেও পুলিশে কমপ্লেইন করা উচিত। যে স্বামী গায়ে হাত তোলে, সে আর যাই হোক আপনাকে ভালোবাসে না। পরিবারকে অতি অবশ্যই এই সবকিছুই খুলে বলবেন। একটাই জীবন আপু, এভাবে মরে মরে মার খেয়ে বেঁচে থাকার মানে নেই। আমার মনে হয় ভাবীর কবল থেকে দূরে সরে যেতে পারলে আস্তে আস্তে আপনার স্বামীর মাঝেও পরিবর্তন আসবে। তাই সবার আগে সেই চেষ্টাই করুন।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top